বুড়োদের রাজনীতি শেষ হবে কবে?


সূত্র: ইন্টারনেট

সূত্র: ইন্টারনেট

আজকে বাংলাদেশে যতোটুকু উন্নয়ন ঘটেছে সেটা এই দেশের মানুষের পরিশ্রমের ফসল। আর যতোটুকু উন্নয়ন ঘটতে পারেনি সেটা ভেজাল দেওয়া বুড়ো রাজনীতিবিদদের কারণেই পারেনি। ভেজালযুক্ত বুড়ো রাজনীতিবিদদের সমস্যা হলো তারা কাজের চেয়ে ঝগড়া ঝাটি বেশি করে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা কম। তাদের মধ্যে মিলমিশ কম। তাদের মধ্যে ইগো প্রবলেম বেশি। সবচেয়ে বড় কথা তাদের কাছে জনগণের চাহিদার কোন মূল্য নেই।

ড. কামাল হোসেন যখন সংবিধান লেখেন তখন তার বয়স ৩২ বছর। সেই কামাল হোসেন এখনো রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি নিজে ৩২ বছর বয়সে সংবিধান লেখার মতো গুরু দায়িত্ব পালন করলেও তার নিজের দলে ওই বয়সী নেতা কয়জন আছে? তিনি এই বুড়ো বয়সে দলের প্রধান।

বঙ্গবন্ধুর খেতাব দিয়েছিলেন যে তোফায়েল আহমেদ তিনি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও আওয়ামী লীগের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তার বয়স কতো হলো? ১৯৭১ সালে ২৫ বছর হলে এখন ৬৯ বছর। তোফায়েল একা নন, তার সঙ্গে অনেকেই আছে। জিল্লুর, সামাদ আজাদ, মোশতাক প্রমুখ মারা গেলেও আমু, মওদুদ এরা এখনো বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ আকড়ে ধরে আছেন। মোটামুটিভাবে বলা যায় হাসিনা ও খালেদা বাদে বাংলাদেশের রাজনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের প্রায় সত্তর ভাগ নেতা একাত্তর সালেই নেতা ছিলেন। হাসিনা ও খালেদা নেতা হয়েছেন ৮০ এর দশকে। তবে তাদের বয়সও সত্তর ছুই ছুই।

১৯৭১ সালে ডানে বামে সামনে পেছনে উপরে নিচে প্রায় সব রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন তরুণ ও যুব বয়সী। শেখ মুজিবের কতো বয়স ছিল স্বাধীনতার সময়কালে? মাত্র ৫১ বছর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় কোন দলটি আছে যার নেতৃত্বে ৫১ বছর বয়সী কেউ আছেন?

১৯৭১ সালে দেশের লোক সংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের আয়তন যা ছিল এখনো তাই আছে। কিন্তু এই সময়ে দেশের লোকসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবাদী জমি কমেছে। নদ-নদী দখল হয়েছে। মানুষের চাহিদা বেড়েছে। একাত্তর সালে বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধ ছিল। এখন সেটা নেই। সবমিলিয়ে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি একটিমাত্র জায়গায় সেটা হলো বাংলাদেশের রাজনীতির নেত্বত্ব। এখনো ১৯৭১ সালের নেতারাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রত্যেকটা মানুষের দেয়ার একটা সামর্থ্য থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তোফায়েল, আমু, নাসিমদের যা দেওয়ার সেটা তারা দিয়ে ফেলেছেন। এখন তাদের কাছ থেকে উচ্চমানের রাজনীতি আসা করা যায় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে রাজনীতিতে যে গুণগত পরিবর্তন দরকার ছিল সেই পরিবর্তনটি ঘটেনি কিংবা ঘটতে পারেনি বুড়ো রাজনীতিকদের জন্য। এরা নতুন কিছু ভাবতে পারে না। এরা আধুনিক হতে পারে না তাদের ইগো সমস্যা থাকায়। রাজনীতিতে তাদের পদচারণায় ব্যক্তিগতভাবে তারা উপকৃত হলেও দুর্ভোগে পড়েছে দেশ। আমি এদেরকে বলি ফরমালিন দেওয়া রাজনীতিবিদ।

আমরা ফলমূলের ফরমালিন মুক্ত করার জন্য ভিনেগার মেশানো পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখি। ফরমালিন দেওয়া রাজনীতিবিদদের থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য জনগণ কি করবে? তারা কি নিজেরা এক ঘণ্টা পানিতে ভিজবে নাকি ফরমালিন দেওয়া রাজনীতিবিদদের এক ঘণ্টা ধরে পানিতে ডুবাবে? একটা সমাধান দরকার।

আজকে বাংলাদেশে যতোটুকু উন্নয়ন ঘটেছে সেটা এই দেশের মানুষের পরিশ্রমের ফসল। আর যতোটুকু উন্নয়ন ঘটতে পারেনি সেটা ভেজাল রাজনীতিবিদদের কারণেই পারেনি। বুড়ো রাজনীতিবিদদের সমস্যা হলো তারা কাজের চেয়ে ঝগড়া ঝাটি বেশি করে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা কম। তাদের মধ্যে মিলমিশ কম। তাদের মধ্যে ইগো প্রবলেম বেশি। সবচেয়ে বড় কথা তাদের কাছে জনগণের চাহিদার কোন মূল্য নেই।

সংশোধন- ১৮ মার্চ, ২১০৫
পল্লবী।। ঢাকা।।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s