দিপুমনি অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিলেন সাংবাদিকরা কতো বড় স্টুপিড!


দেশের কতিপয় সাংবাদিকের অঙ্ক জ্ঞানের দুর্বলতা সুস্পষ্ট করেছেন মিজ দিপুমনি। সেসঙ্গে তিনি নিজের সাফল্য তুলে ধরলেন মাত্র এক লাইনে- ‘সাফল্য থাকলেই তোপের মুখে পড়তে হয়।’ তিনি সাম্প্রতিককালে পত্র পত্রিকায় তার বিদেশ সফর নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টগুলোকে অসত্য, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন।

মিজ দিপুমনির বিদেশ সফর একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড – এমন তথ্য ইদানীংকালে পত্রিকার পাশাপাশি ফেসবুক ও সামাজিক মিডিয়াতে প্রকাশিত হচ্ছিল। সেসব রিপোর্টে দাবী করা হচ্ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিজ দিপুমনি প্রায় ৬০০ দিন বিদেশ সফরে কাটিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মিজ দিপুমনি জানিয়েছেন সংখ্যাটি ভুল। প্রকৃতপক্ষে তিনি মাত্র ৫১৭ দিন বিদেশে ছিলেন। যার মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সময় ভ্রমণে আকাশে কিংবা ট্রানজিট লাউঞ্জে কাটাতে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন বাংলাদেশের মতো গরিব দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জন্য পৃথক বিমান না থাকায় তাদেরকে বাণিজ্যিক বিমানেও যাতায়াত করতে হয়। তার বিদেশ ভ্রমণ দিনের সংখ্যা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে বেশি হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের জেট বিমানে ঘুরে বেড়ায়। তেমন কোন জেট বিমান বাংলাদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।

নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র নীতি:

ক. বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতির আলোকে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা হবে। ভারত, নেপাল ও ভূটান ও মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রেখে বহুমুখী সহযোগিতা জোরদার করা হবে। সার্ক, বিমসটেক ও ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা হবে।

খ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হবে। রাশিয়া, চীন এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা হবে। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার সঙ্গে অধিকতর যোগাযোগ ও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে।

গ. সৌদি আরব, মিশর, প্যালেস্টাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ এবং তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার করা হবে। মুসলিম উম্মাহর সংহতি এবং ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) কাঠামোয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও সহযোগিতা জোরদার করা হবে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক স্থাপনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘ. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

ঙ. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং উজ্জ্বল করা হবে।

পত্র পত্রিকায় তার মোট সফর সংখ্যা ১৮৭ উল্লেখ করাকে মিজ দিপুমনি মিথ্যা উল্লেখ করে বলেন প্রকৃত সংখ্যাটি হবে ১১৪; তবে একথা ঠিক যে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে এক সফরে ১ থেকে ৩টি দেশ সফর করেছেন সেই সংখ্যাকে ধরলে সংখ্যাটি ১৮৭ হবে। অন্যদিকে, পত্রিকায় তার দ্বিপক্ষীয় সফরের সংখ্যা কমানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রকৃত সংখ্যা হবে ৬২টি।

পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে, এই মাসের ১ তারিখে মিজ দিপুমনি আসিয়ানের আঞ্চলিক ফোরামের মিটিংয়ে যোগ দিতে ব্রুণাই যান। সেখান থেকে ৩ জুলাই দেশে ফিরে তিনি ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লন্ডন যান। লন্ডনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন তার ভাগ্নির বিয়েতে যোগদান ছাড়াও আরো কিছু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার জন্য। লন্ডন থেকে মিজ দিপুমনি জেনেভায় যান ৮ জুলাইয়ে তৈরি পোশাক খাতের বিষয়াদি নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আয়োজিত সভায় অংশ নিতে। পত্রিকাগুলোতে সমালোচনা করে খবর ছাপা হয়েছে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওই মিটিংয়ে মিজ দিপুমনি একমাত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জেনেভা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলারুশে যান লন্ডন থেকে বেলারুশে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই ১০ জুলাই দেশে ফিরে আসেন। দশ দিনের সফরে তিনি মোট ২৩,৩২০ কিলোমিটার বিমান ভ্রমণ করেন। আগামী ২৫ তারিখে তিনি নয়াদিল্লী যাচ্ছেন তিন দিনের জন্য। পত্রিকাগুলোতে বলা হয় জুন মাসেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত ছিলেন। যেমন, জুনের ১ তারিখে তিনি সিঙ্গাপুরে যান। এরপর তিনি যান আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে। সেখান থেকে তিনি যান নিউইয়র্কে। সংবাদ সম্মেলনে মিজ দিপুমনি জানান যে, জাতিসংঘের সভায় যোগ দিতে তাকে প্রতিবার বাংলাদেশ থেকে যেতে হলেও আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যেতে হয়নি কারণ জাতিসংঘের মিটিংগুলো তার দেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুন মাসে তিনি কুয়েত ও সৌদি আরব সফর করেন। এছাড়াও ফ্রান্সও সফর করেন। মে মাসে অবশ্য তিনি শুধুমাত্র সৌদিআরব, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন।

দেড় ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে তিনি পত্র পত্রিকার মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান যে, তার প্রতিটি সফর প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি দেশের প্রয়োজনেই এই ধরনের সফরের অনুমোদন দিয়েছেন।

সাংবাদিকরা বিদেশ সফর থেকে দেশের জন্য কি ধরনের অর্জন ঘটেছে তা জানার জন্য সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন। যেমন তারা জানতে চান, জিএসপি বাতিল প্রসঙ্গ। এ ব্যাপারে রানা প্লাজা ধস ও ড. ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের ড. ইউনূসের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারই চুক্তি করতে চায় কিন্তু ভারতের আভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা থাকায় চুক্তি আগাচ্ছে না।

মিজ দিপুমনি সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, তার মন্ত্রণালয়ের সাড়ে চার বছরের অর্জন নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান যে, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৬৬০ দিন যার মধ্যে তিনি মাত্র ৩১ শতাংশ দিন বিদেশ ভ্রমণ ও সফরে ছিলেন। সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

আমরা আশা করতে পারি দেশের সম্মানিত নাগরিকদের দায়িত্ব পালন নিয়ে ভবিষ্যতে রিপোর্ট প্রকাশ করার সময় সাংবাদিকরা আরো দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং তারা শুধু সংখ্যাগত দিক না দেখে গুণগত দিকগুলোও দেখবেন। সেসঙ্গে তারা মিজ দিপুমনির ৫১৭ দিনের বিদেশ ভ্রমণ ও সফর থেকে দেশ ও দেশের মানুষ কি পেলো সে বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s