তারেক জিয়ার ডিম কমিশনের কথা মনে পড়লো আজ বিশ্ব ডিম দিবসে


তারেক জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি

তারেক জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি

তখন শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াসহ বড় বড় মানুষেরা সবাই বন্দী। অভিযোগ দুর্নীতির। ক্ষমতায় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দুর্নীতির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি বিএনপি-র নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। সাদা রংয়ের হাফ শার্ট পড়া সাধাসিধে চেহারার তারেক রহমানকে আমি অনেকবার দেখেছি। সেটা রাস্তায়। কাপড়ের দোকানে। ফুটপাথে। খাবারের দোকানে। কিংবা অন্য কোথাও। কিছু লোক আছে না যাদের চেহারায় শয়তানি সবসময় ফুটে থাকে তারেক রহমানকে সেই দলে ফেলা যাবে না। তারেকের চেহারায় সেই রকম কিছু না থাকলেও ওই সময়কার পত্র পত্রিকায় প্রতিদিন বড় বড় করে যা কিছু দুর্নীতির তথ্য ছাপা হচ্ছিল সেখানে সবচেয়ে বড় হিরো হিসেবে তাকেই দেখানো হচ্ছিল। সেসঙ্গে পাতি চোরা, বর্ণচোরা প্রমুখ ভিলেনদের শয়তান চেহারার ছবিও ছাপা হচ্ছিল।

আমার খুব জানার আগ্রহ হলো তারেক কতো বড় দুর্নীতিবাজ এবং তার দুর্নীতির কৌশলগুলো কি। যেহেতু পত্র পত্রিকায় ছাপা হচ্ছিল তারেক রহমান ও তার হাওয়া ভবন নিয়ে। আমি পত্রিকার সাংবাদিকদেরই জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলাম। কমবেশি সবার কথা হলো তারেকের মতো দুর্নীতিবাজ লোক এই উপমহাদেশে আর একটাও জন্ম নেয়নি। আর জন্ম নেবে কি না সেটাও সন্দেহের বিষয়। আমাদের দেশে দুর্নীতি মানেই আর্থিক দুর্নীতি (আমার কাছে অবশ্য আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে চিন্তার দুর্নীতি আরো বড় দুর্নীতি। তবে সেটা অন্য আলাপ।) । ফলে সাংবাদিকরা তারেক কতোবড় দুর্নীতিবাজ সেটা বোঝানোর জন্য আলোচনার এক পর্যায়ে একটা টাকার অঙ্ক উল্লেখ করত। কেউ বলত ২০ হাজার কোটি টাকা সে লোপাট করেছে। কেউ বলত ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সেটা ১০ হাজার কোটি টাকার নিচে কখনো নামেনি। আর উপরে সেটা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। একদিন একজন বলল, তারেক তার নিজ গ্রামেও অপছন্দনীয় কারণ তারেক বড়দের সম্মান দিয়ে কথা বলতে জানে না। পার্টির সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও তারেকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আছে। আমলাদের মধ্যেও এই অভিযোগ আছে। তবে সেসব অভিযোগে তো আর কাউকে দুর্নীতিবাজ বলা যায় না। ফলে, তার অর্থ চুরির বিষয়টিই প্রাধান্য পেল। ওই সময়ে কোটি কোটি টাকা দামের গাড়ি ফেলে পালানোর সংবাদ ছাপা হচ্ছিল পত্র পত্রিকায়। তবে সেসব গাড়ির মধ্যে তারেক জিয়ার কোন গাড়ি ছিল না। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন চুরির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের চুরির অভিযোগ প্রচার হতে লাগল।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের বাজেটের আয়তন ছোট ছিল। ২০ হাজার কোটি টাকা তখন অনেক টাকা। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি বলতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আমলের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিকেই বোঝাতো। ফলে এককভাবে তারেকের ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করার তথ্যটা অনেক বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। সেটা সত্য কি মিথ্যা সেনিয়ে কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেনি কারণ বাংলাদেশে ক্ষমতাবান মানেই অর্থ চুরি করবে এমন একটা ধারণা ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের মনে গেথে গেছে। এখন অবশ্য প্রমাণসহ চুরিতেও মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। যেমন মানুষ হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ প্রভৃতি হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট করছে যা আবার অর্থমন্ত্রী সামান্য টাকা বলে উল্লেখ করছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পরে রাজনৈতিক নেতাদের লুটপাট বোঝানোর জন্য লাখ কোটি টাকার গল্প না বললে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। কেউ আমলেও নিবে না। যাই হোক। যা বলছিলাম।

তারেক ২০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে কিন্তু কি কৌশলে সেটা আর কেউ বলতে পারে না। কেউ বলে খাম্বা বানিয়ে। কেউ বলে খাম্বার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকে  ১০ পারসেন্ট কমিশন নিয়েছে এমন তথ্য দিতে লাগল। স্পেশিফিক কিছু না। এই রকম আলাপের এক দিনে কোন এক সাংবাদিক আমাকে খুব স্পেশিফিক তথ্য দিলেন। সেটা হলো তারেক জিয়ার ডিম কমিশন। কিভাবে তাও বললেন। এখন সেটাই বলব।

সেই সাংবাদিক আমাকে তথ্য দিলেন যে, সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন যতো ডিম বিক্রি হয় তার প্রতিটি ডিম থেকে ২৫ পয়সা বা চার আনা তারেক রহমানের পকেটে যায়। তার দাবী মোতাবেক ওই সময়ে বাংলাদেশে ডিম বিক্রি হতো দিনে ১ কোটি। তার মানে তারেক প্রতি চার দিনে ১ কোটি টাকা ডিম কমিশন বাবদ আয় করত। মাসে সাড়ে সাত কোটি টাকা। বছরে ৯০ কোটি টাকা। তিনি আমাকে প্রক্রিয়াটাও বললেন। প্রক্রিয়াটি হলো মুরগির খাদ্য আমদানী করে যারা তাদের কাছ থেকে তিনি টাকাটা আদায় করে নিতেন। খাদ্য আমদানীকারকরা মুরগির খাবারের দাম বাড়িয়ে সেটা জনগণের পকেট থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করতেন।

আমি সেই সাংবাদিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা তো তেল, ডাল, চিনি, লবণ সবকিছুর দাম বাড়িয়েই করা হয়। সব সরকারের সময়ই সবাই করছে। অনেকেই তো এটাকে ব্যবসার কৌশল বলে। তারেক জিয়ার সময় এটা লুটপাট বলা হচ্ছে কেন? সেই সাংবাদিক আমার এমন বোকা প্রশ্নে প্রথমে বিরক্তি প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে মুচকি হেসেছিল। তার কাজের চাপ আছে শুনে আমি সেদিন আরেক কাপ চা না খেয়েই বিদায় নিয়েছিলাম।

Advertisements

One thought on “তারেক জিয়ার ডিম কমিশনের কথা মনে পড়লো আজ বিশ্ব ডিম দিবসে

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s