ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকান্ড: ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই- জঙ্গি কোনদিনও মুসলমান নয়


লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। ছবি সূত্র: ইন্টারনেট

লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। ছবি সূত্র: ইন্টারনেট

খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে
বিরাট শিশু আনমনে।
প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা
নিরজনে প্রভু নিরজনে।।

শূণ্যে মহা আকাশে
তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে
ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে
নিরজনে প্রভু নিরজনে।।

তারকা রবি শশী খেলনা তব হে উদাসী
পড়িয়া আছে রাঙা পায়ের কাছেরাশি রাশি।

নিত্য তুমি হে উদার
সুখে-দুখে অবিকার।
হাসিছ খেলিছ তুমি আপন সনে
নিরজনে প্রভু নিরজনে।।

কাজী নজরুল ইসলাম

১.
কমিউনিস্ট ব্লকের নেতা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পর পুজিবাদের আগ্রাসী দেশ আমেরিকা শত্রু শূণ্য হয়ে পড়ে। শত্রু ছাড়া শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার ‍উপায় জানা না থাকায় বিশ্বের নতুন একচ্ছত্র মোড়ল আমেরিকা মিডিয়ার সহায়তা নিয়ে নতুন শত্রু ঘোষণা করে- জঙ্গিবাদকে। সেটাকে চটকদার বানাতে জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইসলামকে জুড়ে দেয়। তারপর থেকে সেই ধারণাকে আমেরিক বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করেছে। আমেরিকার অন্য দশটা প্র্রোডাক্ট যারা গেলে তারা এই প্রোডাক্টটাকেও গিলেছে এবং আমেরিকার হয়ে প্রচার প্রোপাগান্ডা বহাল রেখেছে। এরই মধ্যে অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ৯/১১ এর ঘটনা ঘটে। ধ্বংস হয় টুইন টাওয়ার। এই ঘটনার জন্য শুধু জঙ্গিবাদকে দায়ী না করে, প্রচার করা হয় ইসলামী জঙ্গিবাদ এই ঘটনার জন্য দায়ী। এ্ভাবেই শান্তির ধর্ম ইসলামকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে আমেরিকা শত্রু শত্রু খেলার নতুন এজেন্ডা তৈরি করে। শুরু হয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে পৃথিবীর নানান দেশে আগ্রাসী আক্রমণ।

২.
একজন জঙ্গির নিজের ধর্ম বিশ্বাস থাকতে পারে। আবার নাও পারে। জঙ্গি হিন্দু হতে পারে, মুসলমান হতে পারে, খৃষ্টান হতে পারে, বৌদ্ধ হতে পারে কিংবা অন্য কোন ধর্মের লোক হতে পারে। এমনকি জঙ্গিরা নাস্তিকও হতে পারে। একজন খুনি, চোর, পিকেটার ইত্যাদি অপরাধীর মতো জঙ্গিও অপরাধী। জঙ্গি হলেই মুসলমান হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমেরিকায় ৯/১১ এর ঘটনার পর এযাবতকালে আমেরিকাতে সন্ত্রাসী হামলায় ১,৯০,০০০ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে যার মধ্যে আমেরিকান মুসলমানদের (যদিও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা কখনো মুসলমান হতে পারে না) সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭। কিন্তু এই বিষয়টি কখনোই সেভাবে প্রচারিত হয়নি। বরং সবসময় প্রচার করা হচ্ছে যে, ইসলামি জঙ্গিদের হামলায় মারা গিয়েছে।

৩.
একজন মুসলমান হিসেবে আমি এই ধরনের চিন্তাভাবনার প্রতিবাদ জানাই। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। যারা জঙ্গি আমি তাদেরকে মুসলমান মনে করি না। আমাদেরকে কিছু সহজ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। যেমন: মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কি তাকে মুসলমান বলা যাবে?

