বড় বড় অপরাধীরা সবাই শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান


সূত্র : ইন্টারনেট

সূত্র : ইন্টারনেট

দেখতে দেখতে বয়স ৪৬ হতে চলল। এই বয়সকালে এমন কোন বড় অপরাধীর কথা জানতে পারিনি যে কি-না বোকা। পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনে যাদের অপরাধের কথা ছাপা হয় তারা তো আর হেজি পেজি অপরাধী নয়। বড় বড় অপরাধী। সেই সব অপরাধীরা সবাই বুদ্ধিমান। আমি এই বয়সে এসে বুঝেছি যে, বড় অপরাধী হতে হলে বুদ্ধিমান হতে হয়। মুদি দোকানদার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের নায়ক হওয়া হলমার্কের তানভীরকে কেউ বোকা বলবেন কী? ব্যাংকার, সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, এমপি, নেতা, পাতি নেতা, পুলিশ, আইনজীবি প্রমুখদের ম্যানেজ করার যে যোগ্যতা সে দেখিয়েছে সেটি তো কোন বোকা মানুষের থাকতে পারে না। কোন বোকা মানুষকে ঘিরে তো এতোজন ক্ষমতাশালী বুদ্ধিমান ব্যক্তি একত্রিত হতে পারেন না।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে বড় বড় অপরাধীরা শুধু বুদ্ধিমান নয়, তারা দেশ বিদেশের নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করা পুরুষ কিংবা নারী। শিক্ষিত ও বুদ্ধিমানরা বড় বড় অপরাধী হয় বলে অপরাধীর তালিকা একচেটিয়াভাবে পুরুষের দখলে নেই। সেখানে নারীদেরও অবস্থানও দৃশ্যমান।

একজন ছোট অপরাধীর কথা বলি। ঘটনাটি আশির দশকের শেষভাগের। আমার পাশের বাসার বাসিন্দা বিমানবন্দরে দায়িত্ব পাওয়ার একমাসের মধ্যেই বাসায় স্পিল্ট এসি লাগিয়েছিলেন। তাও বেডরুমে। নতুন চাকরি পাওয়া ঘুষখোর (ঘুষ খাওয়া অপরাধ) সেই সাবেক নারী প্রতিবেশী এখন কি করছেন খুব জানতে ইচ্ছে করছে। তিনি এসি ঘুষ নিয়ে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন সেই জীবনে তিনি আর কতো বড় অপরাধ করার সাহস দেখাতে পেরেছেন? অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, ছোট ছোট অপরাধ করার সাহস দেখানোর মধ্য দিয়ে অপরাধীরা বড় বড় অপরাধ করার সাহস সঞ্চয় করে।

পত্র-পত্রিকায় পড়ি মাদক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ যারা করে তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা মন্দ নয়। যৌন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণেও নারীদের দেখা যায়। এই ধরনের অপরাধের সম্রাজ্ঞী যারা তারা কেউই বোকা নন। তবে সকল সময় এদের সবাই যে বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তা বলা যাবে না। কিন্তু এদেরকে যারা প্রটেকশন দেয় সেই এমপি, মন্ত্রী, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবি, পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকরা কিন্তু সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা উচ্চশিক্ষিতজন।

যারা অপরাধের সহযোগী তারাও যে অপরাধী সেটা বোঝার জন্য বিশেষভাবে শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান হওয়ার দরকার হয় না। তাহলে আমরা বলতে পারি বড় বড় অপরাধীরা শুধু নয়, তাদের সহযোগীরাও শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান। তারমানে সমাজে যতো ধরনের বড় বড় ক্রাইম চলছে তার জন্য দায়ী হলো শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান জনগোষ্ঠী।

প্রশ্ন হলো যে শিক্ষা মানুষকে অপরাধী করে সেই শিক্ষা আবার কেমন শিক্ষা? যে বুদ্ধি অপরাধে খরচ হয় সেই বুদ্ধি আবার কেমন বুদ্ধি?

তারমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা গোলমাল আছে। আমাদেরকে গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার আমাদের দেশের বড় বড় অপরাধগুলোতে শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষেরা কেন জড়াচ্ছে।

আপনাদের কি মনে হয় না আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় বড় অপরাধের প্রতি এক ধরনের মৌন সম্মতি তৈরি হচ্ছে। হয়তো লোভ থেকেই এই মৌন সম্মতি তৈরি হচ্ছে। যেমন ধরুন, শেয়ার বাজার লুটপাটকারীদের প্রতি যে ক্ষোভ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেটা যতোটা না লুটপাটকারীদের অপরাধের জন্য তারচেয়ে বেশি ওরা পারল আমরা কেন পারলাম না সেই অনুভূতি থেকে। একজন এমপি কিংবা মন্ত্রী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা যতো আকাম কুকাম করে সেই সব আকাম কুকামের কোনো প্রতিবাদ হয় না। কারণ অপর পক্ষ বসে আছে সেই সময়ের জন্য যখন তারা আকাম কুকাম করতে পারবে। আকাম কুকাম বন্ধ হোক সেটা তারা চায় না তারা অপেক্ষা করছে তাদের পালা আসার জন্য। শুধুমাত্র শিক্ষিত ও বুদ্ধিমানরা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয়। বোকারা নয়।

প্রতিপক্ষকে কাবু করতে গোলমাল লাগাতে হবে এই দর্শন কোন বোকার মধ্যে থাকে না। এটা বুদ্ধিমান রাজনীতিকরাই শুধুমাত্র করতে পারে। জনগণের জন্য যে রাজনীতি সেই রাজনীতি অপরাধমুক্ত হওয়ার কথা। যদি সেটা না হয় তাহলে সেই রাজনীতিকে জনবান্ধব বলা যাবে কী? প্রশ্ন হলো সকল শিক্ষিত ও বুদ্ধিমানরাই কি অপরাধে জড়িত? মোটেই না।

বড় বড় অপরাধীদের যারা শায়েস্তা করে তারা ওই সব অপরাধীদের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি বুদ্ধিমান। শিক্ষিতও বটে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সততা। সততার কাছে যে কোন বড় অপরাধী পরাজিত হতে বাধ্য। সততার পরাজয় নেই। আপাতদৃষ্টিতে অপরাধীরা জয়ী হলেও শেষ বিচারে তারা পরাজিত হতে বাধ্য।

পল্লবী।। ঢাকা।।

১৫ জুলাই ২০১৫

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s