সাংবাদিক জগলুল আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মরেননি ….


01-juglul-04-newsnextbd1_01_newsnextbd

সাংবাদিক জগলুল আহমেদের সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা সাক্ষাত হয়েছে।
তার সঙ্গে আমার বিশেষ কোন পরিচয় ছিল না।
একসময় আমি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কলাম লিখতাম।
সেসময়ে তিনিও লিখতেন। আমি উপমহাদেশের রাজনীতি নিয়ে তার বক্তব্যগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম।
তিনি নিজের অবস্থানকে যুক্তি তর্ক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতেন।
তার একটি নিজস্ব অবস্থান ছিল।
লেখালেখিতে এবং ভাবনায়।

তিনি চলে গেছেন, অকালে।
তাকে চলে যেতে হয়েছে।
তার যে জগত্‌ সেই মিডিয়ায় এটাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলছে।
আমি মানতে নারাজ।
রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর আমি বলেছিলাম ওটা হত্যাকান্ড।
আমার কাছে জগলুল আহমেদের মৃতু্যও হত্যাকান্ড।

তবে এই হত্যাকান্ডের জন্য কে কে দায়ী সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে।
গাড়ির চালক না কি বাসের হেলপার? না কি পরে ছুটে আসা বাসটি?
এরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
আমি যদিও শুধুমাত্র এদেরকে দায়ী করি না।
আমি বেশি দায়ী করি যাদের আসকারা পেয়ে এরা এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস পায়।

আমি ঢাকা শহরে গণপরিবহনে চলাচল করি।
আজকে থেকে নয়,
প্রায় চার দশক ধরে।
তার মধ্যে তিন দশক ধরে বাসে চলাচল করছি, একাকী।
জগলুল ভাইয়ের মতোই।

শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে কিন্তু যারা মনোযোগী তারা মানবেন,
গত তিন দশকে দেশের শাসন কা‍র্যক্রমের ক্রমাবনতির সুতীব্র প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে।
ঢাকার সকল ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চালকরা বেপরোয়া ও বেয়াদপ।
এরা যাত্রীদের ধান চালের বস্তা মনে করে,
কিংবা তারচেয়ও খারাপ কিছু।

আজ থেকে ২০ বছর আগেও স্টপেজ ও সাইড না করে বাস বা মিনিবাস থামানো হতো না।
সাইড না করে রাস্তায় লোক নামানো শুরুটা করেছিল প্রথমে ১০/১৪ সিটের টেম্পুগুলো।
মিনিবাস এই ধরনের আচরণ শুরু করেছে গত ৫ বছর ধরে ব্যাপকভাবে।
সুশাসনের অভাব একদল মানুষকে কতোটা বেপরোয়া এবং একাধারে সাধারণ জনগণকে কতোটা অসহায় করে তুলতে পারে ঢাকার গণপরিবহনের যাত্রীরা সেটা প্রতিদিন হাড়ে হাড়ে টের পায়।

জগলুল ভাই নিজের জীবন দিয়ে সেই কথাটি আবারো মনে করিয়ে দিলেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং গত ২৪ বছরের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে দু’দফায় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি নেত্রী জগলুল ভাইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে,
গণপরিবহন ব্যবহারকারী হিসেবে,
আমি জানি এর সমাধান সহজ।
হত্যাকারীদের শাস্তি
আর যাত্রী তোলা ও নামানোর ক্ষেত্রে আইন অমান্যকারীদের বিপুল অঙ্কের জরিমানা
ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না।

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে,
খুন খুনই।
সেটা রাতের আধারে অস্ত্র দিয়ে হোক,
প্রকাশে্য চাপাতি দিয়ে হোক,
বস্তায় ভরে নদীতে ডুবিয়ে হোক,
বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়ে হোক,
আর গাড়ি দিয়ে ধাক্বা মেরে হোক।

আইনের শাসন যদি রিকশাচালক থেকে প্রধানমন্ত্রী প‍র্যন্ত একইরকম না হয়,
তাহলে জগলুল ভাইয়ের মতো খুনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

সমাধান সুশাসন প্রতিষ্ঠা
এবং সুশাসনই একমাত্র সমাধান।

ঢাকা।
১ ডিসেম্বর ২০১৪

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s