৪.
পৃথিবীতে তথাকথিত মুসলিম জঙ্গির সংখ্যা কতো? ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম এনিয়ে সুস্পষ্ট কোন তথ্য উপাত্ত নেই। তবে বেশ কিছু আর্টিকেল পেলাম। একটি আর্টিকেলে দাবী করা হয়েছে সংখ্যাটি ১ লাখ ৮৪ হাজার হতে পারে। আমি এটাকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে ১ কোটি ৮৪ লাখও যদি ধরি তবে সংখ্যাটি বিশ্বের মোট মুসলমানের সংখ্যার ১ শতাংশ। কিন্তু আসলে তো এতো নয়। হয়তো সংখ্যাটি ১ লাখেরও কম। তবে যেভাবেই ধরি না কেন ১৮০ কোটি মুসলমানের মধ্যে সংখ্যাটি অনুল্লেখযোগ্য। হাতে গোনা এই অপরাধীদের জন্য ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের হেয় করে কথাবার্তা বলা কি ঠিক? ইসলামকেই জঙ্গিবাদী বলা কি ঠিক? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, পশ্চিমা মিডিয়া এমনভাবে সারা বিশ্বে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে যে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া মানুষেরা বিশ্বাস করে যে সকল মুসলমান জঙ্গি না হলেও সকল জঙ্গিই মুসলমান। তার মানে কি ৭০০ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে অন্য কোন ধর্মাবলম্বীরা অপরাধ করে না। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত নয়? সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত নয়? তাদের মধ্যে উগ্রবাদীরা নেই। মুক্ত জ্ঞানের ভান্ডার উইকিপিডিয়া সার্চ দিলে দেখা যায় সকল ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আছে। গুগল সার্চেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।

৫.
আগেও একবার বলেছি আরেকবার বলি যে, সন্ত্রাসীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হওয়া আমেরিকা কিংবা ইউরোপে যতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা টেরোরিস্ট অ্যাটাক হয় তার কতো অংশের জন্য তথাকথিত মুসলমান জঙ্গিরা দায়ী জানেন কি? না জানলে অসুবিধা নেই। গত বছর ইউরোপিয়ান ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ইউরোপল এর দেওয়া তথ্য মতে, শতকরা হিসেবে প্রায় ২ শতাংশ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য দায়ী তথাকথিত মুসলমানরা। বাকিরা কারা? সেটা এই আলোচনায় জরুরি নয়। কথা হলো দুই শতাংশের জন্য দায়ী যে তথাকথিত মুসলমান জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা তাদের জন্য কি একথা বলা যাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মাত্রই মুসলিম জঙ্গিরা করছে? কিংবা এটা ধর্মীয় সন্ত্রাস? ২০১৩ সালে ১৫২টি সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপে। তার মধ্যে ইউরোপল মাত্র ২টি সন্ত্রাসী আক্রমণকে চিহ্নিত করেছে “ধর্মীয়ভাবে মোটিভেটেড” আর ৮৪ শতাংশ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন।

