“মাত্রই ঢাকায় রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি আঘাত হানার পূর্ব প্রস্তুতি!”


সবাই মনে মনে পাগল হতেও চায়। তারা গলা ছেড়ে গাইতে চায়- ওগো নদী, আপন বেগে
পাগল-পারা, কিন্তু পাগল হতে ভয় পায়। হারানোর ভয়। তবে সেটা প্রেম হারানোর ভয় নয়। সমাজ হারানোর ভয়। সমাজে মিসফিট হওয়ার ভয়। একসময় মানুষ যেমন সত্য না বললে মিসফিট হওয়ার ভয়ে থাকত। এখন মিথ্যা না বললে মিসফিট হওয়ার ভয়ে থাকে।

Propaganda_1FEARLESSচমকে উঠার কিছু নেই। ঘটনা সত্যি। এই মুহুর্তে দেশের সবগুলো পত্রিকার প্রধান শিরোণাম এটাই। টেলিভিশন স্ক্রলেও তাই দেখাচ্ছে। সংসদে জরুরি অধিবেশন চলছে। ঢাকা শহরের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় জমায়েত হয়েছে। সবার মুখেই একটা কথা এরকম একটা অপপ্রচার চলছে কী করে?

অপপ্রচার চলছে কী করে?

অপপ্রচার চলছে কী করে?

ঘটনাটি কিন্তু একদিনে ঘটেনি। শুরু হয়েছিল পিপড়া মারা দিয়ে। এখন হাতি ঘোড়া বাঘ সবই মারা হচ্ছে। মিথ্যার এই সর্বব্যাপী সংক্রমণতা এখন ডালভাত যেন। তারপরও কিছু প্রাণ কাঁদে। এতো মিথ্যা সবদিকে কেন থাকবে? রাস্তায় দাঁড়িয়েই সে নিয়ে তর্ক জুড়ে দিয়েছে প্রবীণরা। একজন বলে বসলেন, আমাদের সময় এতো মিথ্যা ছিল না। কোন সেই সময়? তাকে পারলে পিষে মেরে ফেলেন অন্যরা। মুজিবকোট পরা বয়োবৃদ্ধ মানুষটি কোন রকমে তার লুঙ্গি সামলে নিয়ে বললেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম। তার এই কথায় কাজ হলো। প্রবীণরা সব তাদের ছোট বেলায় ফিরে গেলেন। সেই সময়ে তারা ভূমিকম্পের ভয়ে নয় চাঁদের আলোতে ‘আজ জোস্না রাতে সবাই গেছে বনে’ গেয়ে গেয়ে খোলা মাঠে আড্ডা দিতেন। ছিদ্রান্বেষণ করলেও মিথ্যা তেমন বলতেন না। আর বললেও দুয়েকজন বলতেন। সবাই বলতেন না। দুয়েকজনের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকটা ‘আমি, জেনে শুনে বিষ করেছি পান।’ এর মতো একসময় অন্যরাও তাদেরকে অনুসরণ করেছেন, আলোচনা শেষে সবাই ঐক্যমতে পৌছালেন একজন ছাড়া। তিনি গলা ছেড়ে গান ধরলেন-

‘যা না চাইবার তাই আজি চাই গো,
যা না পাইবার তাই কোথা পাই গো।
পাব না, পাব না,
মরি অসম্ভবের পায়ে মাথা কুটে।’

অন্যরা তাকে পাগল বলেই চেনে। সবাই মনে মনে পাগল হতেও চায়। তারা গলা ছেড়ে গাইতে চায়- ওগো নদী, আপন বেগে
পাগল-পারা, কিন্তু পাগল হতে ভয় পায়। হারানোর ভয়। তবে সেটা প্রেম হারানোর ভয় নয়। সমাজ হারানোর ভয়। সমাজে মিসফিট হওয়ার ভয়। একসময় মানুষ যেমন সত্য না বললে মিসফিট হওয়ার ভয়ে থাকত। এখন মিথ্যা না বললে মিসফিট হওয়ার ভয়ে থাকে।

একসময় উচ্চপদস্থ আমলা তার বাবার পরিচয় নিয়ে বন্ধুমহলে মিথ্যা বলত। ঘুষখোর বাপের বেটি তার ঠাট বাট বজায় রাখতে মিথ্যার আশ্রয় নিতো। তাদের সংখ্যা ছিল কম। তখন মধ্যবিত্ত বলে একটা গোষ্ঠী ছিল। যারা ওই আমলা ও ঘুষখোর বাপের বেটির সমালোচনা করত। তারা সেসময়ে সত্যের ঝান্ডা উড়াতে পছন্দ করত। কিন্তু এদের ট্যাকা পয়সা কম ছিল। একসময় এরা এদের ভুল বুঝতে পারল। তারা বুঝল যে, ট্যাকাটাই সব। জ্ঞান বুদ্ধি ফালতু জিনিস। আর সত্য হলো দুর্বলতার লক্ষণ। ব্যাস তারা তাদের সব জ্ঞান বুদ্ধি বেঁচতে শুরু করে দিল। যাদের হাতে ট্যাকা পয়সা ছিল কিন্তু অভাব ছিল লেখাপড়া জানা কম ছিল তারা এদেরকে কিনতে শুরু করল। বিক্রির বাজারে লেখাপড়া জানা সূক্ষ্ণ মিথ্যাবাদীদের কদর বাড়তে থাকল। বাজারে মিথ্যাবাদী বুদ্ধিমানদের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় মিথ্যার প্রতিযোগিতা বাড়ল। মিথ্যাবাদীরা নিজেরাই পণ্য হয়ে টেলিভিশন ও পত্রিকায় জানান দিতে লাগল যে, তারা কতো কৌশলী মিথ্যাবাদী। যে যতোবড় মিথ্যাবাদী তার শব্দ প্রতি দামও ততো বেশি হতে লাগল। মানুষ তাদেরকে ঘনঘন দেখতে দেখতে নিজেদের মধ্যেও তাদের ছায়া খুঁজে পেতে আকুতি বোধ করতে লাগল। তারা গাইতে লাগল-

আমার সত্য মিথ্যা সকলই ভুলায়ে দাও

আমায় আনন্দে ভাসাও।।

সবাই আনন্দে ভাসতে চায়। আসুন আমরা আনন্দে ভাসি। যে মিথ্যা গ্রাস করেছে সমাজকে সেই মিথ্যাকে ভূমিকম্প আর সুনামির আঘাত দিয়ে উড়িয়ে দেই।

পল্লবী।। ঢাকা।।
১০ মার্চ ২০১৫

Advertisements

4 thoughts on ““মাত্রই ঢাকায় রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি আঘাত হানার পূর্ব প্রস্তুতি!”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s