মিশন থ্রি টু নাইন-১


আগামীর বাংলাদেশ

আগামীর বাংলাদেশ

দুর্ঘটনাটা ঘটেই গেল। ক্রিকেট মাঠে ফিল্ডার হাত থেকে ছুটে যাওয়া বল আবার ধরার জন্য যেভাবে প্রাণপন চেষ্টা করে, আমিও সেভাবে চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। মাটি থেকে মোবাইল ফোনটা তোলার পর দেখি স্ক্রীণে অসংখ্য চিড় ধরেছে। ভেঙ্গে পড়ার অপেক্ষায়!! মনটা তখনো পুরোপুরি খারাপ হয়নি। আসলে খারাপ করার মতো সময় পাইনি। যারা ঢাকার সদরঘাটে গিয়েছেন তারা দেখে থাকবেন লঞ্চ ছাড়ার পর নৌকা নিয়ে কিছু যাত্রী লঞ্চের পিছু নেয়। এদের কেউ কেউ হয়তো টার্মিনালেই দাড়িয়ে ছিল। অন্যের সঙ্গে কথা বলছিল। কিংবা এটা ওটা কিনছিল। লঞ্চ ছাড়ার পর হুশ হয়েছে। আমার বেলায় আজকের ঘটনাটা প্রায় কাছাকাছি কিছু। আমার হাতে তখন আর চার মিনিট। চেক ইন করে উঠে না পড়লে পরে আর নৌকা নিয়ে উড়ালও দেয়া যাবে না। এদিকে চেক ইনের জন্য নেভির বড় একটা লাইন তৈরি হচ্ছে। ওদেরকে পাশ কাটাতে গিয়ে হাতের ফোনটা ওদের একজনের বুট জুতায় পড়ল। ভাগ্যিস মাড়িয়ে দেয়নি।

বৃষ্টি ভোরবেলাতেই জ্যাম লাগিয়ে দিয়েছিল। বিপত্তির শুরু সেখান থেকেই। এখন ফোনটা যদি কাজ না করে বড় ধরনের সমস্যা হবে। কারণ মিশন থ্রি টু নাইনের বড় অংশ জুড়ে মোবাইল ফোনের ভূমিকা আছে। বলতে পারেন পদে পদে মোবাইল ফোনটা লাগবে। তাই যখন দেখলাম টাচ স্ক্রীণটা কাজ করছে মনটা সূর্য়ের আলোর মতো ঝলমল করে উঠল। এদিকে সতের হাজার ফুট উচ্চতায় ঢাকার মন খারাপ করা আকাশের বিদায় ঘটেছে, সূর্য়ের মিষ্টি আলোর ছটা উড়োজাহাজের ছোট জানালা গলে লায়লা আপার কোলে পড়েছে। শেয়ার টিম লিডার আলম স্যারও সূর্য়কে স্বাগত জানালেন। আজকের দিনটা সবচেয়ে খারাপ ছিল বোধহয় তার!

চট্টগ্রামে হোটেলে পৌঁছে প্রথমেই খোঁজ নিলাম চট্টগ্রামের কোথায় টাচ স্ক্রীণটা পাল্টানো যাবে। রিসিপশনের ভদ্রলোক হাত তুলে দেখিয়ে দিলেন সানমার ভবন, বললেন ওখানের পাঁচ তলাতে খুব ভালো একটা দোকান আছে। জেনুইন জিনিস পাওয়া যাবে। দাম কিছুটা বেশি হলেও ওখান থেকেই নেয়া ভালো। তারপর নিজের আই ফোনটা দেখিয়ে বললেন, ওটার স্ক্রীণও ওখান থেকে কেনা। আরও বললেন ওরা দু’মিনিটেই কাজটা সেরে দেবে।

