ইসলাম ধর্মকে আমি যেভাবে দেখি


আমার বাবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের কোন এক মুহুর্তে।

আমার বাবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের কোন এক মুহুর্তে।

আমার বাবা ইসলাম ধর্মের প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করতেন, আমি এমনটাই মনে করি। তিনি কখনো মানুষের অপকার করেননি। তিনি কখনো মানুষকে মানুষ ভিন্ন অন্য কোনভাবে দেখেননি। খেপুপাড়ার প্রবীণ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও মুসলমানরা এর বড় সাক্ষী। যারা পাকিস্তান আমল দেখেছেন। ৬২ ও ৭০ এর ঘূর্ণিঝড় দেখেছেন ও জলোচ্ছ্বাস দেখেছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখেছেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ দেখেছেন। তারা জানেন আবদুল হামিদ মুন্সী সেসময়গুলোতে মানুষের জন্য কি করেছেন। তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট তিনি যখন মারা গেলেন আমি দেখলাম খেপুপাড়ার মানুষ রাজনীতি ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর জন্য চোখের পানি ফেলল। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানালো। তিনি ইসলামকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন এবং সকল কাজে ইসলামের শিক্ষাকে প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি ইসলামকে মসজিদের ৫ ওয়াক্ত নামাজে সীমিত রাখেননি। তিনি ইসলামকে জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে ধারণ করেছিলেন। চিন্তার স্বচ্ছতা ও মানুষের কল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন যা ইসলামে বলা হয়েছে। তিনি সেভাবেই দান করতেন যে দানের কথা তার বা হাতও জানতো না।

আমার বাবা একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তার কতগুলো গুণ ছিল:

১. তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতেন। কার কি ধর্ম সেটি তার কাছে ছিল গুরুত্বহীন।
২. তিনি সদা সত্য কথা বলতেন।
৩. তিনি কাউকে ওয়াদা দিলে ওয়াদা রক্ষা করতেন।
৪. আমি কখনোই তার মুখে কোন গালি শুনিনি। তিনি কাউকে কটূ কথা বলতেন না।
৫. মানুষের বিপদে তিনি সবসময় এগিয়ে যেতেন। আগেই বলেছি তিনি মানুষকেই দেখতেন তার ধর্মকে নয়।
৬. তিনি যখন শালিস/বিচার করতেন সবসময় গোড়ার কারণটা ‍বুঝতে চাইতেন। তিনি কখনো মানুষের গায়ে হাত তুলতেন না। বরং মারামারি হলে সেটা যাতে আর না হয় সেজন্য কাজ করতেন।
৭. তার কাছে সমাজের তথাকথিত ধনীর বিশেষ কোন মর্যাদা ছিল না। কিংবা গরিবের আলাদা কোন শ্রেণী ছিল না। ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলেই তার কাছে যেতে সাবলীল বোধ করতেন।
৮. তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন এবং জনগণের প্রতি তাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য তা যুক্তি ও সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আদায় করিয়ে নিতেন। সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের আটকে থাকা কাজগুলো যাতে আটকে না থাকে সেলক্ষ্যে তিনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
৯. অর্থের অভাবে লেখাপড়া ও চিকিৎসা হচ্ছে না এমন ঘটনাগুলোতে তিনি সবসময় সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
১০. সমাজে অন্যায় ও অবিচারের বিস্তারে তিনি বিচলিত হতেন। সাধ্যমতো অবস্থার পরিবর্তনে তিনি কাজ করতেন।

আমার বাবা আমার আদর্শ। এবং আমি মনে করি ইসলাম ধর্ম যেভাবে জীবনযাপন করার কথা বলে আমার বাবা সেটাই করতেন। তিনি কখনো মানুষের অপকার করেননি। তিনি কখনো মানুষকে মানুষ ভিন্ন অন্য কোনভাবে দেখেননি। খেপুপাড়ার প্রবীণ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও মুসলমানরা এর বড় সাক্ষী। যারা পাকিস্তান আমল দেখেছেন। ৬২ ও ৭০ এর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেখেছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখেছেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ দেখেছেন। তারা জানেন আবদুল হামিদ মুন্সী সেসময়গুলোতে মানুষের জন্য কি করেছেন এবং তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট তিনি যখন মারা গেলেন আমি দেখলাম খেপুপাড়ার মানুষ রাজনীতি ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর জন্য চোখের পানি ফেলল। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানালো।

