আমার জীবনে ফেসবুকের প্রভাব?


এই লেখাটা যারা আমাকে ১১ অক্টোবর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদেরকে উৎসর্গ করছি।

ফেসবুক আমার পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আমি যে অনেকদিন ধরে পত্রিকায় লিখছি না সেটা যেন আমার মনেই থাকে না। আগে পত্রিকায় কিছুদিন না লিখলে মনে হতো একটা কিছু লিখতে হবে। একসময় তো ডজনখানেক পত্রিকা-ম্যাগাজিনে লিখতাম। একই পত্রিকার আবার কয়েকটি পাতায় লিখতাম। যদিও লেখালেখি কখনোই আমার পেশা ছিলো না। লিখতে ভালো লাগতো। ভালো লাগা থেকেই লেখা। নিজের কাছে যা ভালো লাগে সেটা অন্যকে জানানোর মধ্যে এক ধরনের আনন্দ খুঁজে পাওয়া।

২০০৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক একাউন্ট করলেও প্রথম দুই বছর আমি ফেসবুকে খুবই অনিয়মিত ছিলাম। ২০১০ সালের জুনে আমি ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ লেখা শুরু করার পর লেখা সম্পর্কে পাঠকদের জানানোর একটি পন্থা হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার বাড়াতে শুরু করলাম। ধীরে ধীরে বিষয়টি এমন হলো যে, ফেসবুক আমার কাছে ‘মিনি ব্লগ’ লেখার জায়গায় পরিণত হলো। মনের ভাব দ্রুত অন্যকে জানানোর জন্য ফেসবুক ছাড়া অন্য কিছুর কথা আমার জানা নেই। আমি কয়েকটি ইয়াহু গ্রুপ চালাতাম। ফেসবুকে সক্রিয় হওয়ার পর সেই গ্রুপগুলো চালানোর আগ্রহ আমি হারিয়ে ফেললাম। ফেসবুককে ঘিরেই আমার রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজচিন্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো। ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল তর্ক বিতর্ক করে আমি সমৃদ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত। ফেসবুক আমাকে তথ্য দিচ্ছে দেশ নিয়ে এই সমাজের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্ম কি ভাবছে। ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারছি গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। ফেসবুক আমাকে তথ্য দিচ্ছে সিনেমা ও নাটকের। প্রেম আর পরকীয়ার। সংসার তৈরি আর সংসার ভাঙ্গনের।

ফেসবুক আমাকে মানুষ ও দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে সহায়তা করেছে। ফেসবুকে ১৯৮০ সালের পর জন্ম নেওয়া তরুণদের অনুসরণ করে বুঝতে পারলাম এরা আমার স্বপ্নের নায়ক নয়। আমার হিসেব নিকেশ ভুল। এরা আসলে আমার পূর্বসূরিদের মতোই। তফাত শুধু বয়স কম।

ফেসবুক আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করলো। রাজনীতি থেকে দূরে থাকা আমি গত বছর সিদ্ধান্ত নিলাম রাজনীতিতে যাব। এটা আমার জীবনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটা টার্নিং পয়েন্ট। এভাবেই ফেসবুক আমার জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে।

ব্যক্তি জীবনে আমার বন্ধু বান্ধবের সংখ্যা আঙ্গুলের কড় গুণে বলে দেওয়ার মতো। দেখা গেলো ফেসবুকেও আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যা এক দমে বলে দেওয়ার মতো।

১১ অক্টোবর সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গলো বন্ধুদের চিৎকার চেচামেচিতে। তারা সকাল সকাল খাবার দাবার নিয়ে হাজির। দিনটা আরো মধুর হলো ফেসবুকের বন্ধুদের জন্মদিনের শুভেচ্ছায়।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সবার সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করছি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s