ঝাপসা স্মৃতিতে গোলাম মাওলা রণি


এক.
বছর তিনেক আগের কথা। ধানমন্ডির এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ভিএইচএসএস এর সাবেক সহকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল। এখন কে কোথায় কাজ করছে সেটা নিয়েও আলাপ হচ্ছে। আমাদের এক ড্রাইভার ভাই বললেন যে, তিনি এখন গোলাম মাওলা রণির গাড়ি চালান। ততোদিনে গোলাম মাওলা রণি বেশ বিতর্কিত তার এলাকার নদী দখল করাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে তিনি ক্ষমতার দাপটে গলাচিপার পুরনো রাজনীতিকদের পাত্তাই দিচ্ছেন না। সাংবাদিকদের উপর তার ক্যাডাররা যখন তখন চড়াও হচ্ছে। ফলে তার সম্পর্কে ফার্স্ট হ্যান্ড তথ্য পাওয়ার এই সুযোগটাকে আমি কাজে লাগাতে চাইলাম। খাওয়া দাওয়া শেষে বিদায় নেওয়ার মুহুর্তে আমি সেই ড্রাইভার ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম, মি. রণি সম্পর্কে যা শোনা যায় সেগুলো কি আসলেই সত্যি?

তিনি (ড্রাইভার) বললেন, রণি সাহেবের টাকার কোন অভাব নেই। তার কতো টাকা আছে সেটা সে নিজেও জানে না। সে কেন এই সব দখলদারি করতে যাবে?

‘কেন যাবে সেটা তো আমি বলতে পারব না। হতে পারে না সে আরো টাকা চায়।’

তিনি কোনমতেই আমার কথা মানতে রাজী হলেন না। বরং তিনি ফিরিস্তি দিলেন রণি সাহেবের কতো গাড়ি কতো টাকা কতো ব্যবসা সেসবের।

দুই.
আমার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলায়। গলাচিপা আমার পার্শ্ববর্তী উপজেলা। আমি এলাকা থেকে দুই ধরনের খবর পেলাম। একদল বলল, পত্রিকায় যা ছাপা হয়েছে সেটা সত্যি। অন্যদল বলল, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা নাখোশ হওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে।

তিন.
একসময় হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম মি. রণি টেলিভিশনের টক শো আলোচক। খুব সম্ভবত আমি প্রথমে তার যে অনুষ্ঠানটি দেখলাম, সেখানে তিনি মি আবুল হোসেনের যোগাযোগ মন্ত্রী হওয়ার সেই বিখ্যাত গল্পটি বলেছেন। তারা চীনে গিয়েছিলেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৌড় দিতে বলায় আবুল হোসেন একাই দৌড়ে প্রথম হয়েছিলেন।

চার.
অল্প কিছুদিনের মধ্যে মি. রণি টেলিভিশন টক শো আলোচক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তার খোলামেলা কথাবার্তার জন্য। তিনি দাবী করতে থাকেন তিনি একজন স্বাধীন মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হট কানেকশন। এদিকে, আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখার তিনি একজন সক্রিয় সদস্য, যাকে প্রধানমন্ত্রী আদর করে আতেল ডাকেন বলেও পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

মনে পড়ে একবার তিনি কোন এক টক শো-তে বলেছিলেন যে, অন্যরা এমপি হয়ে টাকা কামাই করে আর তিনি টাকা কামাই করে তবে এমপি হয়েছেন।

পাঁচ.
এই মানুষটিই সম্প্রতি এক লেখাতে লিখেছেন যে, সরকারি দলের লোকেরা তদবির করে বিদেশ সফরে যায়। এমপি কোটায় বাড়ি বাগায়। তিনি যেহেতু সেটা করতে পারেননি তাই তার কপালে কিছুই জোটেনি।

ছয়.
আবার এই মানুষটিই অন্য এক লেখায় রসিয়ে রসিয়ে তার সুইডেন সফরের বর্ণনা দিয়েছেন।

সাত.
মি. গোলাম মাওলা রণি আবারো আলোচনায় ফিরে এসেছেন। এবার ঢাকায় তার উপস্থিতিতে সাংবাদিক পেটানো হয়েছে।

আট.
মি. গোলাম মাওলা রণি আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের সীমাহীন দুর্নীতির মধ্যে নিজেকে দুধে ধোওয়া তুলসি পাতা হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন সবসময় যদিও তার ইমেজ সেরকম নয় অনেকের কাছে। তারপরও তার চেষ্টার কমতি ছিলো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি দলের ইমেজের বাইরে যেতে পারেননি বলেই সবাই মনে করছেন। এখন দেখার বিষয় মি. রণি গোবর আর বাকিরা দুধ নাকি উল্টোটা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s