ঈশ্বরমানবের সেক্স


রাজস্থানের যোধপুরের আশ্রমে ১৬ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঈশ্বরমানব আশারাম বাপু জেল হাজতে আটক আছেন। হিন্দিতে বাপু অর্থ বাবা। মূল লেখার ভূমিকায় স্পষ্টত বলা হয়েছে যে, আশারামের উদাহরণ দিয়ে ভারতের সব গুরু বা ঈশ্বরমানবকে বিচার করলে হবে না। সেসঙ্গে একথাও বলা হয়েছে যে, শিষ্যদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ভারতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলছে। এ যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মূল লেখাটি তৈরি করা হয়েছে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে, যাদের মধ্যে ভারতীয়রা তো আছেই, সেসঙ্গে আছে বিদেশীরা এবং শিশুরা- ছেলে ও মেয়ে। কখনো কখনো এই শিশুরা প্রতিবন্ধী। আমি লেখাটি তৈরির জন্য মূল লেখার পাশাপাশি আরো কিছু রেফারেন্স থেকে তথ্য নিয়েছি। মূল লেখাটি পড়তে দেখুন: http://www.openthemagazine.com

আশ্রমে মানুষ আসে মনে শান্তি পেতে। আশ্রমের যৌনকাতর গুরুরা সেক্সকে মনে শান্তিলাভের একটি উপায় হিসেবে শিষ্যের কাছে তুলে ধরে।

দক্ষিণ দিল্লীর এক দম্পতি ৫ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের ঝিমিয়ে পড়া ভাবকে দূর করার উপায় জানতে টেলিভিশনে নিয়মিত অনুষ্ঠান করেন এমন এক বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে গিয়েছিলেন। ধরা যাক এই দম্পতি হলো মি. এন্ড মিসেস শর্মা। গুরু তাদেরকে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তার আশ্রমে থাকার আমন্ত্রণ জানালেন। সেখানে পৌঁছার পর একদিন রাতে আরো প্রায় ৫০ জনের সঙ্গে বড় একটি হলরুমে শর্মা পরিবার একত্রিত হলেন। প্রায় সবাই তাদের মতো মধ্যবয়সী। কেউ একা এসেছে। কেউবা তাদের মতো দম্পতি। আবার বড় গ্রুপও আছে। রুমে আলো কম। কাউকেই খুব ভালোভাবে চেনা যাচ্ছে না। ছোট্ট ভূমিকা দিয়ে শুরু হলো সুরের মূর্চ্ছনা। সুরের আবেশে হলরুমের নারী পুরুষরা হারিয়ে যেতে লাগল নিজেদের মধ্যে, আর লাইটের আলো কমতে থাকল। একসময় আলো এতোটাই কমে গেলো যে, শুধু কতগুলো অশরীরি মানুষের নড়াচড়া যেন চলছে রুমের মধ্যে। কেউ কাউকে আর দেখছে না। শুরুতে নিজেদের মধ্যে তারা কথা বললেও এখন আর কেউ কারো সঙ্গে কথাও বলছে না। এই অবস্থায় রুমের মধ্যে ঘুরে ঘুরে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া আর শরীরের উত্তাপ বিনিময় চলতে থাকল। বাদ গেলো না শর্মা দম্পতিও। কিন্তু তারা জানে না কে কাকে জড়িয়ে ধরেছে কিংবা চুমু খেয়েছে কিংবা আরো বেশি কিছু করেছে। এরপরের সেশনগুলোতে পৃথক সত্তা নিয়ে অন্য মানুষের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হয়। অনেকের সঙ্গে।

“এভাবেই দীর্ঘদিনের সম্পর্কগুলোকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। বোঝানো হয় তোমরা যেভাবে এতোদিন জীবন ও সম্পর্ককে দেখতে সেটা অর্থহীন। তাদেরকে এই জীবন ও ভাবনা থেকে বের করে আনা হয়।”– আশ্রমের ঘটনার এরকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন এমন ঘটনার সাক্ষী এক ব্রিটিশ নারী। যিনি ভারতে যোগ ব্যায়াম বা ইয়োগা গুরুর অনুগ্রহ লাভের জন্য এসে তার যৌন দাসীতে পরিণত হন। এখন তিনি ভারতকে ভালোবাসেন কিন্তু ঘৃণা করেন ঈশ্বরমানবদের।

ঘৃণা সবার তৈরি হয় না। যাদের মধ্যে তৈরি হয় সেটাও অনেক পরে। অনেকেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের গ্লানি ছাড়াই সেক্স করার মাধ্যমে নিজেদের নিরামিষ জীবনে উদ্দীপনা খুঁজে পায়। আশ্রমের গুরুরা প্রশ্ন ছাড়াই সেক্স করার সুবিধা ভোগ করে। কারণ তাদেরকে শেখানো হয়, গুরুদের প্রশ্ন করতে নেই। গুরু যা কিছু করে সেটা তার মঙ্গলের জন্য।

তবে গুরুরা যৌন কর্ম করে তাদের প্রাইভেট চেম্বারে। গুরুর চ্যালারা গুরুর টার্গেটকে গুরুর আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়ে জানায় যে, এই আমন্ত্রণ সবার কপালে জোটে না। তার সৌভাগ্য যে তাকে গুরু খাস কামরায় আর্শিবাদ করার জন্য ডেকেছেন। গুরুর সঙ্গে প্রাইভেট চেম্বারে সময় কাটাতে পারা মানে তার জীবন বদলে যাওয়া। এরকম একটি মনোভাব নিয়ে শিষ্য চেম্বারে গিয়ে গুরুদক্ষিণা দিয়ে আসে। এমন সুযোগ সবাই পায় না।

শর্মা দম্পতি পেয়েছিল। মিসেস শর্মাকে আর্শিবাদ করার জন্য গুরু তার প্রাইভেট চেম্বারে ডেকেছিলেন। সেই সময়ে মি. শর্মা রাতের ধ্যান করেছেন। তবে চেম্বারে কি ঘটেছিল সেটা মিসেস শর্মা পুরোপুরি মনে করতে পারেননি। টুকরো টুকরো ঘটনা তার মনে পড়ে। তাকে গুরু ছুয়ে দিয়েছিলেন, জড়িয়ে ধরেছিলেন, ধোয়াচ্ছন্ন রুমের লাল আলোতে এক সময় স্যাতস্যাতে মেঝেতে তাকে নিয়ে গুরু শুয়ে পড়েছিলেন। তারপর আর কিছু তার মনে নেই; ঘুম ভেঙ্গেছিল দুই মহিলার ধাক্কায়। তারা তাকে বলেছিল, “তুমি গুরুর আশির্বাদ পেয়েছো।”

চলবে……………….

Advertisements

One thought on “ঈশ্বরমানবের সেক্স

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s