আশ্রমে আধ্যাত্মিক গুরুদের যৌনজীবন


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আশ্রমে যা হয় তাকে ধর্ষণ বলা যাবে কিনা সেনিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকে দাবী করেন, আধ্যাত্মিক গুরু বা ঈশ্বরমানবেরা যা করেন সেটা সম্মতির ভিত্তিতেই করেন। ফলে সেটাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা হলো- আধ্যাত্মিক গুরুরা ভক্তদের বিশ্বাস ও ভক্তিকে পুঁজি করে দুর্বল মনের নারীপুরুষদের ভোগের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে শিষ্যদের নিজেদের সমর্পণ করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ থাকে না। পরে যখন তারা বুঝতে পারেন, তখন তাদের কেউ কেউ ধর্ষণের অভিযোগ করে থাকেন। তবে বেশিরভাগ এই ঘটনাকে হজম করে নেয়। ধারণা করা হয় প্রতিদিন যতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার সামান্যমাত্র প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হয় বলেই মানুষ জানতে পারছে। আমি এই লেখা লিখতে পারছি। ইয়োগা গুরুরা যে কেবল ভারতে আছে তা নয়। প্রাচীণ ভারতে এর উৎপত্তি হলেও ভারতীয়দের হাত ধরে এই ধরনের গুরুরা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। যারা খারাপ তারা বিশ্বের যে স্থানেই থাকুক না কেন খারাপ কাজ করার সুযোগ করে নেয়।

quantum_yoga_padmason1_1_2 ইয়োগা (Yoga)-কে অনেকেই ব্যায়াম করার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখা যেতে পারে, ইয়োগা শুধুমাত্র শারীরিক কসরত নয়। বরং সংস্কৃত শব্দ ইয়োগার যে অর্থ তাতে ইয়োগাকে ঈশ্বরের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে। একারণে ইয়োগা গুরুকে দেখা হয় ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের সেতু হিসেবে। একজন মানুষ ইয়োগার মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি অর্জন করে। এটি যে গুরু ধরে করতে হবে তা কিন্তু। তবে যারা ইয়োগা করেন তারা গুরুর মাধ্যমে করেন। গুরুর কাজ হলো ইয়োগার মাধ্যমে ঈশ্বরের কৃপা লাভের সঠিক পথ বাতলে দেওয়া। পথ বাতলাতে গিয়ে গুরুদের কেউ কেউ নিজেই পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। মানুষের চিরায়িত যৌন আখাঙ্ক্ষা তাকে পেয়ে বসে। ফলে এই ধরনের গুরুরা ইয়োগার সঙ্গে সেক্স জুড়ে দেয়। ভক্তের সঙ্গে সেক্স করার শুরুটা হয় অনেকভাবে। যেমন, ইয়োগাতে ভক্ত পদ্মাসনে (ছবি দেখুন) বসার পর গুরু সামনে বসে চোখ বন্ধ করে মন্ত্র জপে যেন ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এসময়ে শিষ্যের শরীর আলতো করে ছুঁয়ে দেয়। যেন ঈশ্বরের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

ভারতের ঋষিকেশে অনেকবার গুরুর ভোগে পরিণত হওয়া এক রাশিয়ান নারী মনোচিকিৎসককে তার প্রথমবারের মতো গুরুর ভোগে পরিণত হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- পদ্মাসনে বসে গুরু যখন কপাল ছুঁয়ে দিলো মনে হলো গুরুর শক্তি তার মধ্যে ট্রান্সফার হচ্ছে। এরপর গুরু তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলেন। তখন তার মনে হয়েছিল নিরাপত্তার চাদরে গুরু তাকে ঢেকে দিলেন। এরপর গুরু তাকে শরীর থেকে সব কাপড় চোপড় খুলে তার কোলে বসতে বললেন যাতে করে কোনরকমের বাধা ছাড়াই ঈশ্বরের পাঠানো শক্তি তিনি শিষ্যকে দিতে পারেন। এভাবেই ঘটনাটি ঘটে গেলো।