আমি সেই বাবার সন্তান হিসেবে যা কিছু শিখেছি তা দেখে, বুঝে ও উপলব্ধিতে নিয়ে শিখেছি। আমি সৌভাগ্যবান যে আমাকে মসজিদের বেতনভুক্ত ইমাম সাহেবদের কাছ থেকে কিংবা স্কুলের মুখস্ত পড়াতে অভ্যস্ত মৌলভী স্যারদের কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হয়নি।

আমার বাবা বিশ্বাস করতেন ইসলাম ধর্ম হলো মানুষের কল্যাণের ধর্ম। তিনি বিশ্বাস করতেন ইসলাম সত্য বলতে শেখায়। সহনশীলতা শেথায়। ওয়াদা রক্ষা করতে শেখায়। তিনি বিশ্বাস করতেন ইসলাম মানুষকে আশরাফুল মখলুকাত হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে শেখায়। তিনি ইসলামকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন এবং সকল কাজে ইসলামের শিক্ষাকে প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি ইসলামকে মসজিদের ৫ ওয়াক্ত নামাজে সীমিত রাখেননি। তিনি ইসলামকে জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে ধারণ করেছিলেন। চিন্তার স্বচ্ছতা ও মানুষের কল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন যা ইসলামে বলা হয়েছে। তিনি সেভাবেই দান করতেন যে দানের কথা তার বা হাতও জানতো না। বাবা মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে আমাকে শুনতে হয়েছে, তোমার কিংবা আপনার বাবা আমাকে সেই সময়ে বিপদে সাহায্য না করলে আজকে হয়তো আমার এখানে আসা হতো না। কিংবা আপনি বোধহয় জানেন না যে, ‘আমার বাবার মৃত্যুর পর সেই ক্লাস ফোর থেকে ঢাকা ই্উনিভার্সিটি পড়া পর্যন্ত সব খরচ আপনার বাবাই দিয়েছিলেন।’ এভাবেই আমি আমার বাবার আদর্শ বার বার অন্তরে ধারণ করেছি। এমন কথা শুনতে কোন সন্তানের না ভালো লাগে। আমাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কেউ বলেছেন, তোমার বাবা না থাকলে একাত্তরেই মারা যেতাম কিংবা ‘তোমার বাবার কাছে জমা রাখা সোনাদানা তিনি নিজে ৭১ সালের ডিসেম্বরে ফেরত দিয়েছিলেন এমন সোনার মানুষ হয় না।’ উপরে উল্লেখ করতে ভুলে গেছি মানুষের আমানতের বড় রক্ষক ছিলেন তিনি। তিনি সবাইকে বলতেন, আমানতের খেয়ানত করা বড় অন্যায় আর কারো বিশ্বাস কখনো ভাঙ্গবে না। খেপুপাড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডার মোয়াজ্জেম চাচা একবার বলেছিলেন, তোমার বাবার পাঠানো লোকমারফত সংবাদে অনেকবার আমরা ধরা পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম ১৯৭১ সালে।

আমার বাবা যেমন বলতেন ইসলাম ধর্ম পালন মানে দিনে শুধু ৫ বার মসজিদে যাওয়া নয়; কিংবা হজ্জ্ব করা নয়। ইসলাম ধর্ম পালন মানে নিজেকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করা। নিজের পরিশ্রম, সম্পদ, ক্ষমতা সকল কিছুকে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণে কাজে লাগানো।

ইসলামের মধ্যে কোন গোড়ামি নেই। প্রকৃত ইসলাম কোন গোড়ামিকে প্রশয় দেয় না। ইসলাম উদার ও শান্তির ধর্ম। ইসলাম মানুষকে আশরাফুল মখলুকাত ঘোষণা করেছে। ইসলাম ইহকাল ও পরকালের কথা বলে দিয়েছে। কি করতে হবে আর কি করা যাবে না তাও বলে দিয়েছে। সেসঙ্গে মানুষকে আশরাফুল মখলুকাত হিসেবে নিজের বিচার বুদ্ধি ও বোধকে ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। আর জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিয়েছে। জ্ঞানই মুক্তির সোপান, যা ইসলামে বারংবার বলা হয়েছে।

আমি সবসময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমি যেন নিজেকে আমার বাবার মতোই প্রকৃত ইসলাম চর্চায় নিয়োজিত রাখতে পারি। চিন্তা, চেতনা ও কর্মে যেন ইসলাম ধর্মের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারি।

আমি ইসলামকে এভাবেই দেখি।

পল্লবী।। ৪ অক্টোবর।। ২০১৪

Advertisements

2 thoughts on “ইসলাম ধর্মকে আমি যেভাবে দেখি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s