ফেসবুক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে- গণজাগরণে জেগে উঠুক দেশ


ফেসবুকের কল্যাণে বন্ধুত্বের সংজ্ঞায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগে বন্ধুত্ব গড়ে উঠত স্কুলে। কলেজে। বিশ্ববিদ্যালয়ে। বসবাসের জায়গা, পাড়ায়। আত্মীয় স্বজনের মধ্যে। পত্রমিতালী বলে চিঠি লিখে লিখে আরেক ধরনের বন্ধু হতো। বন্ধু হতো সংগঠন করতে গিয়ে, যেমন খেলাঘর। রাজনীতিতে। কর্মস্থলে। ফেসবুক সেখানে নতুন সংযোজন। আরো অনেক সামাজিক সাইট তৈরি হয়েছে ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব সেখানেও গড়ে উঠছে। যাই হোক। ফেসবুকে আমার বেশ অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। যাদের বেশিরভাগকে আমি স্বচক্ষে কখনো দেখিনি। এদের অনেকের সঙ্গে আমার প্রায় নিয়মিত আলাপচারিতা হয়। মত বিনিময় হয়। যুক্তি তর্কের লড়াই হয়। এককথায় মুখোমুখি আলাপে পরিচয়ে গড়ে উঠা বন্ধুত্বের মতোই ফেসবুকেও কারো কারো সঙ্গে বন্ধুত্বটা বেশ জমে উঠে।

আমি ব্লগ লেখায় যেমন নিয়মিত হবার চেষ্টা করি। ফেসবুকেও নিয়মিত থাকার চেষ্টা করি। বলতে পারেন ফেসবুক ও ব্লগ দু’টোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দু’টো কাজ। আমার নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করা ও যাচাই বাছাই করার মাধ্যম। পাঠক ও বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে ও নিজের চিন্তাভাবনাকে প্রয়োজনীয় পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করতে ব্লগ ও ফেসবুক আমাকে সবসময় সহায়তা করে।

আমি লক্ষ্য করেছি যে, ফেসবুকে থাকা আমার ফেসবুক বন্ধুরা দেশ ও সমাজের অগ্রগতি ও উন্নয়নে যুক্ত একদল পরিশ্রমী মানুষ। তারা নিয়ত দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে বাংলাদেশ যে এক কদম দুই কদম করে আগাচ্ছে সেটা সম্ভব হতো না যদি না আমার ফেসবুক বন্ধুরা আন্তরিক না হতেন। তাদের আন্তরিক চেষ্টায় দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। শুধু যে তারা নিজেরাই কাজ করছেন তা নয়, তারা অন্যকেও কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

আমার ফেসবুক বন্ধুরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় আমি তাদের কল্যাণে পুরো দেশের একটি চিত্র দেখতে পাই। সমাজ ও দেশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা এবং তাদের চারপাশের সমাজকে তুলে ধরায় আমি সমৃদ্ধ হই। আমার চিন্তাভাবনা সমৃদ্ধ হয়। আমার লেখার উপাদান খুঁজে পাই।

আমি নিশ্চিত জানি যারা আমার ফেসবুক বন্ধু নয় কিন্তু আমার বন্ধুর বন্ধু তারাও প্রতিনিয়ত ভালো কাজ করছেন। সবার সম্মিলিত ভালো কাজের মধ্য দিয়েই দেশ আগাচ্ছে। সমাজ আগাচ্ছে। পরিবার সমৃদ্ধ হচ্ছে।

আমরা যখন প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত তখন আমাদের বয়সী অনেকেই আর্থ সামাজিক কারণে প্রযুক্তির সুবিধা বঞ্চিত। প্রযুক্তির সুবিধা বঞ্চিত হলেও দেশকে সেবা করার ক্ষেত্রে তারা মোটেই পিছিয়ে নেই। নিজেদের শরীরের ঘাম ঝরিয়ে, মেধাকে কাজে লাগিয়ে তারাও দেশ সেবা করে চলছেন। যেহেতু তাদের হাতে ফেসবুক নেই। ব্লগ লেখার যন্ত্রপাতি নেই। তাই তাদের কথা তারা বলতে পারছেন না। কিন্তু তাদের অবদানের কথা প্রচার হওয়া দরকার। সেই দায়িত্ব নিতে পারেন ফেসবুক বন্ধুরা। আমার আমার ফেসবুক বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ করব নিজ নিজ এলাকার মানুষের অবদান তুলে ধরুন। তাদের সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরুন। তাদের পরিশ্রম আর সাফল্যের কথা তুলে ধরুন।

ফেসবুকে যেমন ভালোর প্রচার হচ্ছে তেমনি কিছু দুষ্ট লোক ফেসবুকের শক্তিকে অপব্যবহার করে খারাপ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় ভালো প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে খারাপকে হটিয়ে দিতে হবে।

অনেকেই বলে থাকেন বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় দেশ। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে আমরা আমাদের সম্ভাবনার পুরো শক্তিকে কাজে লাগাতে পারছি না। কবে কখন কোথায় কে যোগ্য নেতা হবেন সেই জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কেন আমরা নেতার দায়িত্বটি নিচ্ছি না? আমি তো মনে করি আমার ফেসবুক বন্ধুদের প্রত্যেকেই যোগ্য নেতার মতো নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

একজন যোগ্য নেতার সবচেয়ে বড় গুণ আমি মনে করি অন্যের শক্তিকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অন্যের মহত্বকে সকলের সামনে তুলে ধরা। আমি আমার ফেসবুক বন্ধুদের অনুরোধ করব, বিশেষ করে যারা ঢাকার বাইরে আছেন তারা সমাজের শক্তিগুলোকে তুলে ধরুন। ব্যক্তির মহত্বকে তুলে ধরুন।

আবারো কথা হবে। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। আসুন সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। গণজাগরণে জেগে উঠুক দেশ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s