মেয়েটির নাম ছিল বৃষ্টি!


মৌচাকের চাংপাই রেস্তোরায় খেয়ে বাড়ির পথে! মালিবাগ মগবাজারের রাস্তার কোন এক জায়গায় চলন্ত রিকশায় আমাদেরকে ক্যামেরাবন্দী করার কৃতিত্ব শামীমের।

মৌচাকের চাংপাই রেস্তোরায় খেয়ে বাড়ির পথে!
মালিবাগ মগবাজারের রাস্তার কোন এক জায়গায় চলন্ত রিকশায় আমাদেরকে ক্যামেরাবন্দী করার কৃতিত্ব শামীমের।

সময়টা নব্বই দশকের প্রথমভাগ। আমার বউ তখনও আমার বউ নয়! চন্দ্রিমা উদ্যানে কথা হচ্ছে। ‘শোনো আমি এক মেয়েকে ভালোবাসতাম।’ দেখলাম তার সুন্দর চোখে রাজ্যের বিষ্ময়। গলায় যতোটা সম্ভব আবেগ এনে বললাম, ‘মেয়েটির নাম ছিল বৃষ্টি।’ আমি থামলাম।

বৃষ্টি তার ও আমার দু’জনেরই প্রিয়। আর আমি যাকে ভালোবাসতাম তার নাম কিনা বৃষ্টি। তার চোখে মুখে আরো শোনার আগ্রহ। আমি চুপ করে আছি। সময় বোধহয় খুব একটা পার হয়নি। কিন্তু দু’জনের কাছেই মনে হচ্ছিল দীর্ঘ নীরবতা। প্রেমের ছয় মাস না যেতেই প্রেমিকের কাছে একি কথা শুনছে প্রেমিকা। আমি তার মনের কথা পড়ার চেষ্টা করছি। মনে হলো ডোজটা বেশিই হয়ে গেছে!! একসময় সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তারপর’।

‘মেয়েটা মারা গেছে।’

‘কিভাবে?’

‘তাতো জানি না!’

হাহাহহাহাহাহা।

বিয়ের পরও ঢাকা শহরে বৃষ্টিতে ঘণ্টা চুক্তিতে রিকশায় ঘুরেছি। বৃষ্টিতে ফুটপাথ ধরে লক্ষ্যহীন ঘুরে বেড়িয়েছি। এই শহরে এখনো আমি বৃষ্টি পাই। বৃষ্টি দেখি। মন আকুলি বিকুলি করে বের হয়ে পড়তে। সময়েরও কোন অভাব নেই। কিন্তু এই শহরে এখন বৃষ্টিতে মনের আনন্দে হেটে বেড়ানোর মতো ফুটপাথ আছে কি?রাস্তাগুলোতে যেভাবে সুয়েরেজের পানির দেখা মেলে তাতে বৃষ্টিতে হাটার আনন্দ নেয়ার কথা আপনি ভুলে যেতে বাধ্য।

তবে আল্লাহ বোধহয় কারো মনের বাসনাই অপূর্ণ রাখেন না। যদি নিয়ত ভালো হয়। আমার অফিসের কাজের ঘরটা ছয় তলায় হওয়ায় এবং রুম লাগোয়া বারান্দার বাইরে বড় বড় কয়েকটা গাছ থাকায় বাইরে ধুম বৃষ্টি ও আকাশের রং বদলানো আমি ঠিকই দেখতে পাই। গাছের ঘন পাতায় বৃষ্টির পানির শব্দটা মন্দ নয়। কান পাতলে শুধু বৃষ্টির পানির নিজেদের মধ্যেকার ঘর্ষণের শব্দও শোনা যায়। এই রকম দিনে কাচের জানালা আটকিয়ে এসি রুমে বসে না থেকে আমি সব খুলে দেই। ভালোই লাগে। বাসায় আমি একই সুবিধা ভোগ করি দোতলায় বসে। এই শহরে এখনো কিছু গাছ আছে। সেটাই ভরসা।

Advertisements

One thought on “মেয়েটির নাম ছিল বৃষ্টি!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s