সড়ক মহাসড়ক নৌপথে পাক হানাদার বাহিনীর খান সেনারা : একজন সেক্টর কমান্ডার চাই


photখেপুপাড়াগামী বাসটিকে গাছের সঙ্গে লাগিয়ে দিয়ে ২৫জনকে হত্যা করার পর সড়ক পরিবহন নেতাদের তৎপরতায় হত্যাকারী চালক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেয়েছে। কতোবড় পাষন্ড এই পরিবহন নেতারা। দেশের মানুষ যখন শোকাহত তখন পাষান পরিবহন নেতারা উল্লাস করছেন তাদের সহকর্মীদের ছাড়িয়ে আনতে পেরে। তাদের এই উল্লাস এখন অসুস্থতায় পরিণত হয়েছে। সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠেছে পরিবহন নেতারা। প্রায় প্রতিদিন পরিবহন নেতাদের আশির্বাদপুষ্ট বাস ও ট্রাক এবং লঞ্চ চালকরা সড়কে মহাসড়কে কিংবা নৌপথে খুনির চরিত্রে অভিনয় করে। এ যেন সেই ৭১ সালের পাক হানাদার বাহিনীর সুপরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইট। টিক্কাখান আর ভূট্টোর মদদপুষ্ট খান সেনাদের মতোই খুনি বাস ট্রাক চালকরা জানে যে, তাদেরকে বাচাতে স্বাধীন বাংলাদেশেও খানরা রয়েছে।

বরেণ্য চলচিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির সড়কে হত্যার শিকার হওয়ার পর খেপে উঠেছিল বীর বাঙালি। সেসময় প্রায় প্রতিটি সড়ক হত্যার ঘটনায় মিডিয়া সোচ্চার হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে চতুর পরিবহন নেতারা ঘোষণা করেছিল যে, চালকদের পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিতে হবে। সমসাময়িককালে এক দোর্দন্ড প্রতাপশালী পরিবহন নেতা বলে দিয়েছিল গরু ছাগল চিনলেই চালকদের লাইসেন্স দেয়া যাবে। তারপর সেই পরীক্ষা নেওয়া থেকে পিছিয়ে গেছে সংশ্লিষ্টরা। সেই পরিবহন নেতা খেপুপাড়াগামী বাস দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুইশ বাক সোজা করার কথা বলেছে। তার কথা শুনে- নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকার সেই পুরনো প্রবাদের কথা মনে পড়েছে।

২০১১ সালে যদি তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনিরের হত্যার বিচার হতো তাহলে ২০১৫ সালে খেপুপাড়ার মানুষগুলো মারা যেতো না। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সুশাসন ও ন্যায়বিচারের অভাবে আমার জন্মস্থান খেপুপাড়ার সিকি শতক মানুষ মারা গেলো। প্রতিদিন এমন মানুষ মারার লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে সড়ক পরিবহন নেতারা। তাদের কোন বিচার হয় না আমার এই জন্মভূমিতে।

এক পরিসংখ্যান মতে, প্রতিবছর বাংলাদেশে ১২ হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয় সড়ক ও মহাসড়কে। আর আহত হওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এর দায়ভার পরিবহন নেতাদের ও তাদের আর্শিবাদপুষ্ট চালকদের। কিন্তু তাদের বিচার করবে তেমন নেতা এই দেশে নেই।

এক পরিবহন নেতা নৌপথে চুড়ান্ত অরাজকতা তৈরি করেছে। ফলে, প্রতিবছর নৌপথে চলতে গিয়ে শত শত মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে। কিন্তু কারোই শাস্তি হচ্ছে না। কোন নৌ হত্যার ঘটনা ঘটলে সেখানে গিয়ে চতুর পরিবহন নেতারা তদন্ত কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করে আর ১০/২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। প্রশ্ন হতে- এই নেতারা যদি সড়ক কিংবা নৌ হত্যার শিকার হয় তাদের পরিবার কতো ক্ষতিপূরণ পাবে?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই দেশের পরিবহন নেতারা এবং তাদের উপরস্তরা দায়িত্বে অবহেলা আর দুর্ঘটনাকে গুলিয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় সড়ক মহাসড়ক আর নৌপথে দোর্দন্ড প্রতাপশালী পাক হানাদার বাহিনীর খানসেনা ও তাদের দোসর এবং মদদদাতা পরিবহন নেতাদের শায়েস্তা করার জন্য ১৯৭১ সালের মতো একজন সেক্টর কমান্ডার জরুরি হয়ে পড়েছে। যিনি নেতার অবর্তমানেও দেশকে ৭১ সালে পাক সেনা তথা শত্রুমুক্ত করার মতো ডিজিটাল বাংলাদেশের সড়ক মহাসড়ক ও নৌপথকে জনগণকে সাথে নিয়ে জনগণের জন্য নিরাপদ করবেন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s