বাংলাভিশনে মির্জা ফখরুলের ইন্টারভিউ দেখলাম


অনেক টেলিভিশন চ্যানেল হয়েছে। সুযোগ পেলেই টেলিভিশন চ্যানেল ব্রাউজ করি। শুরুটা করি তিন নাম্বার চ্যানেল থেকে। কারণ প্রথম দু’টো বিটিভি। তৃতীয়টা আরটিভি। এভাবে চলতে থাকে ৪২ পর্যন্ত। দেশী চ্যানেলের ফাঁকে কিছু ভারতীয় চ্যানেল আছে। ওগুলো টপাটপ বাদ দিয়ে এগিয়ে যাই। ৫ নাম্বার চ্যানেলটা সংসদ টেলিভিশন। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয়। সংসদ চললে এটাই বেশি দেখা হয়। নতুবা ঘুরে ঘুরে গান খুঁজি। কিংবা একক নাটক। কখনো কখনো বিজ্ঞাপনই দেখতে থাকি। আজকে তিন নাম্বারের পর চার নাম্বারে গিয়েই আটকে গেলাম। দেখি ফ্রন্টলাইন চলছে। কথা বলছেন মি. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধীদল বিএনপি-র মহাসচিব। কোন অনুষ্ঠান কখন শুরু হয় সেটা আমার জানা নেই। এটাও কখন শুরু হয়েছে জানি না। আমি যতোটুকু দেখেছি তাতে মি. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিনটি বিষয় নিয়ে বললেন-

১. তত্ত্বাবধায়ক

২. নতুন ধারার সরকার

৩. সংবিধান

৪. সজিব ওয়াজেদ জয়

মির্জা ফখরুল অনেক প্রেস কনফারেন্স দেখেছি। তার টিভি ইন্টারভিউ এবারই প্রথম দেখলাম। তাকে মৃদুভাষী মনে হলো। সতর্কতার সঙ্গে শব্দ চয়ন করেন কিন্তু সাবলীল। বড় দলের মহাসচিব হিসেবে যেমনটা হওয়া দরকার সেটা তার মধ্যে আছে লক্ষ্য করলাম। আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যও শুনেছি। সেও ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলে। শুধুমাত্র হেফাজতের ঘটনার দিন তাকে আমি টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো সহজাত ভঙ্গি হারাতে দেখেছিলাম। যাই হোক সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এক দর্শক জানতে চাইলেন আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন করেই ক্ষমতায় এসেছে তাহলে তারা কেন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করল।

মির্জা ফখরুলের জবাব ছিল এই প্রশ্নের জবাব আওয়ামী লীগই ভালো দিতে পারবে। তিনি এই প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এটা হলো সুবিধাবাদের রাজনীতি। তিনি আরো জানান যে, আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল এবং সংবিধান পরিবর্তন করলেও এমন পরিবর্তনের মেন্ডেট তারা নেননি। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এটা উল্লেখ ছিলো না। এমনকি জনগণের দিক থেকেও এর চাহিদা ছিলো না। আওয়ামী লীগ এটা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তিনি আরো জানান যে, জনগণের চাহিদামাফিক সংবিধান পরিবর্তন হতে পারে কারণ সংবিধান কোরআন কিংবা বাইবেল নয়। বিএনপিও সংবিধান পরিবর্তন করেছে। তিনি দাবী করেন যে, দেশের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।

উপস্থাপক মি. মতিউর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন যে, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোও চায় বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র আছে সেই গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক। আরো শক্তিশালী হোক। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক। তিনি বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা হওয়াটাকে রুটিন কাজ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক থেকে রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা আশা করার উল্লেখ করে জানান যে, এখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রীর মতো কাজ করছেন।

তাদের নতুন ধারার সরকারে শুধু তরুণ মুখ নয় চৌকস মন্ত্রীরা থাকবে বলে তিনি জানান। তিনি দাবী করেন বিএনপি ব্যবসায়ী বান্ধব সরকার; সেটা সবাই স্বীকার করে।

উপস্থাপকের দিক থেকে সজিব ওয়াজেদ জয়ের রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে মির্জা ফখরুল তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, তার দিক থেকে উচিৎ হবে বাংলাদেশের জনগণের মনের ভাষা বোঝা। যা এখন সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেব করছেন না। তিনি বলেন যে, সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেব বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এমনিক বিরোধী দলীয় নেত্রী সম্পর্কে যে ভাষায় কথা বলছেন তা তার মতো বয়সীর কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ শুনতে চায় না। এটা হয়েছে কালচারাল পার্থক্যের কারণে।

রবীন্দ্রনাথের কবিতা দিয়ে শেষ করা সাক্ষাৎকারটি হয়তো পুনঃপ্রচার হবে। ঠিক জানি না। তবে হলে সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতাদের দেখা দরকার। কারণ বিরোধী দলের মহাসচিব কি ভাবছেন সেটা জানলে তারা তাদের কর্মকৌশল ঠিক করতে পারবেন।

আমি অপেক্ষা করব সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন একটা সাক্ষাৎকার দেখার জন্য।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s