ইনডিয়ান পলিটিশিয়ানদের সেক্স লাইফ


এক.

9083_1 ইনডিয়ান পলিটিশিয়ানরা রাজনীতি নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত সময় কাটায়। ঘরবাড়িতে যাওয়ার সময় হয় কম। ফলে সেক্সের জন্য তারা পরনারী ও যৌনকর্মীদের উপর অনেক সময় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। গত কয়েকবছর ধরে ইনডিয়ার রাজনীতিতে দু্নীতি ছাড়াও রাজনীতিবিদদের যৌন জীবন বেশ আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনগুলোতে রাজনীতিবিদদের চারিত্রিক সার্টিফিকেট এখন যেন মাস্ট হয়ে পড়েছে!

ইনডিয়ান সিনেমায় নগ্ন ও অর্ধনগ্ন ড্যান্স ও দৃশ্য দর্শক পছন্দ করলেও পরকীয়ায় আক্রান্ত কিংবা অবৈধ সেক্স লাইফ আছে এমন রাজনীতিবিদকে ভোট দিতে ইনডিয়ার জনগণ এখনো ইচ্ছুক নয়। ফলে, পলিটিশিয়ানদের সেক্স বিষয়ে ক্লিন ইমেজ না থাকলে বিপদ আছে। তার জন্য ভোট নাই। তারপরও ইনডিয়ান পলিটিশয়ানরা সেক্স স্ক্যান্ডালে জড়াচ্ছেন বেশ ভালোভাবেই। দিনে দিনে যেন সেটা বাড়ছে।

দুই.

মহিপাল

মহিপাল

২০১১ সালে অন্যতম আলোচিত সেক্স স্ক্যান্ডাল ছিল কংগ্রেস এমএলএ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মহিপাল সিংয়ের অবৈধ প্রণয় ও নার্স বানওয়ারি দেবীকে হত্যার ঘটনা।

২০১২ সালে প্রকাশিত একটি সেক্স সিডিতে দেখা যায় যে, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির নেতা অভিষেক মানু সিংভি একজন সিনিয়র আইনজীবির সঙ্গে সেক্স করছেন। তিনি আইনজীবিকে বলছেন, তাকে ‘সুখী করতে পারলে’ বিচারক বানাবেন। বিশ্বের প্রায় সব নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী এই নেতা অবশ্য প্রকাশিত সিডি ভুয়া বলেছেন। অভিষেক মানু সিংভির স্কুল ছিল সেন্ট কলম্বাস, এরপর পড়েছেন দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়, ট্রিনিটি কলেজ, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সবশেষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ইনডিয়ানরা লেখাপড়াকে খুব গুরুত্ব দেয়। কিন্তু লেখাপড়া শেখা শয়তানকে নয়। গতবছর ১৮ এপ্রিল তার দল কংগ্রেস থেকে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয় যে, প্রকাশিত সিডিটি একজন সিনিয়র আইনজীবির একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

হরিয়ানার মন্ত্রী গোপাল কানডার নামটা আলোচনায় আসে কানডা এয়ারলাইন কোম্পানির ২৩ বছরের এক বিমানবালার আত্মহত্যা ঘটনায়। বিমানবালা তার সুইসাইড নোটে লিখে যায়- তার এই মৃত্যুর জন্য মন্ত্রী গোপাল কানডা দায়ী। শুধু তাই নয়, তাকে গর্ভপাতও করতে হয়েছিল মন্ত্রীর কারণে। নিজেকে মন্ত্রীর যৌন নির্যাতনের শিকার উল্লেখ করে এমন মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার কোন বিকল্প তার ছিলো না বলেও সে লিখেছে। এই ঘটনার তদন্ত চলছে। মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও দাবী করেছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

তবে ৮৬ বছরের এনডি তিওয়ারীর সেক্স স্ক্যান্ডাল সম্ভবত এই দশকে ইনডিয়ার অন্যতম সেরা সেক্স স্ক্যান্ডাল যার তুলনা করা হয় বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনেস্কির সেক্স স্ক্যান্ডালের সঙ্গে। আবারো সেই কংগ্রেস নেতা। এনডি তিওয়ারিকে একটি ভিডিও-তে তিন নারীর সঙ্গে বিছানায় গ্রুপ সেক্স করতে দেখা যায়।

ইনডিয়ার রাজনীতিবিদদের এই ধরনের অধঃপতন অতি সাম্প্রতিক নয়। অতীতেও ছিল। যেমন, দশ বছর আগে দুই বন্দুকধারী ২৩ বছরের মধুমিতা শুক্লাকে তার লক্ষ্ণৌর এপার্টমেন্টে হত্যা করে। ওই সময়ে তার সঙ্গে সমাজবাদী দলের মন্ত্রী আমারমানি ত্রিপতির গভীর প্রণয় ছিল, যা তদন্তে বের হয়ে আসে।

২০০৩ সালে উত্তরখন্ডের মন্ত্রী হারাক সিং রাওয়াতকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল যখন জানা গেলো তার অবৈধ সম্পর্ক শুধু নয়, সেই ঘরে সন্তানও আছে।

তিন.