তিনজনের টিমে নিজের জন্য আলাদা করে দু মিনিট বের করাটা কঠিন। খুব সাবধানে দরকারি দুয়েকটা ফোন সেরে নিলাম। এখন দ্রুত বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো দরকার। প্রথম গন্তব্য ওডেব অফিস, চান্দগাঁও। এরপর একে একে পশ্চিম বাকলিয়া, বগারবিল, শমসের পাড়া হয়ে ইপসা অফিস। ফুরুৎ করে দিনটা চলে গেল। হোটেলে যখন ফিরলাম তখন সাড়ে ছয়টা বাজে। লিফটে সাত তলায় উঠতে উঠতে কথা হলো রিভিউ মিটিং ও ডিনার একসঙ্গে হবে। সময় ঠিক করা হলো সাড়ে সাতটা। এদিকে আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে দুই মিনিটে ফোন ঠিক করার বিষয়টি। হাতে সময় এক ঘণ্টা। গোসল করাও দরকার। প্রথমে গোসলটা সেরে যখন সানমার ভবনের সামনে পৌঁছলাম তখন ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘরে। মার্কেটের সামনের সিড়িতে অনেক মানুষ বসে আছে সিড়িতে, সামনে লোকজন দাঁড়ানো। আর ভবনের মূল ফটক আটকানো। পুরো জায়গাটা অন্ধকার। আশাহত হলাম। এতো তাড়াতাড়ি মার্কেট বন্ধ হয়ে গেল? একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। বলল, তিনি ঠিক শিওর নন তবে সম্ভবত আজকে ওই মার্কেটের হলিডে। হয়তো। তাহলে আমার ফোনের কি হবে? তাকেই জিজ্ঞাসা করলাম কাছে ধারে ফোন ঠিক করার কোন দোকান আছে কিনা? পরামর্শ দিলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারে যাওয়ার। কতোদূর হতে পারে? রিকশায় যেতে কতোক্ষণ লাগতে পারে? রিকশা ভাড়া কতো হবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে রওয়ানা হলাম। ফোনে টিম মেম্বারদের একজনকে জানিয়ে দিলাম আমার আসতে ৮টা বেজে যাবে। তারা যেন আলোচনা শুরু করে দেন।

যা জেনেছিলাম তারচেয়ে রিকশা ভাড়া যেমন ১০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। সময়ও লেগে গেছে অনেক বেশি। তারপর রিকশাওয়ালা আমাকে যেখানে নামিয়ে দিয়ে মোবাইল মার্কেটের রাস্তা দেখিয়ে দিল সেখানে পৌঁছতে আরো বেশি কিছুটা সময় লেগে গেল। নিচতলার দোকানদারদের অসহযোগিতায় সময় ক্ষেপন হতে লাগল। শেষ পর্য়ন্ত একটা চিপা সিড়ি দিয়ে উঠে দেখি বড়সড় মোবাইল মার্কেট। এক দোকানে টাচ প্যানেল পাওয়া গেল। দাম বলল, ১২ হাজার টাকা। আমি মোটামুটি জানি যে, এটার দাম গুলশানে হাজার খানেক টাকা হবে। আমার তখন মনে হলো প্রটেক্টর লাগিয়ে আপাতত চিড় ধরা স্ক্রীণের ভেঙ্গে পড়া রোধ করা দরকার। এবার প্রটেক্টর খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গেলাম। ১৫/১৬ বছরের এক কিশোর দোকানদার। বলল, প্রটেক্টর হবে তবে পাঁচ মিনিট বসতে হবে। তাদের অন্য দোকান থেকে এনে দেবে। আমি বললাম, ৫ মিনিটের বেশি নিয়েন না আমার তাড়া আছে। বলল, দেরি হবে না। তবে দাম দিতে হবে ৬০ টাকা। আমি বললাম অসুবিধা নেই। দেব। ছেলেটা প্রটেক্টর আনার পর লাগিয়ে দিতে বললাম। লাগাতে গিয়ে যখন সে দেখল যে স্ক্রীণ ফাটা। বলল, ফাটা তো আগে দেখিনি।

কৌতুহল বশত জিজ্ঞাসা করলাম, আগে দেখলে কি হতো?

(চলবে….)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s