একটি (ব্যর্থ) ঘুষ কাহিনী!


‘বসেন। চা খাবেন?’

‘না, ধন্যবাদ।’

‘স্যার তো সিটে নেই। কতোক্ষণে আসবেন বলা যাচ্ছে না।’

‘অফিসে আছেন নাকি অফিসের বাইরে?’

‘না, অফিসেই আছেন।’

‘তাহলে, বসি।’

‘বসেন। চা দিতে বলি?’

‘না। ধন্যবাদ।’

‘বসে থাকবেন। একটু চা খান।’

‘না আমি চা খেয়ে এসেছি। ধন্যবাদ।’

‘চা খাবেন না। তাহলে কি চা খাওয়াবেনও না?’

‘জ্বী। চা খাওয়ার ঝামেলা এখন না করি। ‘…..’ বলেছিলেন, আজকে এলেই কাগজটা পাব।’

‘কাগজ তো পাবেনই। স্যার আমাকে বলেছেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাজ শেষ। এখন ওটা অন্য ডিপার্টমেন্টে আছে। সেখানে যেতে হবে।’

‘কোথায় যেতে হবে?’

‘আমি নিয়ে যাব আপনাকে।’

‘বেশ। চলুন।’

(হতাশার সুরে) ‘তাহলে আমরা চা খাব না?’

(যেন বুঝতে পারিনি) ‘চা পরে খাই বরং। আগে কাজটা শেষ করি।’

‘আরো কিছু কাগজ আনার কথা ছিল এনেছেন?’

‘জ্বি এনেছি।’ আমি কাগজ বের করে দিলাম। তিনি সেগুলো নিয়ে রওয়ানা হলেন। আমি পিছে পিছে। লম্বা হলঘরে একটা টেবিলে কয়েকজন বসে কাজ করছে।
তাদের একজনের কাছে গিয়ে আমাকে বললেন, ‘এই যে, এখানে উনি আপনার কাগজ দেবেন।’ আর সেই লোককে বললেন, ‘স্যার যে কালকে রিকমেন্ড করে দিয়েছে ওই কাগজটা নিতে উনি এসেছেন।’

লোকটা বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’

লোকটা কাজ করছিল, সে আবারও তার কাজে ডুবে গেলো। আমি নিজেই চেয়ার টেনে বসলাম। তার টেবিল থেকে একটা বই নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করার ভান করলাম। আর মনে মনে প্রমাদ গুনতে লাগলাম। ঘুষ চাইলে বিপদ আছে!

এদিকে, ভদ্রমহিলা কয়েক মুহুর্ত আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলেন। আমি ভদ্রমহিলার হাত থেকে রক্ষা পেলেও ভদ্রলোকের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাব কিনা ভয়ে আছি।

আমি বসে আছি। লোকটা কাজ করছে। আমার দিকে দুয়েকবার তাকাচ্ছে। আমি সেটা দেখেও না দেখার ভান করছি। এক পর্যায়ে ভদ্রলোক আমার কাগজগুলো নিয়ে চেয়ার থেকে উঠে ভেতরের রুমে গেলেন। আমার মনে হলো, যা হয় হবে আমি নড়ব না! বসে আছি। বই পড়ার ভান করছি। বাকিরা দেখছে। আমি মনে মনে ভাবছি লোকটা নিশ্চয়ই আবার এখানে ফিরবে।

এবার বই বন্ধ করে এদিক ওদিক দেখতে লাগলাম। দেখি ভদ্রলোক যে চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। সেই চেয়ারে আরেকজন এসে বসেছেন। তিনি একই কাজ করতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবছি, দেখি কি হয়। এমন সময় দেখি প্রথম ভদ্রমহিলা আসছেন। আমি নিজের অজান্তেই একটা বই নিয়ে চোখ রাখলাম। ভদ্রমহিলা আমাকে কিছু না বলে ভদ্রলোকের রুমে ঢুকলেন। আমার ইনটুইশন বলল, ভদ্রমহিলা তাকে ঘুষ নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন!!

আমি দ্রুত উঠে ওই রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। ভদ্রমহিলা আমাকে দেখেই চলে গেলেন। আমি দেখি ভদ্রলোকের হাতে কাগজপত্র। প্রসেস করছেন। আমি তার সামনে আবার একটা চেয়ার টেনে বসলাম। কিন্তু দেখি ওগুলো আমার কাগজ না। অন্য কারো। আমারগুলো সামনে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আলাপের ভঙ্গিতে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলাম। মনে হলো কাজ হয়েছে।

আমার কাগজপত্র প্রসেস হলো। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে চলে এলাম।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s