পুরুষের পরকীয়া


vllkyt2oj32efft9j.r800x600.1d8c1f67পরকীয়ায় পুরুষের আগ্রহ একটু বেশি। বিদেশী পত্র-পত্রিকা ও গবেষণাতে তেমনটাই জানা যায়। গরিব থেকে ধনী, রাজা থেকে উজির সে যদি পুরুষ হয় তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন পরকীয়া করছে কি না? পরিসংখ্যান মতে, পরকীয়াতে লিপ্ত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবাই পুরুষ। তবে এ ব্যাপারে কারো কারো যুক্তি হলো, পৃথিবীতে পুরুষ প্রেসিডেন্টের সংখ্যাই বেশি। আর সেকারণে প্রেসিডেন্ট পরকীয়াতে লিপ্ত হলে তিনি পুরুষ হবেন সেই সম্ভাবনাই বেশি। অকাট্য যুক্তি।

তবে আমার এই লেখা যারা পড়ছেন তারা তো আর প্রেসিডেন্ট নন। সবাই যে পুরুষ সেটাও নয়। পাঠক হিসেবে আপনার কি মত? চেনা জানার মধ্যে একটি তালিকা তৈরি করে দেখবেন না কি পুরুষ না নারীর সংখ্যা বেশি? তবে নারী হোক আর পুরুষ হোক একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়- মানুষ কেন পরকীয়ায় লিপ্ত হয়? ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম, মানুষের পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার গ্রহণযোগ্য কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও পরকীয়ায় লিপ্ত আপনার পরিচিতদের কাছে আপনি হাজারটা ব্যাখ্যা পাবেন। আপনাকে তারা কনভিন্স করিয়ে ছাড়তে চাইবে যে, তারা যে পরকীয়া করছে সেটা করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোন রাস্তা খোলা ছিল না!

আপনি তাদের কথা বিশ্বাস করবেন কিনা সেটা আপনার নিজস্ব ব্যাপার। তবে পরকীয়া সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবন এমনকি ব্যক্তি জীবনের জন্য ভালো কোন কিছু নয়। এটা সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। তারপরও আপনি দেখবেন যে, আমাদের দেশের নাটকগুলোতে আজকাল পরকীয়ার গল্প নির্ভরতা বাড়ছে। এটা ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের নাটক নির্মাতারা সহজ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমাদের নির্মাতাদের মেধা থাকলেও তারা ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর আগ্রাসনে মেধাশূণ্য হয়ে পড়ছে কি না সেই প্রশ্ন করা যেতেই পারে। তারা এখন কাট পেস্ট করতে ব্যস্ত। কারণ তাতে বাজার পাওয়া যায়। পকেটে দু’টা পয়সাও আসে। বাংলাদেশের তথাকথিত মেধাবী সাংস্কৃতিক কর্মীদের একাংশ এভাবেই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করছে। দেশে এখন ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যেকোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এফএম রেডিওগুলোতে এখন বাংলা গানের সঙ্গে প্রায় সমানতালে হিন্দি গান বাজানো হয়। যাই হোক। পরকীয়ায় ফিরে যাই।

দেশ হিসেবে পরকীয়াতে এগিয়ে আছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের পরকীয়ার গল্প শুনে শুনেই বড় হয়েছেন এমন লোকের অভাব নেই বাংলাদেশে। কারণ গত কয়েক দশক ধরে যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হচ্ছে তারই পরকীয়ার গল্প আছে। ফ্রান্সে পরকীয়া অনেকটা ডাল ভাতের মতো। যেকারণেই বোধহয় ফ্রান্সের জনগণ পরকীয়ার ব্যাপারে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সহনশীল মনোভাব দেখিয়ে থাকেন।

তুরস্কের ৯৪, ইন্দোনেশিয়ার ৯৩, পাকিস্তানের ৯২ কিংবা চীনের ৭৪, রাশিয়ার ৬৯ ভাগ মানুষ যেখানে পরকীয়াকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে সেখানে ফ্রান্সের মাত্র ৪৭ ভাগ মানুষ এটাকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে। বিশ্বে এটাই সর্বনিম্ন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মিতেঁরার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানা যায় তার মৃত্যর পর অন্তষ্টিক্রিয়াতে যখন তার প্রেমিকার ঘরে জন্ম নেয়া কন্যা এসে হাজির হলো। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের পরকীয়ার গল্প আরো অনেক পুরনো। নেপোলিয়নও পরকীয়াতে ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।

তবে পরকীয়া যে একটি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ব্যবসা হতে পারে সেটাও প্রথমে ভাবতে পেরেছিলেন একজন পুরুষ। তিনি হলেন নোয়েল বিডারম্যান। যাকে বলা হয় ব্যভিচারের রাজা। তিনি বিবাহিত ‘অসুস্থ’ মানুষদের জন্য তৈরি করলেন একটি ওয়েব পোর্টাল। যেখানে তিনি শ্লোগান হিসেবে ব্যবহার করলেন, ‘লাইফ ইজ শর্ট। হ্যাভ অ্যান এফেয়ার।’ তার এই বুদ্ধি কাজে লাগল। তার এই ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বিবাহিতরা যোগ দিতে পারে।

২০০১ সালে ওয়েব পোর্টালটি চালু হওয়ার পর ২০১৩ সালের মধ্যে ৩০টি দেশের ২ কোটি ২০ লাখ বিবাহিত এর গ্রাহক হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে ১১টি ভাষা রয়েছে। এটি একটি অনলাইন ডেটিং সার্ভিস এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস। আগেই বলেছি টার্গেট জনগোষ্ঠী হলো বিবাহিত নারী পুরুষ। যে ৩০টি দেশের মানুষ এখানে নিবন্ধিত তারা হলো উত্তর আমেরিকার কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো; ইওরোপের যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানী, অস্ট্রিয়া, সুইটজারল্যান্ড, স্পেন, ডেনমার্ক, ইটালি, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, গ্রীস, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে; এশিয়ার জাপান, হংকং; এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে। ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে এদের সার্ভিস চালু হওয়ার কথা থাকলেও সিঙ্গাপুরের মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ব্যভিচার বাড়া ও পারিবারিক মূল্যবোধ কমার আশঙ্কায় কথা জানিয়ে অনুমোদন দেয়নি। এই ওয়েবসাইট নিয়ে অনেক গল্প আছে সেসব আলাদা লেখার বিষয় এখানে না বলি।

শেষ কথাটি বলি। পরকীয়া মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখা। এবং বিস্তার করা। যে ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে পরকীয়া দেখানো হয় সেটা কিন্তু ভারতের নিজেদের সংস্কৃতি নয়। তারা এটা তৈরি করেছে রপ্তানী করার জন্য। নিজেরা চর্চা করার জন্য নয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির কোন স্থায়ী কাঠামো দেখা যায় না। কেমন যেন একটা ভাসমান অবস্থা বিরাজমান। আমাদের একটি টেকসই ও নির্ভরযোগ্য সাংস্কৃতিক আদল থাকা দরকার।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s