ইডেন কলেজের ঢাকাইয়া বন্ধুরা


আজকের পেপারের গুরুত্বপূর্ণ খবরটি হলো শামীম ওসমান। গত কয়েকমাস ধরেই নারায়গঞ্জের ওসমান পরিবার আলোচনায়। পুরো আলোচনাটাই রাজনীতিকেন্দ্রিক। সেই আলোচনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করল বন্ধু পান্না। অনেকদিন পরে শুক্রবারে খাবার টেবিলে পান্নার সঙ্গে দেখা। খিচুরি খেতে খেতে পান্না তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গল্প শুরু করল। পত্রিকায় ওসমান পরিবার থাকায় শুরুটা হলো সেই পরিবার নিয়ে। বলল, ওর এক কলেজ বান্ধবীর বিয়ে হয়েছে ওসমান পরিবারে। আর ওর বান্ধবীর স্বামী হলো ওসমান পরিবারের সবচেয়ে গুড বয়। ওর ওই বান্ধবীটি পুরনো ঢাকার। এরপর ওসমান পরিবার হারিয়ে গেলো আলোচনায় চলে এলো ইডেন কলেজে পান্নার ঢাকাইয়া বন্ধুদের নিয়ে টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণ।

ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট

প্রথমেই বর্ষা (ছদ্মনাম)-র কথা। বর্ষা ছিল ওর পরিবারের প্রথম মেট্রিক পাস মেয়ে। ওর মেট্রিক পাসের খবর শুনে বর্ষার ভাইয়েরা ওকে ১৮টা রিকশা কিনে দিয়েছিল। বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রিকশাগুলো কিনে দেয়া হলেও পরবর্তীতে বর্ষা ওর চলার জন্য একটা রিকশা ব্যবহার করত আর বাকিগুলোর জমার টাকা দিয়ে বন্ধু বান্ধবদের খাওয়াতো।

সুরঞ্জনা (ছদ্মনাম)-ও ওদের পরিবারের প্রথম মেট্রিক পাস মেয়ে ছিল। ওর পাসের খবর পাওয়ার পর ওদের দোতলা বাড়ি তিন তলা করা হয়েছিল আর ওখানে ও একা থাকত। বড় দুই ভাই থাকত দোতলায়। চারতলায় দোলনা বসানো হয়েছিল সেটাও সুরঞ্জনার জন্য। বাড়িতে মাস্টার রাখা হয়েছিল গান শেখানোর জন্য। তবে মহিলা গানের মাস্টার রাখা হযেছিল। কারণ সুরঞ্জনা দেখতে অনেক সুন্দরী ছিল।

পান্না বলল, ওর দেখা মতে পুরনো ঢাকার মেয়েদের পুরুষের সঙ্গে মেশার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল পরিবারের দিক থেকে। তবে সেই কড়াকড়ি কিভাবে ফাঁকি দিতে হয় সেটা ওর বান্ধবীরা খুব ভালো জানত।

কিশোরী (ছদ্মনাম)-কে ওর বাবা কলেজে নামিয়ে দিত। মেয়ে গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার পর ফিরে যেত। আর কিশোরী বাবার কাছে বই বা খাতা আছে বলে গেট থেকে বের হয়ে কিছুদূর হেটে দিয়ে প্রেমিকের মোটর সাইকেলে উঠে বসত। এমনটা মাঝে মাঝেই সে করত।

টাকা পয়সা দেয়ার ব্যাপারে পুরনো ঢাকার বন্ধুদের পরিবার অনেক উদার ছিল। হয়তো কিছুটা বোকাও। যেমন, মৌ প্রতিমাসে কলেজের বেতন বাবদ বাড়ি থেকে ৩০০০ টাকা আনত। অথচ তখন কলেজের বেতন ছিল মাত্র ১২ টাকা। মৌয়ের বাড়ির কেউ কখনো জানতেও আসেনি কলেজের বেতন কতো। এই মৌ একদিন পান্নার বাড়িতে গিয়ে অবাক হয়ে বলেছিল- এই তোর দাদী পেপার পড়ে? পান্না অবাক হয়েছিল ওর চেয়েও বেশি। এটা আবার প্রশ্ন হলো। তখন পান্না জানতে পেরেছিল যে, মৌদের বাড়িতে পেপার রাখা হয় না।

ঢাকাইয়া পরিবারের সুন্দরীদের পরিবারের মধ্যেই বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতো। খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই এদের সঙ্গে। রোকসানা (ছদ্মনাম) ছিল অপূর্ব সুন্দরী। দুয়েকটা প্রেমও করত। কলেজ ফাঁকি দিতো। ওর ফুফু তার ফোর পাস ছেলের সঙ্গে রোকসানাকে বিয়ে দিতে চাইছিল। কথা ছিল এক পাল্লায় রোকসানা উঠবে আর অন্য পাল্লায় সোনা দেয়া হবে। যতো সোনা সবই হবে রোকসানার। কিন্তু রোকসানা রাজী হয়নি। শেষ পর্যন্ত রোকসানার বিয়ে কোথায় হয়েছিল জানা হয়নি। তবে রোকসানা কলেজের পড়া শেষ করেনি।

আরেকবার পান্না গিয়েছিল এক বন্ধুর বাসায়। সেদিন কলেজ কি কারণে যেন আগেভাগে ছুটি হয়ে গিয়েছিল। ওরা যখন মিনুদের বাসায় গেল তখন বেলা ১১টা। তখনও বাসার সবাই ঘুমাচ্ছে। ওরা যাওয়ার পর বাসায় পরোটা, ভাজি, ডিম সিদ্ধ, পায়া, রুটি, বুন্দিয়া, মিষ্টি আরো অনেক খাবার কিনে আনা হলো। এমনকিও চা কিনে আনা হলো। যা পান্নার কাছে অবিশ্বাস্য লেগেছিল।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s