৬.
উপরে যে তথ্য দিলাম সেটা কি আপনি আগে জানতেন? যদি না জেনে থাকেন তবে ভেবে দেখুন তো কেন জানতেন না? কারণ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া এই তথ্য প্রচার করেনি। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আমাদেরকে কিভাবে মোটিভেটেড করে এবং কানা করে রাখে তার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক। ফ্রান্সে কার্টুন ছাপানোকে কেন্দ্র করে একদল উগ্রবাদী তথাকথিত মুসলমান গুলি করে কার্টুনিস্টসহ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের সবগুলো পত্রিকায় এই খবর ছাপা হয়েছে। মোটামুটিভাবে দেশের পত্রিকা পড়ে কিংবা টিভি দেখে এমন সবাই ঘটনাটি জানে। তারা জানে যে, ফ্রান্সে তথাকথিত মুসলমান জঙ্গিরা কতোবড় সন্ত্রাসী। কিন্তু তারা কি সবাই জানে যে, ২০১৩ সালে ফ্রান্সে দু’টি শহরের পুলিশ স্টেশনে (থানায়) রকেট হামলা হয়েছিল, যা তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিরা করেনি। সেই সন্ত্রাসী হামলার কথা কি বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো প্রচার করেছিল? কতোজন সেই খবর পড়েছে কিংবা টেলিভিশনে দেখেছে? রকেট হামলা করেছিল এফএলএনসি গ্রুপ। যারা মুসলমান নয়। কিন্তু এই কাজটি যদি তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিরা করতো তাহলে কি হতো? সবাই জানতো। যারা বাংলাদেশে আছেন তারা ভাববেন না যে, বাংলাদেশে এই সমস্যা। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার এই ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক কর্মকান্ড সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। আমি জানি অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী আমার এই লেখা পড়েন। ওয়ার্ডপ্রেসের স্ট্যাটিসটিকস থেকে আমি দেখতে পাই আমেরিকায় আমার লেখা অনেকে পড়েন। তাদের জন্য বলছি- ২০১১ সালে ইউরোপের নরওয়েতে মুসলিম বিরোধী, ইমিগ্রান্ট বিরোধী ও খৃষ্টান ইউরোপ তৈরির দাবীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে এন্ড্রেস নামের একজন ৭৭ জনকে হত্যা করেছিল, এই ঘটনা আপনারা কতোজন আমেরিকার মেইনস্ট্রিম নিউজ মিডিয়াতে পেয়েছেন? আমি জানি আপনাদের সবার উত্তর হবে- আপনারা দেখেছেন। পড়েছেন। জেনেছেন। কিন্তু মুসলিম জঙ্গিদের যেভাবে চিত্রায়িত করা হয় সেভাবেই কি এই ঘটনার জন্য দায়ী এন্ডেসকে চিত্রায়িত করা হয়েছিল? কিংবা খৃষ্টানদের সন্ত্রাসী হামলা থেকে ভবিষ্যতে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে সেনিয়ে কি ধারবাহিকভাবে লেখালেখি হয়েছে, যেমনটা হয় তথাকথিত মুসলিম জঙ্গিদের বেলায়?

৭.
অহিংস নীতি ও আদর্শের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই গৌতম বুদ্ধের কথা বলেন। গৌতম বুদ্ধের অনুসারী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কি সন্ত্রাসী নেই? মায়ানমারে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী বৌদ্ধদের হাতে বেসামরিক মুসলিম নাগরিকদের নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়। দেখে নিতে পারেন। এখন কথা হলো সন্ত্রাসী বৌদ্ধরা কি আসলেই গৌতম বুদ্ধের অনুসারী? না কি তাদেরকে তথাকথিত মুসলিম জঙ্গিদের মতোই তথাকথিত বৌদ্ধ জঙ্গি বলবেন? আমি মনে করি কোন জঙ্গিকেই ধর্মের পরিচয়ে পরিচিত করা উচিৎ নয়। কারণ জঙ্গিরা হলো অপরাধী। অপরাধীর পরিচয় একটাই- অপরাধী। তার আর কোন পরিচয় থাকতে পারে না। তাদেরকে ধর্ম দিয়ে পরিচয় করানোর চেষ্টা যারা করেন তারা আসলে সুবিধাবাদী ও লোভী গোছের মানুষ। যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভেদ তৈরি করে সুবিধা আদায় করতে চান।

৮.
ব্লগার হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ রায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি। তার স্ত্রীও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এই ঘটনার জন্য সেই তথাকথিত মুসলিম জঙ্গিদের দিকে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। সামাজিক মিডিয়াগুলোতে অতি উৎসাহীরা এক পা সামনে বেড়ে এই ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুসলমান ও ইসলামকে দায়ী করে আক্রমণ করছে। তারা নিজেদের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন যে, অভিজিৎ রায় নাস্তিক ছিলেন বিধায় ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী তাকে আক্রমণ করেছে।

