দুই মহিয়সী নারীর অধীনে আরো ১০০ বছর থাকতে চাই


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দুই মহিয়সী নারী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা দাপটের সঙ্গে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন। অন্য কথায় এই উপমহাদেশে ২০০ বছরের বৃটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর প্রায় অর্ধেক সময়কাল ধরে তারা রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে জ্বল জ্বল করছেন। বাংলাদেশের মানুষ ৩০ বছর ধরে তাদেরকে সম্মান জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় ৭০ শতাংশ সময় ধরে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। একসময় তারা একজন বাবা শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যজন স্বামী জিয়াউর রহমানের পরিচয়ে পরিচিত হলেও এখন তারা নিজ পরিচয়ে বাংলাদেশে তো বটেই বিদেশেও সমাদৃত।

একথা স্বীকার করতেই হবে যে, হাসিনা ও খালেদা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তারা শতভাগ নিবেদিত। তারা একে অন্যকে যতোই অপছন্দ করুন না কেন মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে তারা একে অন্যের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। নারী শিক্ষার প্রসার নিয়ে খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে কাজ শুরু করার পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। প্রসূতি মায়েদের নিয়ে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে যে কাজ শুরু করেছেন সেটা চলছেেই।

লগি বৈঠার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মানুষ পিটিয়ে মারার মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই মহিয়সী নারীকে নিয়ে মাইনাস টু ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এসময়ে তাদেরকে যেখানে আটক রাখা হয়েছিল সেখানে তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যার মাধ্যমে তারা সেই সময় প্রমাণ করেছেন যে, তারা কারো মেয়ে কিংবা কারো স্ত্রীই নন তারা সন্তানের মা-ও। সন্তানের সংখ্যার দিক থেকেও তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। যদিও শেখ হাসিনার দুই সন্তানের মধ্যে বড়টি ছেলে এবং ছোটটি মেয়ে। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার দুই সন্তানই ছেলে।

এই দেশের প্রায় সকল রাজনীতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পর ৪০ দিন পার হওয়ার আগেই দলে ভাঙ্গন দেখা দেবে এবং খন্ড বিখন্ড হয়ে যাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। অন্তত দুই কুড়ি আওয়ামী লীগ জন্ম নেবে। বিএনপির জন্য একই কথা প্রযোজ্য। তখন হয়তো দেশে হানাহানি বেড়ে যাবে। দেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। একজন বাংলাদেশী হিসেবে সেটা আমি চাই না।

সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে শুরু হওয়া দুই দলের তিক্ততা যেন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ২০১৪ সালের এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তিক্ততা আরো বাড়ে। এই তিক্ততা থাকলে যাদের লাভ তারা উস্কানির রাজনীতি করছেন। পারলে রাস্তায় আয়ে দেখে নেব টাইপের উস্কানির রাজনীতি যে দেশের জন্য কোনভাবেই কল্যাণকর নয় সেটা আজ দিবালোকের মতো পরিষ্কার। দুই নেত্রী যে সেটা বোঝেন না তা তো নয়।

আমরা আশা করতে পারি হাসিনা ও খালেদা তাদেরকে ঘিরে থাকা অবার্চীন নেতা নেত্রীদের উস্কানিমূলক কথাবার্তা পাত্তা না দিয়ে তারা দু’জনে একান্তে আলোচনায় বসবেন এবং সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করবেন। তারা আলোচনায় বসলে সমস্যার সমাধান হবেই। একটা কিছু বের হয়ে আসবেই। আমরা বুঝতে পারি এই দুই নারীই বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে সদা সর্বদা ভাবেন। জনগণের ভালোর জন্য যা যা করা দরকার করেন। আমরা এও জানি তাদের যে বয়স তাতে মহান আল্লাহতায়ালা তাদের একজনের কিংবা দু’জনের আয়ুতে যতিচিহ্ন একে দিতে পারেন। কিন্তু এই দেশের মানুষের কাছে হাসিনা ও খালেদা লিজেন্ড। মহিয়সী নারী। জনগণ তাদের ঝগড়া বিবাদ মিটমাটের মধ্য দিয়ে দেশে যদি তাদের শাসন আরো একশ বছরও দীর্ঘায়িত করেন জনগণ আপত্তি করবে না।

লং লিভ হাসিনা খালেদা।

পল্লবী।। ঢাকা।।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s