পানি উন্নয়ন বোর্ডে ও এলজিইডির দুর্নীতির নর্দন কুর্দনে ক্লান্ত জনগণ : দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে উদ্ধার পাওয়ার ‘স্পেসটা কোথায়?’ ৩য় পর্ব


গত পর্বে শিক্ষকদের দুর্নীতির কথা বলছিলাম। খুবই সামান্য বলেছি। ভবিষ্যতে এবিষয়ে আরো বলব। আজকের দৈনিক পত্রিকাগুলো পড়তে গিয়ে মনে হলো শিক্ষকদের দুর্নীতি নিয়ে বলার আগে পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত বিষয়গুলোতে একটু ঘুরে আসা যাক।

এই পর্ব থেকে মূল শিরোণাম দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে উদ্ধার পাওয়ার ‘স্পেসটা কোথায়?’ এর পাশাপাশি প্রতিটি পর্বের জন্য পৃথক শিরোণাম দেব। যেমন এই পর্বের শিরোণাম দিলাম- পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির দুর্নীতির নর্দন কুর্দনে ক্লান্ত জনগণ।

আট.

দুর্নীতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাংলাদেশে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষিত ও মেধাবী প্রকৌশলীদের একাংশ প্রমাণ করে চলেছেন যে, তারা দুর্নীতির ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে কম মেধাবী নন। তাদের অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ঘটনা হরহামেশা শোনা যায়। আজকের দৈনিক ইত্তেফাকে ছাপা হওয়া সংবাদে জানা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২০ বছর পূর্বে আমড়াগাছিয়া ও সাপলেজা ইউনিয়নের কাচারিবাড়ি সংযোগ খানে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্তু খালের উপর স্লুইসগেট নির্মাণ না করায় দুই ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ গত ২০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছে। অবশেষে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আগমণে দু’দিনের প্রবল বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে েএলাকাবাসী সেই বাঁধ কেটে দিতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি ঘটে। সেই সূত্রে মারামারি। এবং ঘটনাটি পত্রিকার পাতায় উঠে আসা।স্থানীয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, তারা জলাবদ্ধতার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আগেই জনগণ বাঁধ কেটে দিয়েছে।

প্রশাসনের এই বক্তব্যটি এদেশে সার্বজনীন একটি বক্তব্য। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, জনগণকে নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার গোড়ার কারণটি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা।

নয়.

বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনার নিচেই ইত্তেফাকে আরেকটি খবর ছাপা হয়েছে। সেটাও পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই খবর। সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি এবং দেবহাটা উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় ওই এলাকার মানুষজনের জীবনে শঙ্কা আর ভয় কাজ করছে। বিষয়টি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে জানে সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন যে, কমপক্ষে ৩০টি স্থানে বেড়ি বাঁধে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার করা যাচ্ছে না।

ফলে যেখানে বাঁধের দরকার নেই সেখানে বাঁধ দিয়ে অর্থের অপচয় এবং যেখানে বাঁধের দরকার সেখানে বাঁধ দেওয়া কিংবা সংস্কারের জন্য অর্থ না থাকা, এই হলো গিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিত্র। েএই চিত্র দেশজুড়ে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো ঘটনা ঘটলে বেড়ি বাঁধ সংক্রান্ত খবরগুলো পত্র পত্রিকায় একটু জায়গা পায় আর কি।

দশ.

যেখানে বাঁধের দরকার নেই সেখানে বাঁধ কেন দেওয়া হচ্ছে সেই কারণ খুঁজতে গেলে সহজেই জানা যাবে এলাকার প্রভাবশালী কারো তদবিরে কিংবা স্থানীয় দপ্তর ও প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারদের অর্থ পাইয়ে দিতেই এই ধরনের বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। অবৈধ পথে অর্থের হাত বদলের সুযোগ তৈরির জন্য দেশজুড়ে প্রকল্প নির্মাণের এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের একার নয়। এলজিইডি-র মতো দপ্তরের কৃতিত্ব আরো অনেক বেশি। মূলত, বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ কর্মকান্ড ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী ও চ্যালাচামুন্ডাদের আয়ের বড় উৎস। যেকারণে বাংলাদেশে নির্মাণ কর্মকাণ্ডে জনগণের চাহিদা তেমনভাবে বিবেচনায় রাখা হয় না। এমনকি কারিগরি দিকগুলো পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়।

চলবে……………..

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s