পাকিস্তানের মালিক কারা?


ধনী ব্যবসায়ী পরিবার থেকে আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ১৯৭৩ সালের ছবি এটা।

ধনী ব্যবসায়ী পরিবার থেকে আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ১৯৭৩ সালের ছবি এটা।

পাকিস্তানের সুপার ধনীরা ১৯৭১ সালের আগে ২২ পরিবার হিসেবে খ্যাত ছিল। তখনকার মানুষদের কাছে তারা সায়গল, দাউদ, আদমজী, বাওয়ানী, হাসওয়ানী, শরিফ কিংবা কলোনী গ্রুপের শেখ নামেই পরিচিত ছিল। পূর্ব পাকিস্তানীরা তাদেরকে পাটকল মালিক কিংবা ব্যাংক মালিক কিংবা অন্য কিছুর জন্য চিনত।

১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের সুপার ধনী পরিবারের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বরের হিসেব অনুযায়ী করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত ৬৯৭টি কোম্পানির মধ্যে ২৮৮টি কোম্পানির মালিক ছিল ৪৩টি পরিবার।

তাদের মালিকানায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে টেক্সটাইল, চিনিকল, সিমেন্ট, ইন্সুরেন্স, ব্যাংক, বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি, ইসলামী ব্যাংকিং মুদারাবা কোম্পানি।

তাদের মোট সম্পত্তির মূল্য ৪০৮ বিলিয়ন রুপি। তবে একথা মনে রাখতে হবে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোই তাদের সব নয়। আর এখানকার সম্পত্তির মূল্যই তাদের মোট সম্পদকে বোঝায় না। এটাকে বরং বরফ চাইয়ের অগ্রভাগমাত্র বলা যায়। এই পরিবারগুলোর নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বাইরে তারা সবাই পাকিস্তানে শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির শেয়ারের মালিক। যেমন, বাবর আলী হোয়েকস্ট পাকিস্তান লিমিটেড, সিমেন্স ও লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং কাশেম দাদা বার্জার পেইন্টস, স্মিথক্লিন ও ব্রুক বন্ড লিমিটেডের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

এরপর অনেক পাকিস্তানী পরিবারের বিদেশে কোম্পানি রয়েছে।

এবার পরিবারগুলোর অধীন গ্রুপগুলোর একটি তালিকা দেয়া যাক। তালিকার দিকে তাকালেই দেখবেন কিছু নাম আপনাদের পরিচিত। বাকিগুলোর উত্থান ১৯৭০ সালের পর। তালিকার এক নাম্বারে রয়েছে- পুরনো দাউদ। এরপর ধারাবাহিকভাবে সায়গল, আদমজী, জলিল, কলোনী, ফেন্সি, ভালিকা, বাওয়ানি। ৯ নাম্বারে রয়েছে ক্রিসেন্ট। ওয়াজির আলী আছেন ১০ নাম্বারে। এরপর গান্ধাহারা, ইস্পাহানি, হাবিব, খাইবার, নিশাত, বেকো, গুল আহমেদ, আরাগ, হাফিজ। ২০ নাম্বারে আছেন করিম। এরপর ২১ নাম্বারে মিলওয়ালা। পরিচিত দাদা আছে ২২ নাম্বারে। এরপরের তালিকায় আছে হাইসন্স, প্রিমিয়ার, হুসেইন ইব্রাহিম, মুন্নু, মাওলা বখশ, আদম, এ কে খান, গনি, রঙ্গনওয়ালা, হরিজনস, শফি, ফকির চাঁদ, হাশেম, দাদাভাই, শাহনেওয়াজ, ফাতেহ, নুন, হতি, দোস্ত মোহাম্মদ এবং ফারুখ।

১৯৯০ সালে চিত্রটা অবশ্য এমন ছিল না। তখন এক নাম্বারে ছিল হাবিব আর দুই নাম্বারে ক্রিসেন্ট। তখন দাউদ ছিল তিন নাম্বারে। বাওয়ানী ছিল ১২ নাম্বারে। আর আদমজী ১৩ নাম্বারে।

১৯৯৭ সালের চিত্রটা আবার ভিন্ন। এক নাম্বারে নিশাত। দুই নাম্বারে সায়গল। তিন নাম্বারে ক্রিসেন্ট। বাওয়ানি তখন ২৬ নাম্বারে।
পাকিস্তানের সুপার ধনী পরিবারগুলোর বেশিরভাগের সত্তরের দশকে করাচিতে ছিল। তারপর পাঞ্জাব। ১৯৯৭ সালে এসে চিত্রটা বদলে যায়। বেশিরভাগ পাঞ্জাবের আর এরপর করাচি। তবে ১৯৭১ সালের আগে ও পরে উত্তর-পশ্চিম ফ্রন্টিয়ার প্রদেশ তিন নাম্বারে রয়েছে।

পাকিস্তানে ব্যবসায়ীদের বড় শত্রু হলো আমলারা।

(চলবে)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s