আসুন বিষ্মিত হই!


আপনাদের কেমন লাগে জানি না। আমার মাঝে মাঝে বিষ্মিত হতে ভালোই লাগে। সম্প্রতি একটি আর্টিকেল পড়ে আমি বিষ্মিত হয়েছি। দেখি আপনাদের বিষ্মিত করা যায় কিনা!

আর্টিকেলে দাবী করা হয়েছে যে, ভারত হলো ‘মন্দিরের দেশ’; দেব-দেবীর দেশ। প্রতিবছর শুধুমাত্র ভারতীয়রা নন, বিশ্বের নানা দেশ থেকে কোটি কোটি ভক্ত ভারতীয় মন্দিরগুলোতে আসেন। তারা তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য মানত করেন। আর সেই মানত মন্দিরগুলোতে দান করেন। কোটি কোটি মানুষের দানে ভারতের মন্দিরগুলোতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা জমা হয়। তবে সব মন্দিরে সমানভাবে সম্পদ জমা পড়ে না। সম্প্রতি ভারতের মেইল টু ডে পত্রিকায় প্রকাশিত এক আর্টিকেলে ভারতের কয়েকটি সম্পদশালী মন্দির নিয়ে লিখেছে।

ভারতের সবচেয়ে সম্পদশালী মন্দিরটি হলো কেরালায়। মন্দিরটির নাম পদ্মনবস্বামী (Padmanabhaswamy)। এদের বার্ষিক আয় কতো জানা যায় না। তবে এখানের সম্পদের মূল্য প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা।

তালিকার দ্বিতীয় নাম্বারে রয়েছে তিরুপতি বালাজি মন্দির। প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার ভক্ত এখানে উপাসনা করতে আসেন। উৎসব ও পার্বণে এই সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই মন্দিরের বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আয় হয় দান থেকে। দর্শনার্থীদের কাছে টিকেট বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। বাকিটা আসে বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ থেকে। এই মন্দিরে ২০ টন সোনা ও হিরার গহনা আছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিষ্ণু দেবী মন্দির সবচেয়ে পুরাতন মন্দির। এটি একটি গুহায় অবস্থিত। প্রতিবছর আনুমানিক ৮০ লাখ ভক্ত এখানে উপাসনা করতে আসেন। যে সংখ্যাটি বালাজি মন্দিরের পরেই। মন্দিরটি সাগর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৩০০ ফুট উপরে অবস্থিত। এই মন্দিরের আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অন্য মন্দিরগুলোর মতোই এখানেও থাকার বন্দোবস্ত আছে।

পাঞ্জাবের অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পল বা সোনালী মন্দির সম্পদের দিক থেকে চার নাম্বারে। শিখ গুরু অর্জুন ১৬ শতকে এই মন্দির নির্মাণ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার ভক্ত এখানে আসেন। এই মন্দিরের স্থাপত্য দেখার মতো। কাঠ, সোনা আর রূপার কারুকাজে পুরো মন্দির দৃষ্টি কাড়ে। এই মন্দিরের বার্ষিক আয় সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

মুম্বাইয়ের গণপতি মন্দির হলো দেবতা গণেশের মন্দির। আঠারোশ শতকে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছে। গণেশের মূর্তির মুকুটে সাড়ে তিন কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। দিনে গড়ে প্রায় লাখ খানেক ভক্ত গণেশকে একনজর দেখতে এখানে আসেন। মুম্বাইতে হওয়ার কারণে বলিউডের নামী দামী তারকারা এখানে আসেন। তারা মুক্ত হস্তে দান করেন। ফলে সবমিলেয়ে বছরে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা আয় করে এই মন্দির।

মুম্বাই শহরের প্রান্তে আরেকটি মন্দির আছে সাইবাবা মন্দির। প্রতিবছর কয়েক লাখ দর্শনার্থী এখানে আসেন। এই মন্দির দান থেকে প্রতিবছর আয় করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

One thought on “আসুন বিষ্মিত হই!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s