আধ্যাত্মিক গুরুরা যৌন লালসা পূরণে সিদ্ধহস্ত


পূর্ব প্রকাশিতের পর

আধ্যাত্মিক গুরু যখন ১৫ বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ করছিল, পরিবারের অন্য সবাই তখন বাড়িতে। বাড়ির সদস্যরা ঘরের বাইরে থেকে মেয়েটির চিৎকার শুনতে পেলেও ভেবেছে যে, ওটা তন্ত্র-মন্ত্রেরই অংশ। গুরু তাদেরকে বুঝিয়েছিল, মন্ত্র পড়ে সে ওই বাড়ির মানুষদের ভাগ্য বদলে দেবে। তারা অনেক সম্পদের মালিক হবে। শণৈ শণৈ উন্নতি হবে। আর এজন্য গুরুকে ঘণ্টা খানেক ধ্যান করতে হবে। আর সেই ধ্যানের জন্য দরকার হবে একটি ‘বিশুদ্ধ আত্মা’; বিশুদ্ধ আত্মা হওয়ার শর্ত হলো কুমারী মেয়ে। আর সেই কুমারী মেয়ে কোথায় পাওয়া যাবে সেটাও গুরুই বলে দিয়েছে। ওই বাড়ির ১৫ বছরের মেয়েটিই হলো গুরুর কথা অনুযায়ী সেই আত্মা।

মানুষ যখন লোভে পড়ে তখন বোধকরি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গুরুরা সেকথা অন্য যেকারো চেয়ে ভালো জানে। যৌন লালসায় তাড়িত গুরু জানতো সাফল্য ধরে দেবেই।

মেয়েটি কিন্তু রাজী ছিলো না। কিন্তু মেয়ের কোন কথাই কানে তোলেনি ভাগ্য পরিবর্তনের লোভে আকণ্ঠ নিমজ্জিত পরিবারের সদস্যরা। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মেয়েটি রুমে কি ঘটেছিল বলার পরও পরিবারের সদস্যরা তাকে বিশ্বাস করেনি। তবে পুরো দৃশ্যপট বদলে গেলো যখন গুরু হাওয়া হয়ে গেলো। তখন সবাই মেয়েটির কথা বিশ্বাস করতে লাগল। কিন্তু তাতে কি লাভ হলো? এমন গুরুদের গরু খোঁজা করেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

দিল্লীর এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের কন্যার যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। মেয়েটি ভালো গাইতো। মেয়েকে ভক্তিমূলক গানের তালিম দিতে এক আধ্যাত্মিক গুরুকে রাখা হলো। বাড়িতে এসেই সে গান শেখাতো। তারিফ করার উছিলায় শিক্ষক ছাত্রীর গায়ে নোংরাভাবে হাত দিতো। ছাত্রী মা-বাবাকে ঘটনা জানালে তারা মেয়ের কথায় কান দিলেন না। একদিন পরিবারের সদস্যরা যখন বাড়ির বাইরে গুরু ঝাঁপিয়ে পড়লেন ছাত্রীর উপর।

ভারতের গোয়ায় সেক্স, ড্রাগস আর আধ্যাত্মিকতা একসূত্রে গাঁথা, এভাবেই বলছেন ৪৩ বছর বয়সী এক রাশিয়ান নারী পেইন্টার। যিনি প্রতিবছর তিনমাসের জন্য গোয়ায় এসে বিভিন্ন আশ্রমে সময় কাটান। বারানাসির আশ্রমগুলো সম্পর্কেও তার একই ধরনের অভিজ্ঞতা।

এভাবেই ভারতের কিছু আশ্রম স্বদেশী আর বিদেশীদের আকৃষ্ট করে চলেছে। আর আশ্রমের গুরুরা সুযোগ মতো তাদের লালসা চরিতার্থ করছে। সব ঘটনা প্রকাশিত হয় না। খুবই সামান্য কয়েকটা ঘটনা প্রকাশ পায়। তারচেয়েও কম ঘটনার বিচার হয়। আগামী পর্বে এমন কয়েকটি ঘটনার কথা বলব।

চলবে…………..

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s