আপনি ভাবলেই বা কি


n-WOMEN-WHISPERING-large570

একসময় পৃথিবী অনেক দূর এগিয়ে যাবে। পৃথিবীর মানুষ অনেক কিছু করবে। আমরা তখন থাকবো না। সেই অজানা পৃথিবীর সাফল্যে আমাদের অবদান কতটুকু কিভাবে মূল্যায়িত হবে? আমরা আসলে কি করছি?

দেশে হাসিনা খালেদার রাজনৈতিক বিভক্তি সুস্পষ্ট। বৃটিশরা যে ঘৃণিত কৌশল অবলম্বন করেছিল নেটিভ বাংলাদেশীদের ব্যাপারে আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে সেই কৌশলের রাজনীতি করছে হাসিনা ও খালেদা এবং তাদের অনুসারীরা। বৃটিশ শাসনামলে যে তাবেদার শ্রেণী ছিল সেই ভূমিকায় সহাস্যে থাকছে বামপন্থী রাজনীতিকরা। কিংবা তথাকথিত ইসলামপন্থীরা।

আজকে দেশের কচিপ্রাণ শিশুরা নকল শিখছে। এ প্লাস নামের অশ্লীল অসুস্থ প্রতিযোগিতায় স্কুলগুলো ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো ছুটছে। স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা না পড়িয়ে শিশুদের বাধ্য করছে বাড়িতে পড়তে যেতে। এদিকে, ভেজাল খাদ্যে সাধারণের প্রবল আপত্তি সত্বেও বাজারে ভেজাল খাদ্য অহরহ বিক্রি হচ্ছে। শুধু যে খাদ্যে ভেজাল তা নয়। প্রসাধন সামগ্রী নকল। স্কীন ক্যান্সারসহ নানাবিধ জীবন সংহারী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসাও হচ্ছে। ওষুধের মতো জীবন রক্ষাকারী বস্তুতেও ভেজাল দেয়া হচ্ছে। এ এক সর্বগ্রাসী অবস্থা।

বছর বছর হজ্ব করেও মিথ্যা বলাতেই যেন আনন্দ এদেশের অনেকের। হজ্ব করে আসা রাজনীতিকরা জনসভায় যেভাবে যে ভাষায় মিথ্যা বলে সেটা বোঝার জন্য আইএ বিএ পাস দেওয়ার দরকার হয় না। অন্ধের ষষ্ঠির মতো মিথ্যা রাজনীতিকদের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রেকর্ড করা বক্তব্যকে পর্যন্ত অবলীলায় অস্বীকার করার মতো রাজনীতিক এই মাটিতে দেখতে পাওয়া যায়। এরশাদকে বিশ্ব বেহায়া বলা হতো আশির দশকে। তখন দেশে আর তেমন কাউকে পাওয়া যায়নি যে কিনা এরশাদের সঙ্গী হতে পারে। আজকে বিশ্ব বেহায়া খেতাব পাওয়ার মতো রাজনীতিকের সংখ্যা বেড়েছে।

কপালে নামাজ পড়ে দাগ পড়িয়ে ফেলেছে কিন্তু খাদ্যে ভেজাল দিতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপে না। দায়িত্বে অবহেলা এই দেশে এখন ডালভাত। রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে দায়িত্বে অবহেলা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কতো বেশি ফাঁকি দিয়ে কতো বেশি ভোগ করা যায় সেটাই এখন যেন মটো। অদ্ভুত তাই না?

ধর্ম কর্ম এখন লোক দেখানো একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে অনেকের কাছে। ধর্ম ব্যবসা এখন আর কতিপয়ের হাতে বন্দী নয়। ধর্ম সার্বজনীন না হয়ে ধর্ম ব্যবসা সার্বজনীন হওয়ার বিপদ বাংলাদেশে এখন প্রকট হয়ে উঠছে। মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধগুলো ক্রমশ বিলুপ্ত হতে চলছে যেন। পারিবারিক শিক্ষা বলতে আর কিছু যেন থাকছে না। সামাজিক বন্ধনগুলো শিথিল হতে শুরু করেছে। ধর্ষণ আর পরকীয়া হাত ধরে চলছে যেন। বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অবিশ্বাস আর সন্দেহ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতিতে অবিশ্বাস আর সন্দেহের মড়ক লেগেছে যেন, আর তার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

রাজনীতি শুদ্ধ হোক সেটা আপনি চান। আমিও চাই। তবে কথা হলো আপনি আমি ভাবলেই বা কি? রাজনীতি শুদ্ধ না হলে। রাজনীতিতে শুদ্ধ মানুষের পদচারণা না বাড়লে আগামীর পৃথিবীতে আপনার আমার অবদান কিভাবে মূল্যায়িত হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। আর সেখানে আপনার আমার ভাবনাটােই আসল।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s