৯.
৭০০ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে প্রায় ১৪ কোটি নাস্তিক মানুষ বাস করে। আর ধর্মে বিশ্বাস করে না ও নাস্তিকের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ১১০ কোটি। বাকিরা আস্তিক বা ধর্মে বিশ্বাস করে। সেটা ইসলাম হোক, হিন্দু হোক, খৃষ্টান হোক বা অন্য কোন ধর্ম। প্রশ্ন হলো- ১১০ কোটি অবিশ্বাসীর মধ্যে কতোজন মারা যাচ্ছে জঙ্গিবাদীদের হামলায়? জঙ্গিবাদীরা তো হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মেরই আছে। পৃথিবী জুড়েই আছে। নাস্তিকরা তো সকল ধর্মের আস্তিক জঙ্গিবাদীদেরই টার্গেট হওয়ার কথা, তাই না? তাই কি হচ্ছে? হচ্ছে না।

১০.
বাংলাদেশেও নাস্তিক আছেন। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে পৃথিবীর গড় ধরলে প্রায় ৩০ লাখ নাস্তিক আছে। প্রায় আড়াই কোটি ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষ বাংলাদেশে বাস করেন। আমার পরিচিতদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে নাস্তিক বলে থাকেন। ধর্মে অবিশ্বাসীর সংখ্যা তারচেয়ে অনেক বেশি। তারা কেউ সরকারি চাকরিজীবি। কেউ সাংবাদিক। কেউ শিক্ষক। কেউ এনজিও কর্মী। এনজিও নেতা। তারা সবাই বেঁচে আছেন। ভালোভাবে বেঁচে আছেন। বাংলাদেশে যদি ধর্মীয় উম্মাদনা ও জঙ্গিবাদই থাকত তাহলে কোন নাস্তিকই বেঁচে থাকতে পারতেন না। কা্উকে উগ্রবাদী মুসলমানরা মারত, কাউকে উগ্রবাদী হিন্দুরা মারত, কাউকে উগ্রবাদী খৃষ্টানরা মারত, কাউকে উগ্রবাদী বৌদ্ধরা মারত। বাংলাদেশে নাস্তিকের পাশাপাশি এই চার ধর্মের মানুষও বসবাস করে। প্রত্যেক ধর্মের উপসনা বা প্রার্থনার জন্য ঘর আছে। যা ধর্মের ভিত্তিতে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি।

১১.
ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি। কোন ধরনের প্রি-কনসিভ আইডিয়া যেন তার হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত না করে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে প্রতিটি জীবন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি হত্যাকান্ডের শিকার মানুষের পরিবারের অধিকার আছে সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার। আমি ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা প্রফেসর অজয় রায় এবং পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি সমবেদনা জানাই। আসুন আমরা সকল ধর্ম, মত নির্বিশেষে হত্যাকান্ডের প্রতি ঘৃণা জানাই। দোষীদের শাস্তি দাবী করি। ৫৪টি বুলেটবিদ্ধ লাশ গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার মতো বক্তব্য দ্বারা যেন প্রকৃত ঘটনা আড়ালে না চলে যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

১২.
সত্যের জয় হোক। মিথ্যার পরাজয় ঘটুক। আমাদের সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত সকল স্বাধীনতা যেন রক্ষা পায় সেই প্রার্থনাই করি। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে আন্তরিকতা আশা করছি। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হোক আমাদের সকলের শপথ। আর শেষ কথাটি বলব যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। একজন মুসলমান হিসেবে আমি ইসলামকে জঙ্গিবাদী যে কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জঙ্গিবাদ হলো অপরাধমূলক কর্মকান্ড। যা কখনোই ইসলাম হতে পারে না। যা কখনোই মুসলমানের কাজ হতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডকে ধর্মের সঙ্গে না মেলাই। সেটা যে ধর্মই হোক না কেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
পল্লবী।। ঢাকা।।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s