রাজনীতিতে এরপর যা যা ঘটতে পারে


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অপরূপ সুন্দরী ত্রিশের কোঠার কেউ নন যে রাজপথে বের হলে তার ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে তাকে পাহারা দিতে হবে। কিংবা খালেদা জিয়া ফুলন দেবী টাইপের দুর্ধর্ষ কেউ নন যে তাকে আট স্তরের পুলিশ বাহনী দিয়ে ঘেরাও করার পর ১৪/১৫টা বালু আর ইটভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। তাহলে কেন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের এতো উদ্বিগ্নতা? এই কেন-এর উত্তর স্বয়ং খালেদা জিয়াও দিতে পারেননি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে। সাংবাদিকরা তাকে একথাও জিজ্ঞাসা করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীরা দাবী করছেন খালেদা জিয়া নিরাপত্তা চেয়েছেন বলেই তাকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, এ ব্যাপারে তার বক্তব্য কি? জবাবে খালেদা জিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি অনেক দিন আগে কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে ‘ছাত্রলীগের গুন্ডাবাহিনী’ যেভাবে তার দলের নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে তাতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, আর সেই সূত্র ধরে এখন যেভাবে তাকে নিরাপত্তার নামে অবরুদ্ধ করা হয়েছে সেটা নেহায়েতই অগণতান্ত্রিক। সরকার খালেদা জিয়ার এই দাবী মানেননি। বরং সরকারের মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন নেতারা দাবী করেছেন যে, খালেদা জিয়ার বাড়ি মেরামত করার জন্যই ইট ও বালু ট্রাকে করা আনা হয়েছিল। আর বাড়ি মেরামত করা হবে বলেই তিনি বাসা ছেড়ে গুলশানের কার্যালয়ে এসে উঠেছেন। খালেদা জিয়া সরকারের বক্তব্যকে মিথ্যাচার আখ্যায়িত করেছেন এবং সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন তাকে যদি অবরুদ্ধই না করা হবে তাহলে কেন গেটে তালা দেয়া হয়েছে এবং কেন-ই বা তাকে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই প্রশ্নের জবাব খোঁজেন। উল্লেখ্য যে, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো খালেদা জিয়াকে সরকার বালুর ট্রাক ও বিপুল সংখ্যক পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল। প্রথমবার তিনি ছিলেন বাসাতে। আর এবার তার কার্যালয়ে। দুটোই গুলশানে। গুলশান কূটনৈতিক এলাকা। বাংলাদেশের দু’চারজন ধনী ছাড়া বাকি সবার বাস গুলশান এলাকায়। বসুন্ধরার মালিকসহ যে দু’চারজন ধনী এখানে থাকেন না তাদেরও ঘরবাড়ি এখানে আছে। এসব নানান কারণেই গুলশান সংবেদনশীল এলাকা। ১৯৮১ সালের ১২ জুন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার কর্তৃক খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দকৃত ক্যান্টনমেন্টের অন্তর্ভুক্ত শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর খালেদা জিয়া সংবেদনশীল গুলশান এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তার অফিসও তার বাড়ির কাছাকাছি। সবমিলিয়ে গুলশান এলাকা কূটনৈতিক এলাকা, ধনীদের আবাস ইত্যাদি পরিচয়ের বাইরে নতুন একটা পরিচয় পেয়েছে। এলাকায় বসবাসকারী কূটনৈতিক ও বাংলাদেশী ধনীরা সেই সুবাদে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির রূপ দেখতে পাচ্ছেন।

images আজ ছিল বাংলাদেশের ২৩ বছর বয়সী গণতন্ত্রের বিজয় ও হত্যা দিবস! ১৯৯০ সালে খালেদা ও হাসিনা এক যৌথ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদকে হটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর তারা দু’জন পালাক্রমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম ও মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ১৩তম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আবারো প্রধানমন্ত্রী হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যৌথ আন্দোলনে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় খালেদা জিয়া নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করে নতুন নির্বাচন দেন। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও বিশ্বের ২৩তম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। পরের নির্বাচনে আবারো খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে এই সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরের নির্বাচন গণতান্ত্রিকভাবে হওয়ার আগেই লগি বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষ পিটিয়ে মারার কারণে দেশ পুনরায় সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে চলে যায়। শেখ হাসিনা দাবী করেন যে নতুন এই সরকার তাদের আন্দোলনের ফসল। তবে নতুন সরকার ৩ মাসের নির্বাচন না দিয়ে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে। এমনকি তারা খালেদা ও হাসিনা উভয় নেত্রীকে গ্রেফতার করেছিল। এসময়ে মাইনাস টু নামের একটি থিওরি শোনা যায়। যার লক্ষ্য ছিল খালেদা ও হাসিনাকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা। দুই দলের মধ্যে একাজে যারা সহায়তা করছিল তারা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান। সেনা সমর্থিত মাইনাস টু থিওরি ব্যর্থ হয় যখন খালেদা জিয়া প্রবল চাপের মুখেও দেশ ছাড়তে রাজী হননি। আশির দশকে আপোষহীন নেত্রী খেতাব পাওয়া খালেদা জিয়ার অনমনীয় অবস্থানের কারণে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে ও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

(চলবে)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s