সরকারি চাকরিতে ঘুষ অপরাধ নয়


এক.
আশির দশকের মাঝামাঝি। এসি লাগানো দোকানে তখন ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ কথাটা লেখা থাকতো। বাসাবাড়িতে সেসময়ে এসি লাগানোর ঘটনা বিশেষ একটি শ্রেণীর মধ্যেই সীমিত। ওই সময়ে পশ্চিম রাজাবাজারের এক বাসায় স্প্লিট এসি লাগানো হলো। স্বভাবতই বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজর কেড়ে নিল। এক কান দুই কান হয়ে কথাটা অনেকের কাছে পৌঁছে গেলো। সবাই জানল যে, কাস্টমসের চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তিন ব্লেডের ফ্যানের বাসিন্দা ভদ্রমহিলা তার ঘর ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ করেছেন। কারণ সরকারি চাকরির উত্তাপ তিনি আর বাসায় সহ্য করতে পারছেন না। ঘর ঠাণ্ডা হওয়া চাই।

দুই.
এক সংসদ সদস্যের কথা জানি, যিনি সংসদ সদস্য হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তার টিনের ঘর দোতলা পাকা দালান হয়েছিল। সেটাও আশির দশকের কথা। যে দেশের আইন প্রণেতা অবৈধ সুযোগ নেয় সেই দেশের কাস্টমস কর্মকর্তা ঘরে এসি না লাগানোটাই তো বিষ্ময়ের তাই না।

তিন.
সত্য মিথ্যা জানি না, শুনেছি এক সাবেক বিচারপতির ঢাকা শহরে আট দশটা বাড়ি আছে। এর কোনটিই নাকি একতলা নয়। তিনিও আশির দশকে বিচারপতি ছিলেন। অন্যের সম্পদ নিয়ে লোকজন গল্প করতে ভালোবাসে।

চার.
আশির দশকের রাষ্ট্রপতি এরশাদের নাকি সৌদি আরবে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। এটাও গুজব কিনা জানি না।

পাঁচ.
এরশাদ ও সাবেক বিচারপতির ঘটনাগুলো গুজব হলেও হতে পারে। কিন্তু প্রথম দু’টো ঘটনা তো গুজব হওয়ার জো নেই। কারণ ওই দু’টো ঘটনা আমিও দেখেছি।

ছয়.
যাই হোক, যে দেশে রাষ্ট্রপতি দুর্নীতিবাজ, বিচারপতিকে নিয়ে গুজব থাকে, সংসদ সদস্য দুর্নীতিগ্রস্ত সেই দেশে একজন সামান্য সরকারি কর্মচারি ঘুষ খেলে সেটা কি অপরাধ হবে নাকি হবে না সেনিয়ে বিতর্ক করা যেতেই পারে।

সাত.
কাকতালীয়ভাবে এখানে যে ঘটনাগুলো বলা হলো সবটাই আশির দশকের। লিখতে বসে এগুলোই প্রথমে মনে পড়ল। তারমানে কি নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশ ঘুষমুক্ত হয়েছে। যেহেতু স্বৈরাচার এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে দেশে গণতন্ত্রের প্রবর্তন ঘটেছে সেহেতু ভাবা যেতেই পারে জনগণের সরকারের আগমণে বাংলাদেশ থেকে ঘুষ নামের ‍দুষ্টক্ষতের বিদায় ঘটেছে। আসলে কি হয়েছে সেটা নিয়ে আগামী কিস্তিতে লিখব। পড়ার আমন্ত্রণ রইল।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s