সমাজ বদলের নেতৃত্ব দেয়া মানুষগুলোর কিছু দায়িত্ব থাকে


leader_165365খুব ছোটবেলা থেকে আমার সুযোগ হয়েছে সমাজ বদলের নেতৃত্ব দানকারী ছোট, বড়, মাঝারি নেতাদের কাছ থেকে দেখার। এখনও দেখতে পাই। তবে এখন এই বড়বেলায় এসে মনে হচ্ছে ছোটবেলায় দেখা সমাজ বদলের নেতৃ্ত্ব দেওয়া মানুষগুলোর থেকে এখনকার মানুষগুলো ভিন্ন। বিষয়টা উপলব্ধি করতে শুরু করেছি কয়েকবছর হলো। কিন্তু ভিন্নতাটা কী সেটা ঠিক যেন বুঝতে পারছিলাম না। কিংবা বলতে পারেন ঠিক নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। খটকা লাগছিল নিজের কাছেই। আমার ভুল হচ্ছে না তো, সেটা ভেবে অনেকটা সময় পার করেছি। আজকে মনে হলো আচ্ছা মনে যা আছে তা লিখে অন্যকে জানিয়ে দিলেই তো হয়। তারাই না হয় বলুক আমি যা ভাবছি সেটা তারা ভাবছে কি না।

নেতাদের মধ্যে আন্তরিকতাটা নেহায়েতই অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে। এক ধরনের লোক দেখানো বিষয়ে পরিণত হয়েছে আন্তরিকতা বিষয়টা। মুখে মুখে যতো আন্তরিকতা। আগের নেতারা জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করতো পরোপকারের। এখন যেন অঙ্ক কষার দিন চলছে। পরোপকারে কি লাভ সেটা আগে হিসেব করছে নেতারা। ব্যক্তিস্বার্থ সামষ্টিক স্বার্থকে মোটামুটি ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে। যদিও এখনও ইঞ্চি খানেক উপরে আছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে আধা ইঞ্চি নিচে যেতে সময় লাগবে না।

মিথ্যা বলাটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আগে থাকলেও চোখে পড়তো না। আগের দিনে সমাজ বদলে নেতৃত্ব দেওয়া মানুষগুলো মূলত সত্যের উপর নির্ভর করতেন। তারা নিজেরা যেমন সত্য বলতেন, অন্যকেও বলতে উৎসাহিত করতেন। এখন যেমন মিথ্যা বলাকে সাফল্যের প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়, আগে সত্যবাদীতা ছিল নেতার বড় গুণ। এখন সত্য বলাকে কেউ কেউ দুর্বলতা মনে করেন। কারো কারো কাছে নেতাদের মিথ্যা বলাটা অধিকারের মতো বিষয়।

প্রতারণা করতে পারাটা এক ধরনের তৃপ্তিকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা আগে ঘৃণার বিষয় ছিল। অন্যকে প্রতারিত করাটা যে কৃতিত্ব হতে পারে সেটা আগেরকার মানুষের কল্পনায়ও ছিল না।

আগে নেতা গরিব দুঃখী মানুষের কল্যাণে লাগতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করতেন। এনিয়ে তিনি বড়াই করতেন না। প্রচারও করতেন না। এখন গরিব দুঃখী মানুষ হলো নিজের প্রচারণার হাতিয়ার। নেতা গরিবের কল্যাণে নিজেকে কতোটুকু নিয়োজিত করবেন সেটা তিনি ঠিক করেন প্রচারণার সুযোগ সুবিধাগুলো দেখে। অনেকটা বিনিয়োগ করার মতো বিষয়টা। সমাজ বদলের নেতৃত্ব দেয়া মানুষগুলোর কাছ থেকে যা কাম্য নয়।

নেতা ভালো কাজের জন্য সিন্ডিকেট করতে পারেন, আগের নেতারা তেমনটাই মনে করতেন। এখন যা কিছু খারাপ সেখানেই নেতারা সিন্ডিকেট করতে পছন্দ করেন।

এখনকার নেতারাও নেতা। তবে তারা সমাজ বদলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সমাজ বদলের নেতৃত্ব দেওয়া মানুষ অন্যের সম্পদ নিজের মনে করে ভোগ করবে না। আশা করা যায় যে, তারা অন্যের ভালো করতে না পারলেও ক্ষতির কারণ হবে না।

পল্লবী।। ঢাকা।।
৬ জুলাই ২০১৫।।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s