ময়মনসিংহে মসজিদের অভাব নেই; অপরাধও প্রচুর- হিসেব মিলে না


এক. আকুয়া খালপাড়ে ছয়শ গজের মধ্যে ৩টা মসজিদ। এই অবস্থা ময়মনসিংহের কম বেশি সর্বত্র। অন্যদিকে, সানকিপাড়া প্রাইমারি স্কুলে সন্ধ্যার পর গাজার আসর বসে। তবে, গাজা, মদ, ফেনসিডিল আর ইয়াবা সেবনের জন্য ময়মনসিংহে পৃথক করে জায়গার নাম বলার দরকার নেই এমনটাই বললেন স্থানীয়রা। আগে জনমানবশূণ্য ও পরিত্যক্ত স্থান বা বাড়িগুলো অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হলেও দিন পাল্টিয়েছে। এখন নিজেদের মতো করে আয়েস করে নিরিবিলি উপদ্রপমুক্ত হয়ে সেবন করা যায় এমন যেকোন স্থানই নেশাখোরদের পছন্দ। স্থানীয়রা দাবী করলেন একদশক আগেও ময়মনসিংহ এমন ছিল না। ময়মনসিংহ দৃশ্যত অনেক বদলেছে সেটা আমিও দেখতে পেয়েছি।

দুই. আমি খুব সম্ভবত ২০০০ সালে প্রথম ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। এরপর আরো কয়েকবার গিয়েছি। প্রতিবারই ময়মনসিংহকে বদলাতে দেখেছি। গত ১৩ বছরে শহরে অনেক ঘরবাড়ি হয়েছে। একটা ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি ভাব ধীরে ধীরে শহরটাকে গ্রাস করছে। রাস্তাঘাটে ময়লা আবর্জনার স্তুপ বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার থাকায় রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা ছিল। ফলে, শহরে বসবাসকারী মানুষের পথ চলা কতোটা দুর্বিষহ হয়েছে সেটা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।

তিন. রিকশা ও ব্যাটারিচালিত গাড়ির ভাড়া অনেক। আমার মতো যারা দু’চার বছরে একবার যায় তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়া সম্ভব হলেও যাদেরকে প্রতিদিন চলাচল করতে হয় তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে অনেকেই হেঁটে যাতায়াত করেন। বিড়ম্বনা আছে সেখানেও। শহরে পর্যাপ্ত ফুটপাথ নেই যে, মানুষ শান্তিমতো হেঁটে চলাচল করবে।

চার. ধর্মের একটি বড় বাণী হলো অন্যের সেবা করা। সেটা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ যেকোনভাবেই হতে পারে। অন্যের ক্ষতি না করাটাও ধর্মের বাণী। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ময়মনসিংহ সফরে আমার মনে হয়নি ধর্মের সেই বাণী ময়মনসিংহের মানুষের মনে স্থান করে নিতে পেরেছে।

পাঁচ. ফুলবাড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হওয়া প্রতিটি ব্যাটারিচালিত গাড়িকে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। যেখানে এক ট্রিপে তার আয় হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অকারণে রাস্তার মুখে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে অন্য গাড়ির চলাচল বিঘ্নিত করা, কিংবা রাস্তায় দোকান বসানোর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাপনকে বিঘ্নিত করার মতো ঘটনাও তো আছেই।

ছয়. আগেই বলেছি আমার এবারের সফর ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। তার উপর শুক্রবার হওয়ায় মানুষজনের চলাচল ছিল কম। স্বচক্ষে অনেক কিছুই দেখা সম্ভব হয়নি। অপরাধের বিষয়টি মূলত অন্যের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য দশটা বর্ধনশীল শহরের মতো ময়মনসিংহে যেমন মসজিদের অভাব নেই। তেমনি অন্য দশটা শহরের মতো অপরাধের বিস্তারও ঘটছে সমানতালে। আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারেন, মসজিদের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক কি? আমি মনে করি ধর্মের সত্যিকারের চর্চার সঙ্গে অপরাধ কমার সম্পর্ক আছে। আমার পয়েন্টটি হলো দৃশ্যত মসজিদের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত ধার্মিকের সংখ্যা বাড়ছে কিনা? নাকি ধর্ম পালন লোক দেখানো বিষয়ে পরিণত হচ্ছে?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s