স্মার্ট মুসলমান হওয়ার ৫ ‍উপায়


বাজারে ফর্সা হওয়ার ক্রিম পাওয়া গেলওে স্মার্ট হওয়ার কোন ক্রিম নেই। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের শহর গ্রামের কোটি কোটি মেয়েকে টার্গেট করে ফর্সা হওয়ার ক্রিম বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত তারা স্মার্ট হওয়ার কোন ক্রিম, লোশন কিংবা সাবান তৈরি করতে পারেনি। বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্টিমারে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা হারানো যৌবন ফিরিয়ে দেয়ার সন্ধান পাওয়া গেলেও সেখানেও স্মার্ট হওয়ার কোন উপায়ের কথা জানানো হয় না। রাস্তার ধারে ক্যানভাসার সব সমস্যার সমাধান দিলেও স্মার্ট হওয়ার কোন উপায় বলে না। ভন্ড পীরদের আস্তানাতেও স্মার্ট হওয়ার কোন তরিকা দেয়া হয় না। দেশের সকল মানুষকে নসিহত করে যে টক শো ওয়ালারা তারাও আজ পর্যন্ত স্মার্ট হওয়ার তেমন কোন পরামর্শ দেননি। মোদ্দা কথা হলো স্মার্ট হওয়ার পণ্য এখনো বাজারে আসেনি। এই রকম একটা ভার্জিন সিচুয়েশনে যেসব মুসলমান ‘তথাকথিত’ স্মার্ট হতে চান, আই রিপিট তথাকথিত স্মার্ট হতে চান তাদের জন্য আমার এই লেখা। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে বলুন! বিফলে আপনার সময় ফেরত দেয়া হবে!!

উপায় ১:

মুসলমানদের স্মার্ট হওয়ার সহজ বুদ্ধিটি হলো ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে কথাবার্তা বলা। কিভাবে বলতে হবে সেটা ফেসবুক ও টুইটার ইত্যাদি ঘাটাঘাটি করলেই বুঝতে পারবেন। তবে আমি আমার পর্যবেক্ষন শেয়ার করতে পারি। ইসলামের বিরুদ্ধে যখন কথা বলবেন তার মধ্যে ৮০ ভাগ সত্য থাকবে। আর বাকি ২০ ভাগ মিথ্যা কায়দা করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। যাতে করে সত্যের সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যাটাও সত্য বলে মনে করা হয়। যেহেতু ব্যস্ত জীবনের কারণে বেশিরভাগ মুসলমান কোরআন হাদিস পড়তে পারে না ফলে আপনার স্মার্ট হওয়ার জন্য বলা মিথ্যা সহজে কেউ বুঝবে না। এই উপায়টির কার্যকারিতা বোঝার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। দেখবেন আপনার সাধারণ স্ট্যাটাসে যেখানে ১০টা লাইক পড়ে। সেখানে এই ধরনের স্ট্যাটাসে ১০ গুণ বেশি লাইক হচ্ছে।

উপায় ২:

দ্বিতীয় উপায়টিও ইসলামকে আক্রমণ করার মধ্যে সীমিত। তবে এক্ষেত্রে ৮০/২০ থিওরি নয়। এটি হলো অল আউট থিওরি। এখানে গুরুত্ব দিতে হবে আমেরিকা, ভারত, কিংবা এমন রাষ্ট্রগুলো কি বলছে তার উপর। যেমন: ইসলাম মানেই সন্ত্রাস আর সন্ত্রাস মানেই ইসলাম এমন একটি ধারণা আমেরিকা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু করেছে। ভারতসহ আমেরিকার বিশ্বস্ত রাষ্ট্রগুলো এমনকি আরব বিশ্বের কতিপয় দেশ পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে শামিল হয়েছে। বুঝতেই পারছেন আমেরিকা মানেই স্মার্টদের দেশ। আর তাদের হয়ে কথা বলতে পারাটাও স্মার্টনেস।

উপায় ৩:

তিন নাম্বার উপায়টি একটু ভিন্ন ধরনের। মাদ্রাসা শিক্ষা ও এখানকার শিক্ষক ও ছাত্রদের হেয় করে কথা বলতে হবে। দাঁড়ি টুপিকে অনাধুনিক বলে প্রচার করতে হবে। এমনকি দাঁড়ি যারা রাখে কিংবা টুপি যারা পড়ে তারা মানবতার বিরোধী এমন একটা মনোভাব দেখাতে হবে। এমনভাবে বলতে হবে যেন একাত্তরে ক্লিন সেভ কোন রাজাকার ছিলো না।

উপায় ৪:

সবসময় নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিনাবাক্যব্যয়ে অবস্থান নিতে হবে। অনেকটা রাস্তায় গাড়িকে রিকশাওয়ালা গুতা মারলেও গাড়িওয়ালার দোষ দেখার মতো করে দেখতে শিখতে ও বলতে পারতে হবে। যদি দেখেন কেউ সত্যটা তুলে ধরতে চাচ্ছে তাৎিক্ষণিকভাবে তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে সবসময় সত্য প্রকাশ করার চেষ্টাটা আসলে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। নারীকে দমানোর অপচেষ্টা। সংখ্যালঘুদের কোনঠাসা করার প্রয়াস।

উপায় ৫:

বইয়ের উপর চায়ের কাপ রেখে চা খাওয়াটা প্রচলিত না হলেও তসলিমা নাসরীনের মতো করে কোরআন শরিফের উপর চায়ের কাপ রেখে মাঝে মাঝে চায়ের কাপে চুমুক দেয়াটা প্রগতি; একথা নিজে বিশ্বাস করতে হবে আর অন্যকে জানাতে হবে।

শেষ কথা: যারা তথাকথিত স্মার্ট হওয়াটাই জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন তাদের জন্য নদীমাতৃক এই দেশে নদীভর্তি করুণা রইল।

পল্লবী।। ৩ অক্টোবর।। ২০১৪।।

3 comments

  1. অসাধারণ লিখেছেন। আফসোস এই যে, যাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই লেখা তারা এটা পড়বে না, পড়লেও চরিত্রটা পাল্টাবে না। আসলে ওদের চরিত্র এরকমই। বস্তুত এরা ভন্ড এবং ভন্ডামিই এদের পেশা।

    • প্রথম কথা হলো আমি লিখি আমার নিজের জন্য। নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য। কেউ কেউ সেই লেখা পড়েন। মতামত দেন। কিংবা দেন না। সব লেখকই চায় তার লেখা মানুষ পড়ুক। কিন্তু কে পড়বে আর কে পড়বে না সেটা লেখক নিজেও জানে না। আর সেকারণেই আমি প্রথমত নিজের জন্য লিখি। আমি খুশি হয়েছি যে, তুমি পড়েছো। আরো কেউ কেউ পড়ছেন। লেখা দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক কারো চরিত্র বদলানোর চেষ্টা আমি কখনো করিনি এবং বিশ্বাস করি না যে সেটা সম্ভব। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের ইচ্ছায় চলে। বদলালে সে নিজের ইচ্ছায় বদলায়। হ্যা, লেখা কখনো কখনো তাকে পথ চলতে সহায়তা করে। বদলাতে উদ্বুদ্ধ করে। তোমাকে ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s