বোরকা কেন? এবং মাদক যায় কই?


সূত্র: ইন্টারনেট

সূত্র: ইন্টারনেট

ভয়ানক অপরাধ থেকে বাঁচার কৌশল হিসেবে বোরকা ব্যবহার ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বলতে পারেন দেশের লাখ লাখ মেয়ে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে বোরকা ব্যবহার শুরু করেছে। বিশ্বাস না করলে আপনি আপনার চেনা জানা বোরকা ব্যবহার করে এমন কিশোরী ও তরুণীদের জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। শিবলী বলছিল সে যখন ১০ বছর আগে কুয়াকাটায় গিয়েছে তখন যতো বোরকা পরা মেয়ে ছিল এখন তারচেয়ে কমপক্ষে দশগুণ বেড়েছে। আগে যদি স্কুলগামী ১০টি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়ে বোরকা পরা দেখা যেতো এখন ১০টি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়েকে পাওয়া যায় বোরকা ছাড়া। এই মেয়েদের বেশিরভাগ মনের আনন্দে কিংবা ধর্মীয় কারণে বোরকা নয় বরং বখাটে ছেলে আর পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি আর শারীরিক আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বোরকা পড়ছে। সেখানেই শেষ নয়। মাথা নিচু করে তারা স্কুলে যায়। প্রতিবেশীর বাড়ি যায়। কিংবা বেড়াতে যায়। স্বাধীন দেশে মেয়েদের এমন পরাধীন জীবন কেন সেই প্রশ্নটি শিবলীর। তবে তার একার নয়। আমারও। কেন আমাদের মেয়েদেরকে এরকম পরাধীন জীবন যাপন করতে হবে। একটি মেয়ে স্বইচ্ছায় যদি বোরকা পড়ে সেটা ধর্মীয় কারণে কিংবা তার ভালো লাগা থেকে সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু একটি স্কুল বয়সী একটি মেয়েকে কেন বোরকা পড়তে হবে শুধুমাত্র সামাজিক চাপে পড়ে? তাহলে সে কোন রাষ্ট্রে বাস করছে? এটা কি মুগের মুল্লুক?

কিছুদিন আগে সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে ১৬ করার কথা ভাবছে বলে পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল কারো কারো বক্তব্যেও বখাটেদের উৎপাতের বিষয়টি চলে এসেছে। এ যেন মাথাব্যথার জন্য মাথা কাটার মতো বিষয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বখাটেদের উৎপাত পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকেও যৌন হয়রানির ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরিতে মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এযেন গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি দেওয়ার মতো ব্যাপার। আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়ে পরিচিত নেতা কর্মীদের সন্তান ও আত্মীয়স্বজনরাই ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত বখাটেপনা করছে। পত্র পত্রিকায় তাদের নাম ধাম ও পরিচয়ও কখনো কখনো ছাপা হচ্ছে। এলাকাবাসীদের কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করলে তাকে মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে। বখাটেদের শায়েস্তা করা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাজ। তাদেরকে তাদের কাজ করতে না দিয়ে নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেয়ার ‘পায়তারা’ করছে।

শিবলী বলছিল তার মেয়েদেরকে যদি বখাটেদের উৎপাতের কারণে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বোরকা পড়তে হয় তাহলে এই দেশকে সে নিকুচি করে এমন দেশে চলে যাবে যেখানে তার মেয়েরা তাদের ইচ্ছায় পোশাক পড়তে পারবে। শিবলী এটা বিরত্ব দেখানোর জন্য বলেনি। তীব্র রাগ ক্ষোভ থেকে বলেছে। আমি বলব না শিবলী অসহায়ত্ব থেকে বলেছে কারণ শিবলীর যে পরিচয় সেই পরিচয়ে অসহায়ত্ব থাকতে পারে না। আমার খারাপ লেগেছে শিবলীর মতো একজন দেশপ্রেমিক মানুষকে যদি সামান্য বখাটেদের কারণে দেশ ছাড়ার কথা বলতে হয় (যদিও এটা সে কখনো করবে না) তাহলে এই দেশের শাসক যারা নিজেদের দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতার সোল এজেন্ট বলে দাবী করে তারা এর কি জবাব দেবে?

শিবলী প্রসঙ্গক্রমে মাদকের কথাও বলল। মাদকের ব্যবহার যে দেশজুড়ে বেড়েছে এবং গ্রাম পর্যন্ত ছোবল হানছে গত কয়েক বছর ধরে সেটার তীব্রতা দিনে দিনে বাড়ছে তা পত্র পত্রিকার খবরে জানা যায়। শিবলী মনে করে দেশের এক তৃতীয়াংশ ছেলেমেয়ে মাদক ব্যবহার করছে। ধূমপায়ী বেড়েছে আরো কয়েকগুণ। শিবলী মনে করে এবিষয়গুলো নিয়ে আরো ব্যাপকভাবে জরিপ ও গবেষণা হওয়া দরকার। তার মতে, বখাটেপনা বাড়ার এটাও একটা কারণ। শিবলীর মতে, কাচা টাকা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে গঞ্জে।

সজলের সঙ্গে কথা হচ্ছিল বিষয়টা নিয়ে। সে জানাল তিনদিন আগে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জানতে পেরেছে বেক্সিমকো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের ওখানে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেজে গুজে আসা ছেলেদের ভীড় জমে আড্ডা চলে। মেয়েদেরও দেখা যায়। তাদের সঙ্গী হয় নানান ধরনের মাদক। সারারাত মাদক সেবন করে ওই ছেলেমেয়েরা দিনে পড়ে পড়ে ঘুমায়। এদের মাদকের টাকার জোগান আসে চাঁদাবাজি থেকে।

আমি খুব বিচলিত বোধ করছি আমাদের সন্তানদের জন্য। যাদেরকে আমরা রেখে যাব সোনার বাংলাদেশে। যে দেশ আমরা পেয়েছিলাম তারচেয়ে ভালো দেশ তাদের জন্য রেখে যাওয়ার কথা থাকলেও আমরা ক্রমশ একটা নষ্ট দেশ তাদের জন্য রেখে যাব বলে মনে করছেন অনেকে। এ থেকে বাঁচার উপায় কি? আমার কেন জানি মনে হয় এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো একজন দেশপ্রেমিক নেতার আর্বিভাব হওয়া।

আসুন আমরা প্রার্থনা করি একজন নেতার জন্য।

পল্লবী।। ঢাকা।।
২৯ অক্টোবর ২০১৪

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s