অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে জয় তারেকের রাজনীতি


গতকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখের নাতির অভিষেক হলো। যারা পুরনো দিনের মানুষ তারা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে শেখ সাহেব বলতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শেখ সাহেবের মেয়ে জামাই বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। তারই সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয়। থাকেন আমেরিকায়। আমেরিকান নাগরিক। চাকরিবাকরিও করেন সেখানেই। লেখাপড়া করেছেন তথ্য প্রযুক্তিতে। বিয়েও করেছেন আমেরিকাতেই। আমেরিকাতে থাকলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে গত সাড়ে চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিগত চারবছরে বিদেশে অনেক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছেন। সরকারের জন্য কূটনীতি করেছেন।

কয়েকমাস আগে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এতোদিন পরোক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও গতকাল তিনি প্রকাশ্য রাজনীতিতে এলেন। শুরুতেই জয় বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করেছেন। মঞ্চে তখন উপবিষ্ট তার মা শেখ হাসিনা। শেখ সাহেবের বেটি। তার অন্য দু’টি পরিচয় হলো- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তার আরেকটি পরিচয় হলো তিনি পীরগঞ্জের বউ। কারণ তিনি ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী। আজকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত নানাবাড়ি গোপালগঞ্জে নয়, রংপুরে দাদা বাড়িতে জয়ের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলো। বাংলাদেশে বাবার পরিচয়েই মানুষ যে পরিচিত হতে চায় সেই ঐতিহ্য রক্ষা করলেন জয়। মায়ের পরিচয়ে নয় বাবার পরিচয়ে তিনি পরিচিত হলেন। তিনি বললেন যে, উত্তরবঙ্গ তার সবসময় মনে থাকে। এমনকি তিনি যখন আমেরিকায় থাকেন তার মন পড়ে থাকে উত্তরবঙ্গে। উত্তরবঙ্গের জন্য তিনি অনেক কিছু করতে চান। এদিকে, উত্তরবঙ্গ এরশাদের জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। অনেকেই বলাবলি করছেন, জয় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীরগঞ্জ থেকে প্রার্থী হবেন।

চ্যানেল আইয়ের খবরে দেখলাম সদ্য রাজনীতিতে প্রকাশ্যে যোগ দেওয়া শেখের নাতি জয় অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মতোই আঙ্গুল তুলে জনসভায় নিজের মতামত তুলে ধরছেন। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত মহাজোটের জন্য ভোট চেয়েছেন। মহাজোটে এরশাদের জাতীয় পার্টিও আছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় না এসে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে উত্তরবঙ্গে আবারো মঙ্গা ফিরে আসবে। বিদ্যুৎ থাকবে না। তিনি উত্তরবঙ্গের জন্য তার মন পড়ে থাকার কথা বললেন। আবারো আসার কথা বললেন। তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পীরগঞ্জবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সাধারণত এমপি ইলেকশনের সময় এভাবে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ আছে। জয়কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তার স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ক্রিস্টিনাও মঞ্চে ছিলেন। এর আগে জয় স্ত্রী ক্রিস্টিনার হাত ধরে মঞ্চে উঠে আসেন।

জয়ের রাজনীতিতে আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে শেখ সাহেবের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আগমন হলো। অনেকেই ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রাচীণ দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে জয়কে দেখতে শুরু করেছেন। টেলিভিশনের টকশোগুলোতে সেকথাই বলছেন জ্ঞানীগুণীজনেরা। এটা সদ্য রাজনীতিতে যোগ দেওয়া জয়ের জন্য পুরস্কার না বোঝা সেটা বুঝতে আমাদেরকে আরো অপেক্ষা করতে হবে। সেসঙ্গে জয় আওয়ামী লীগের জন্য আর্শিবাদ কিনা সেটাও বোঝা যাবে পরবর্তীকালে। এই পর্যায়ে আমরা জয়ের প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতা তারেকের দিকটি একটু চোখ বোলাতে পারি।

তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক বীরোত্তম জিয়াউর রহমানের সন্তান। রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটেছে অনেক বছর আগে। ইতোমধ্যে তিনি জিয়া প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তার মা বেগম খালেদা জিয়া এই দলের প্রেসিডেন্ট। অনেকেই তাকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী ভাবেন। বাংলাদেশের বাঘা বাঘা রাজনীতিক ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের বিজয়ের মূল কারিগর ছিলেন তারেক রহমান। কেউ কেউ অবশ্য এই ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তারা মনে করেন, ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতাই বিএনপিকে বিপুল সংখ্যক ভোটে জয় পেতে সহায়তা করেছিল। যেভাবেই বিজয় আসুক না কেন, বিএনপিতে তারেকের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। কারো কারো মতে, বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। যদিও দলের মধ্যে তারেক ও খালেদা জিয়া দুই ধারায় বিভক্তির কথাও শোনা যায়।

রাজনীতিতে তারেকের আগমন অনেক বছর আগে হওয়ার কারণে তার ইমেজ বাংলাদেশে জয়ের ইমেজের মতো ক্লিন নয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০০১-০৬ সালের দেশ পরিচালনাকালে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে তারেক রহমান দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনও বলা হয় যে, দেশে বিক্রি হওয়া প্রতিটি ডিম থেকে চার আনা করে তিনি তুলে নিয়েছেন। কিভাবে সেটা তুলে নিয়েছেন সেই গল্পটাও আমি শুনেছি। কেউ শুনতে চাইলে বলতে পারি। বাজারে আরো প্রচলিত আছে যে, তিনি পাঁচ বছরে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কারো কারো মতে, টাকার অঙ্কটি আরো বেশি। অন্যদিকে, তারেকপন্থীরা দাবী করেন যে, তার দূরদর্শী রাজনীতিতে ভীত হয়ে তার উত্থান ঠেকাতেই তারেকের বিরুদ্ধে এমন ধরনের প্রচারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তারা আরো দাবী করেন যে, এই ধরনের প্রচারণার সুফল বিরোধীরা পেয়েছেন। তারা আরো বলে থাকেন যে, তারেকের আচরণে বিদেশী দূতাবাসগুলো সন্তুষ্ট না থাকায় তারেক বিরোধীরা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মতোই গ্রেফতার হন। আটক অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একসময় তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় যে, তিনি আর রাজনীতি করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে গিয়েছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়। তারেকের অনুপস্থিতিতেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে কেউ কেউ দাবী করেন। এদিকে, তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে সম্প্রতি জয়ের এই সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। একইদিনে, জয় বলেন যে, আওয়ামী লীগের আবারো ক্ষমতায় আসার তথ্য তার কাছে আছে। তার এই বক্তব্যটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। জয় তারেককে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন এমন মন্তব্য শোনা যায়। জয় তখনো রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন তেমনটা বোঝা যায়নি। অবশ্য কেউ কেউ তারেকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রচারণাকে তারেক ভীতি হিসেবে প্রচার করে। জয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা আগামী নির্বাচনে তারেকের নেতৃত্বে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীকালে জয়ের মা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ জয়ের দাবীকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন। একই ধরনের বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও তারেকের রাজনীতি নিয়ে খুবই উৎসুক। ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে রাজনীতি সচেতন সকলের ধারণা ছিল তারেক রহমান লুণ্ঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির উপর একটি শ্বেতপত্র আওয়ামী লীগ সরকার প্রকাশ করবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারেকের বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে শত কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাও হয়নি। কেন এমনটা হলো সেই কারণ বোঝাতে কেউ কেউ রাজনীতির উপর মহলের অলিখিত সমঝোতার কথা বলে থাকেন। তাদের যু্ক্তি হলো, আমেরিকান নাগরিক সজিব ওয়াজেদ জয় আমেরিকাতে যে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন সেটা তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ার পরও বিএনপি সেনিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না। বিএনপি জয়কে নিয়ে যেকারণে উচ্চবাচ্য করে না তাদের দাবী একই কারণে তারেকের ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি প্রকাশিত নয়। এভাবেই উপর মহলের আতাতের বিষয়টির একটা ব্যাখ্যা দিতে চায় কেউ কেউ। বলা হয় আওয়ামী লীগের গত সাড়ে চার বছরের শাসনামলে জয় কিভাবে বিপুল বিত্ত বৈভবের অধিকারী হয়েছে সেটি যাতে আলোচনায় না আসে সেকারণেই তারেকের ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের যুক্তির সত্যতা সাধারণের পক্ষে জানা কখনোই সম্ভব নয়। হবেও না। একমাত্র রাষ্ট্রের পক্ষে জনমনের কৌতুহল নিবারণ করা সম্ভব। যুক্তিবাদীরা তত্ত্বাবধায়কের আমলে পাশাপাশি কক্ষে আটক খালেদা ও হাসিনার পরস্পরের কুশল বিনিময় ও খাবার বিনিময়কে পর্যন্ত তাদের যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে হাজির করতে চান। আমার কাছে এসবের সত্যতা খুব বেশি মনে হয় না।