আরো অনেকভাবেই শিষ্যকে বশ করে গুরু। বাঙ্গালোরের এক নারী তার গুরুর সেক্স করার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- পুনেতে থাকা তার বিশ্বস্ত গুরু একবার তাকে বলল যে, রুদ্রাভিষেক করতে হবে। অভিষেক হলো শিবলিঙ্গ মূর্তিতে পানি ঢালা। আর যখন শিবলিঙ্গে মন্ত্র জপে পানি ঢালা হয় তাকে রুদ্রাভিষেক বলে। রুদ্রাভিষেকে শিবলিঙ্গে শুধু যে পানি ঢালা হয় তা নয়। কিসের জন্য প্রার্থনা তার ভিত্তিতে ঠিক করা হয় কে কি ঢালবে। যেমন, অর্থকড়ির জন্য মধু, পুত্রসন্তানলাভের জন্য দুধ, সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে পানি, শত্রুমুক্ত হতে সরিষার তেল ইত্যাদি। তার বেলায় গুরু শিবলিঙ্গের পরিবর্তে নিজের লিঙ্গকে ব্যবহার করলেন আর পানির বদলে ওই নারীকে দুধ আর মধু ঢালতে বললেন। তারপর সেগুলো খেতে বললেন। এভাবেই গুরু তার মনোবাসনা পূর্ণ করলেন।

এই ধরনের গুরুদের আয় রোজগার খুব ভালো হয়। দেশীরা তো দেয়ই। অনেক বিদেশী আসে তারা উদারহস্তে দানও করে। এমন একজন গুরু ব্যক্তি পর্যায়ে ভারতের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারীদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। সেই গুরু একবার এক ৩৫ বছর বয়সী ফরাসি পুরুষকে মেঝেতে ন্যাংটো হয়ে শুতে বলেছিলেন। কিঞ্চিত দ্বিধাগ্রস্ত ফরাসি লোকটি চিৎ হয়ে শোয়ার পর গুরু তার বুকে ও কপালে চন্দন কাঠের গুড়া লাগিয়ে দেন। এরপর গুরু তার তলপেটে পা রেখে ঝুঁকে পড়ে তার পুরুষাঙ্গকে মুঠোতে প্রায় আধঘণ্টা ধরে রাখেন। আর বলেন যে, এভাবেই এনার্জি বা শক্তি ট্রান্সফার করা হচ্ছে। এরপর গুরু ওরাল সেক্স করতে বললে ফরাসি লোকটি ‘এটা আধ্যাত্মিকতা নয়’ বলে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু গুরুর হিম শীতল চাহনি আর ব্যক্তিত্বের কাছে তার সেই প্রতিরোধ টিকেনি। এতোবছর পর সেই ফরাসি ভদ্রলোক কনফিউজড। সবচেয়ে বড় কথা তখনকার ঘটনাকে সে নির্যাতন হিসেবে দেখে না। বরং আধ্যাত্মিকতা শেখার অংশ হিসেবেই দেখে। এখন সে ভারতের ধর্মশালাগুলোতে দিন কাটায়।

সত্যিই বিচিত্র এই পৃথিবী।

ফরাসি ভদ্রলোক যেভাবে পুরো বিষয়টি মনে রাখতে পেরেছেন সবাই সেটা পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বলতে পারে। কেন এমনটা হয়। তার কারণ হিসেবে জানা যায়, গুরুরা শিষ্যদের ধরাশায়ী করতে হিপটোনিজম বিদ্যা কাজে লাগায়। এছাড়াও মাদকের ব্যবহার তো আছেই।

অনেক সময় বদ গুরুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতেই তাদের বিকৃত লালসা পূরণ করে থাকে। তেমন একটা ঘটনাই ঘটেছিল পশ্চিম দিল্লীতে।

চলবে ………

Advertisements

2 thoughts on “আশ্রমে আধ্যাত্মিক গুরুদের যৌনজীবন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s