মন্ত্রী এমপিরা সেক্স করার জন্য খুব বেশি দূরে যেতে চান না। সাধারণত তাদের অফিসের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেন। কে চায় দূরে গিয়ে খুঁজতে। তাছাড়া অফিসে হলে সুবিধা হলো কাজের ফাঁকেই যখন তখন সেক্স করা যায়। কিন্তু অফিসে কোন যুবতী সুশ্রী তরুণী খুন হলে বিপদ আছে। সেই বিপদেই পড়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র। তার সচিবালয়ে ১৯৮২ সালে এক তরুণী খুন হওয়ার পর অনেক মন্ত্রীকেই কড়া নজরবন্দী হতে হয়েছিল।

ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনা ঘটেছিল লালু প্রসাদ যাদবের শালা সাধু যাদবের বেলায়। ঘটনাটি ১৯৯৯ সালের। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের শালা তরুণী মেয়েটিকে খুনই করে ফেলেছিল।

সালেহা মাসুদকে ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট তার বাড়ির সামনে খুন করা হয়। ওইদিন তিনি আনা হাজারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনডিয়া আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মনে করা হলেও আসলে তা নয়। ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়েছিলেন সালেহা মাসুদ। বিজেপির এমএলও দুরভ নারায়ন সিংহের সঙ্গে দুই নারীর প্রেমের বলি হন সালেহা মাসুদ।

মন্ত্রী আনন্দ সেনের অবৈধ সম্পর্কের শিকার শশি প্রসাদ একসময় খুনের শিকার হন। যদিও এই ঘটনায় আনন্দ ও তার ড্রাইভারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

Members in parliament তবে খুনোখুনি জন্য নয় মনভরে পর্ণো দেখার অভিযোগে পদত্যাগ করতে হয়েছিল কর্ণাটকের দুই মন্ত্রীকে। তারা অধিবেশন চলাকালে পর্ণো দেখছিলেন তাদের মোবাইল ফোনে।

আইসক্রিমের দোকানের আড়ালে গণিকালয় পরিচালনার অভিযোগে উত্তর কেরালার এক সিনিয়র মুসলিম লীগ নেতাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায়নি। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ পায় ১৯৯৭ সালে। ২০০৪ সালে মন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন মুসলিম লীগের সিনিয়র নেতা কুনজালিকুট্টি। ২০১২ সালে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণের অভাবে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

দলিত কন্যা বান্দাকে ২০১০ সালের নভেম্বরে গণধর্ষণের অভিযোগে বহুজন সমাজ পার্টির এমপি পুরুষোত্তম নরেশ বেদীকে অভিযুক্ত করা হয়। ঘটনার সময় ওই মেয়েকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করানো হয়েছিল। তারপর গণধর্ষণ। চুরির অভিযোগে গ্রেফতারের সাজানো নাটক করেছিল এমপি নরেশের ভাই। এই ঘটনায় এমপি নরেশকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। যদিও সে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চার.

সেক্স যেন পুরুষের অধিকার। ২৭ বছরের এক নিম্নবর্ণের নারীর উচ্চবর্ণের একদল শুয়োর দ্বারা গণধর্ষণের ঘটনায় রাজস্থানের পার্লামেন্টে ডেপুটি চিফ মিনিস্টার হরি শঙ্কর বাবরার দেওয়া বক্তব্যে তেমনটাই মনে হয়। হরি শঙ্কর বাবরা যুক্তি দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘মানুষের কথা আর কি বলব স্বয়ং ভগবান নারীর চরিত্র ও পুরুষের ভাগ্য সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।’ এভাবেই উচ্চবর্ণের ভারতীয়দের পক্ষে হরি শঙ্কর বলছেন।

ইনডিয়ায় সেক্স পাগল পলিটিশিয়ানদের খাদ্যে পরিণত হয়ে থাকে মূলত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা।

চলবে …………

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s