আমি সহজ যুক্তিতে বুঝতে চাই, তারেকের দুর্নীতিকে ছাড় দিলেই তারেক পরবর্তীতে জয়ের দুর্নীতিকে ছাড় দেবেন কেন? আর তারেক ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করে থাকলে আওয়ামী লীগ তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অন্যতম প্রধান নেতার সেই দুর্নীতির প্রমাণ কেন জনসম্মুখে হাজির করবেন না?

সম্প্রতি পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপির প্রার্থী দ্বারা ধরাশায়ী হয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছে; জয়কে রাজনীতিতে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে নতুন করে জনমনে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে সেই চেষ্টার অবশ্যাম্ভাবী একটি দিক তো তারেকের দুর্নীতির প্রমাণ জনসম্মুখে হাজির করা। সেটি না করার তো কোন যুক্তি থাকতে পারে না। একইভাবে শেখ হাসিনাকে কিছুটা হলেও ঘায়েল করার জন্য তার সন্তান জয়ের দুর্নীতিকে প্রমাণসহ ফলাও করে প্রচার করা থেকে কেন বিএনপি বিরত থাকবে কোন যুক্তিতে?

আমার কাছে মনে হয় এরশাদের সৌদি আরবে ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কিংবা তরুণ এমপি পার্থের বাবা নাজিউর রহমানের হাজার কোটি টাকা লোপাটের গল্পের মতোই তারেক জয়ের গল্পগুলো মানুষের মুখে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আর যদি তাই না হবে, সত্য প্রমাণের দায়িত্ব দলগুলোকে নিতে হবে। জনগণের সত্য জানার অধিকারকে তো অস্বীকার করা যায় না। আলোচনার এই পযায়ে, একটু জনগণের কথা বলা যাক।

আজকে যে বাংলাদেশকে আমরা দেখি সেই বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সেটা জনগণের চেষ্টার ফল। রাষ্ট্র যন্ত্র এই দেশের সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণে কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিপুলভাবে অকৃতকার্য হয়েছে। সর্বশেষ রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় আমরা দেখেছি রাষ্ট্র যন্ত্রের ব্যর্থতার গ্লানি যতোটা সম্ভব মুছে দিয়েছিল সাধারণ মানুষের চেষ্টা। মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে ঢাকাসহ শহর ও গ্রামে যতো ঘরবাড়ি হয়েছে সেগুলো রাষ্ট্র নয় ব্যক্তি উদ্যোগে হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষকে পথ চলার জন্য রাস্তা তৈরি করে নিরাপদে বাড়ি ফেরার মতো সামান্য সুবিধাটুকু রাষ্ট্র দিতে পারেনি।

আজকে ফরেন রেমিটেন্সের যে বিপুল প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে সেখানেও ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের ভূমিকাই মুখ্য। কোটি মানুষের বিদেশে গিয়ে রক্ত ঘাম ঝরানো অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে সহায়কের ভূমিকার পরিবর্তে প্রতিবন্ধক হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে যে সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে তা নিতান্তই অনুল্লেখযোগ্য অন্যদিকে দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও উদ্যতের কাহিনীগুলো প্রবাসী মানুষের মুখে মুখে ফেরে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী এই মানুষগুলো কিভাবে বিমানবন্দরে রাষ্ট্র যন্ত্র কর্তৃক নিগৃহীত হয় সেটা কারো অজানা নয়।

