দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন নির্ভর করে সরলরেখায় অবস্থানের উপর


এই ছবির কি কোন ক্যাপশন দরকার আছে? অন্তত এটুকু তো বোঝা যায়- এই নারী দেশ চালায় না।

এই ছবির কি কোন ক্যাপশন দরকার আছে? অন্তত এটুকু তো বোঝা যায়- এই নারী দেশ চালায় না।

এই ছবির কি কোন ক্যাপশন দরকার আছে। অন্তত এটুকু তো বোঝা যায়- এই নারী দেশ চালায় না।

১৯৭১ সাল। গর্জে উঠল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। আর নয়। ২৪ বছর ধরে যথেষ্ট হয়েছে। এবার মুক্তি চাই। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পিষে মেরে ফেলতে চাইল। ঘটনা ঘটল উল্টো। পশ্চিম পাকিস্তানীরা নাকে খত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিলো। তিরানব্বই হাজার পাকিস্তানী সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডারের কাছে আত্মসমর্পন করল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে একটি নতুন দেশ স্বীকৃতি পেলো, তার নাম বাংলাদেশ।

ভোটের অধিকার। ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সংগ্রাম শুরু হলো। সাধারণ জনগণ দেখতে পেলো তারা পশ্চিমা পাঞ্জাবী, বেলুচ আর সিন্ধিদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু স্বাধীন হতে পারেনি। বাঙালিদের মধ্যে একটা নতুন শ্রেণীর আর্বিভাব হলো। যারা কম্বল চুরি করে, রেশন চুরি করে, লঙ্গরখানার চাল ডাল চুরি করে। আর মিথ্যা বলে। ফলে স্বাধীনতার মাত্র ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ নির্মম ও নিষ্ঠুর দুর্ভিক্ষের শিকার হলো। বিদেশী মিডিয়ায় কয়েক লাখ মানুষের মৃতু্যর খবর প্রকাশিত হলেও সরকারিভাবে জানিয়ে দেয়া হলো মাত্র ২৭ হাজার মানুষ খেতে না পেরে মারা গিয়েছে।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের মানুষের প্রথম স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। তারপর বার বার। প্রশ্ন হলো স্বপ্ন ভঙ্গ কেন হয়? উত্তর হলো- স্বপ্ন ভঙ্গ হয় দেশ যারা চালায় তাদের কারণে। দেশের মানুষের স্বপ্ন আর দেশ শাসকদের স্বপ্ন একই সরলরেখায় নেই। বরং রেল লাইনের মতো সমান্তরাল। সেই ১৯৭২ সালেই ঘটনাটি ঘটেছিল। এরপর  দুই সমান্তরাল লাইনের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে মাত্র। দেশ যারা চালায় গত ৪৫ বছরে তারা অনেক বেশি চালাক হয়েছে। ১৯৭২ সালে কিংবা ১৯৭৪ সালে কম্বল চোর, রেশন চোরদের চেনা গেলেও এখন আগের মতো সহজে চেনা যায় না। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ২৭ হাজার মানুষের মৃতু্যকে সরকারিভাবে শনাক্ত করা গেলেও এখন দুর্ভিক্ষের চিত্র অনুদঘাটিত থাকে। সত্তরের দশকের শাসক গোষ্ঠীর মিথ্যাচার ধরা পড়লেও এখন ঢাকা পড়ে যায়। শাসক গোষ্ঠীর বড় বন্ধু এখন মিডিয়া। বলতে পারেন বটবৃক্ষ। মিডিয়ার ছায়ায় সমাজের শিক্ষিত অংশের মেধা কেনার মাধ্যমে শাসক গোষ্ঠী সত্তর দশকের মাস্তান চক্র ছাড়াই তাদের সকল স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারছে। মেধার এই ঊর্ধ্ব কিংবা অধঃ পতন সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই থেকে যায়। যেমনটা তাদের কাছে অজানা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর সময়ের লুটপাট ও দুর্ভিক্ষের কারণগুলো।

মুক্তির উপায় কি? দেশ যারা চালায় তাদের হাত থেকে শাসন দন্ডটি কেড়ে নিয়ে ৩০০ মানুষের হাতে তুলে দেয়া। যতোদিন পর্যন্ত এই দেশের সংসদে ৩০০ মানুষ বসে আলাপ আলোচনা না করতে পারবে ততোদিন পর্যন্ত এই দেশের মানুষ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সুফল পাবে না। এই কারণেই দেশ কারা চালায় সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা জরুরি।

যারা নিজেদের মানুষ মনে করেন তাদের উচিত্‌ ৩০০ জনের একজন হওয়ার চেষ্টা করা। কিংবা যাতে জাতীয় সংসদে তাদের মতো একজন যেতে পারে সেই উদ্দেশ্যে কাজ করা। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণের অন্য কোন বিকল্প নেই।

১৯৭১ সাল যদি মিথ্যা না হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ যদি মিথ্যা না হয়। তাহলে সাড়ে সাত কোটি মানুষের উত্তরসূরি ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন মিথ্যা হতে পারে না। নিশ্চয়ই একদিন দেশ চালাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের সত্যিকারের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য আছে যাদের তারা।  সেই সুন্দর ও সত্য দিনের প্রত্যাশায়।

৫ জুন ২০১৫

কক্সবাজার

Advertisements

One thought on “দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন নির্ভর করে সরলরেখায় অবস্থানের উপর

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s