আপনার বয়স ২৫ হলে এখনই প্রস্তুতি নিন


কিছুদিন আগে ঢাকার শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। গত সপ্তাহে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা শাহবাগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে একত্রিত হয়েছিল। দুই ক্ষেত্রেই ২৫ ও আশপাশের বয়সীরা ছিল নেতৃত্বে। আমরা যদি ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ আন্দোলন কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে তাকাই তাহলেও দেখব যে আন্দোলনের সামনে ছিল ২৫ ও আশপাশের বয়সীরা। অত্যন্ত সুখের বিষয় হলো ২৫ বছর বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের দেশের মূল চালিকা শক্তি সংসদ সদস্যদের ন্যূনতম বয়সও নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশের ২৫ বছর বয়সীরা কেরানির চাকরির জন্য যতোটা উদগ্রীব সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নয়। যেকারণে, আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো বয়সের ভারে ন্বূজ লোকেরা দেশ চালায়। ফলাফল হলো, বিভিন্ন দাবীতে শাহবাগে জমায়েত হতে হয় ২৫ বছর বয়সীদের যাদের থাকার কথা সংসদে। তারা যদি সংসদে থাকত তাহলে দাবী দাওয়া নিয়ে শাহবাগে জমায়েত হতে হতো না।

দেশের এখন যে অবস্থা সেটা বস্তাপচা চিন্তাভাবনার ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদে আছে বলেই। এরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ ভাবার সময় পায় না। পারমিট আর লাইসেন্স পাওয়ার ধান্ধা করতে করতে এদের দিন পার হয়। তাদেরই বা কি দোষ। একেকজন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এমপি হয়েছে পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য। অর্থাৎ যতো খরচ হয়েছে তার কয়েকগুণ তুলে নিতে। সেটা তারা খুব ভালোভাবে করতেও পারছে। এঁরা সংসদ নির্বাচনকে গত ২০ বছরে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটা এমন এক ব্যবসা যেখানে বিনিয়োগ করলে লাভ নিশ্চিত। সেটা সরকারি দলে থেকেও কিংবা বিরোধী দলে থেকেও।

জনগণ এখন শুধু ভোট দেওয়ার মালিক। কিংবা সুফল ভোগের মালিক নয়। দেশের মালিক নয়। দেশের মালিক সংসদ সদস্য এবং তাদের চামচারা।

এই যখন অবস্থা তখন মুহিত সাহেবের মতো বুড়ো মানুষদের দিয়ে তো আর সত্যিকারের জনগণমুখি পরিবর্তন আশা করা যায় না। ইতিহাস বলে, শেখ মুজিবুর রহমান, নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা চে গুয়েভারা সবাই যা কিছু করেছেন তরুণ বয়সেই করেছেন। নাসের, টিটো কিংবা জিয়াউর রহমানও তরুণ বয়সেই দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মাহাথির মোহাম্মদ, লী কুয়ান কিংবা খোমেনি বৃদ্ধ বয়সে নয় শরীর ও মনে শক্তি থাকতেই দায়িত্ব পালন করেছেন। হিটলার যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছিল সেটাও বুড়িয়ে যাওয়ার আগেই। বখতিয়ার খিলজি মাত্র ১৭ জন সেনা নিয়ে যে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন সেটাও তরুণ বয়সেই।

তারুণ্যের কোন বিকল্প নেই। দেশ আজ তরুণদের হাতে নিজেকে সপে দিতে প্রস্তুত। তরুণরা প্রস্তুত কী?

বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশের মানুষেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। কিন্তু পরিশ্রম করার সঠিক ক্ষেত্র না পাওয়ায় তারা বেশিরভাগ অলস সময় কাটায়। তরুণ বয়সীরা বিদেশে যাবে বলে জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করে। আরেকদল চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করে। সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় এভাবেই তরুণদের শ্রম ঘণ্টা অব্যবহৃত থেকে যায়। এদিকে, দেশের লাখ লাখ পুকুর মাছ চাষের উপযোগী হওয়ার পরও সেখানে মাছ চাষ হয় না। অনাবাদী জমি পড়ে থাকে। ভোকেশনাল ট্রেনিং নিয়ে আধা দক্ষ ও দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তরুণদের কাছে সেই তথ্য পৌঁছায় না। গরু পালন, ঘাস চাষ, মাছ চাষ, ইত্যাদির মাধ্যমে দেশে কয়েক কোটি তরুণের যেমন কর্মসংস্থান হতে পারে তেমনি পুষ্টি সমস্যার সমাধান সম্ভব। এদেশের প্রতিটি উপজেলা ছবির মতো সুন্দর করে সাজানো সম্ভব যদি তরুণদের কর্মশক্তিকে কাজে লাগানো যায়। দেশে অন্তত হাজার খানেক সিনেমা হল এবং সিনেমা কেন্দ্রিক কর্মসংস্থান যেমন করা যায় তেমনি পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে কয়েক লাখ তরুণের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া যায়। ঢাকামুখি মানুষের বিপুল ঢল থামানোর কাজটিও তরুণরাই করতে পারে। আজকে বুড়ো শিল্পপতিরা যেভাবে দেশের নদীর পানি বিষাক্ত করে তুলেছে সেটাও থামাতে পারে দেশপ্রেমিক তরুণরাই।

লোভী মানুষের এক চক্র ঝেকে বসেছে ইউনিয়ন থেকে সংসদ পর্যন্ত। এই অবস্থায় সৎ, যোগ্য ও মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। ইউনিয়ন থেকে সংসদ পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে এই দেশ তাদের। এই দেশ গড়ার দায়িত্বও তাদের।

(আগামী কিস্তি পড়ার আমন্ত্রণ)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s