ব্যক্তি উদ্যোগে বাংলাদেশে কল কারখানা গড়ে উঠার বিষয়টি আজ কারো অজানা নয়। এই ধরনের কল কারখানা থেকে যেন দেশের পরিবেশ বিপদগ্রস্ত না হয় সেটা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি।

এভাবে সকল সেক্টরেই ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের সীমাহীন পরিশ্রমের গল্প সকলের জানা। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সীমাহীন ব্যর্থতার গল্পগুলোও কারো অজানা নয়।

সরকারি আমলা ও রাজনীতিবিদদের যে দুষ্ট চক্র বাংলাদেশের উন্নয়নকে গিলে খাচ্ছে সেই চক্র ভাঙ্গা এবং রাজনীতিকে কারেক্ট করাটাই এখন সবচেয়ে বেশি দরকার। সেই প্রেক্ষিতে জয় ও তারেক কতোটা সক্ষম?

দেশের উন্নয়ন ও দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার মতো কতোটা যোগ্যতা জয় কিংবা তারেকের আছে? বুদ্ধিজীবি ও তোষামোদকারীদের লিখে দেওয়া বক্তৃতা নাকি গণমানুষের সঙ্গে মিশে তাদের মনের কথা বুঝতে পারার রাজনীতি করার সামর্থ্য প্রকাশ করা, কোনটি জয় ও তারেকের রাজনীতি হবে? তারা কি এসি রুমে ঘুমিয়ে, এসি গাড়িতে চড়ে, এসির মধ্যে অফিস করে এই দেশের গরমকালের গরমের কথা ভুলে যাবেন নাকি মাঝে মাঝে তীব্র গরমে পাবলিক বাসে উঠে মতিঝিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করে মানুষের কষ্টকে উপলব্ধিতে নেবেন?

প্রশ্ন হলো তারেক ও জয় কি রাজনীতিকে কাজ হিসেবে নিয়ে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বেতন ভাতা গ্রহণ করবেন? নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশটাকে নিজের সম্পত্তি জ্ঞান করবেন? তারা কি দেশের ১৬ কোটি মানুষের মতামতকে পাত্তা দেবেন? নাকি তারা শুধুমাত্র গুটিকয় মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবেন? তারা কি দেশ পরিচালনার জন্য নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন? নাকি তোষামোদকারীদের কথায় আস্থা রাখবেন? তারা কি জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করবেন? নাকি সুবিধাবাদীদের দ্বারা চালিত হবেন? তারা কি গণমানুষের নেতা হবেন? তারা কি নিজেকে দেশের ও দেশের মানুষের খেদমতগার ভাববেন?

তারা কি তাদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর দেবেন? তারা কি নিজেদের ব্যক্তিজীবনকে সততার সঙ্গে পরিচালনার অঙ্গীকার করবেন? সেই জীবনের বিষয়গুলো কি জনগণের সামনে স্বচ্ছতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবেন?

কি হবে তাদের রাজনীতি?

এবার শেষ কথাটি বলি, বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। এই দেশের বড় সম্পদ মানব সম্পদ। মাত্র দশ বছরের সুষ্ঠু পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আমরা অনায়াসে দেশের অন্তত এক কোটি প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে পাঠানোর মাধ্যমে বছরে অন্তত ১০ লাখ কোটি টাকা আয় করতে পারি। আমরা বাংলাদেশের পরিশ্রমী মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের সম্পদ বাড়িয়ে তুলতে পারি। আমরা বাংলাদেশের সৎ ও ধৈর্য্যশীল মানুষদের সততা ও ধৈর্য্যকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়ে তাদের জীবনমান বাড়াতে পারি।

আমাদের দরকার একজন নেতার নেতৃত্বে দেশপ্রেমিকের একটি টিম। যারা দেশের চাকরি করবে। এখন কথা হলো সেই নেতাটি কে হবেন? জয় নাকি তারেক? নাকি অন্য কেউ? সেই সিদ্ধান্ত জনগণের।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s