স্বপ্নের দেশে যাওয়ার মন্ত্র


indexঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। ওটাই আপনাকে নিয়ে যাবে সেই স্বপ্নের দেশে যেখানে যাওয়ার জন্য আপনি স্বপ্ন দেখেন।

আমি সেই গুটিকয়েক মানুষের দলভুক্ত নই যারা টাইম ম্যানেজমেন্টে দুর্দান্ত। আমি নই সেই দলভুক্ত যারা সম্পদ অর্জনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছেন। এমনকি আমি নই সেই দলভুক্ত যারা অনায়াসে আরাম আয়েশ আর বিলাসী জীবনযাপন করেন। আমি সমাজ নির্ধারিত সফল মানুষদের দলভুক্তও নই। তারপরও আমি কখনো পরিচয় সঙ্কটে ভুগিনি। কারণ আমি সেটাই যা আমি হতে চেয়েছি। আমি তাই করি যা আমি করতে চাই। আমার একটা লক্ষ্য আছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমি কথা বলতে চাই, সেটা আমি বলিও আমার ব্লগে।

আজকে এই বৃষ্টিময় দিনে আমি পুনরায় বুঝতে পারছি একদিন আমি ঠিকই সেই ফিনিশিং লাইনটা অতিক্রম করব। এই দেশ, দেশের মানুষ আর এই দেশের প্রকৃতি আমাকে সেই কথাই ফিসফিস করে বলে- তুমি মিথ্যা হতে পারো না জুয়েল। জয় তোমার হবেই। কারণ তোমার জয় তো দেশ ও দেশের মানুষের জয়। যেমনটা তুমি বলো তোমার ব্লগে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ টাইম ম্যানেজমেন্টে দুর্দান্ত নয়। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে না সময়টা শুধু নিজের জন্য। তারা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়। তাদের জীবনের অনেকটা সময় চলে যায় অন্যের সমস্যা সমাধানে। সেনিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই। অনুযোগ নেই। অন্যের জন্য কাজ করাটা বাংলাদেশীদের রক্তে মিশে আছে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সম্পদ অর্জনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখাতে পারেনা। কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ অন্যের সঙ্গে সম্পদ ভাগাভাগি করে। নিজের কাপড়টা সেলাই করে পড়ে হলেও মা কিংবা ভাইবোন কিংবা ছেলেমেয়ের জন্য নতুন কাপড় কেনে। নিজের টিনের চালটা কোনরকমে মেরামত করে বৃর্ষকালটা পার করে দিয়ে বোনের বিয়ের খরচটা জোগান দেয়। ভাইকে লেখাপড়া করায়। বাবা-মায়ের চিকিত্‌সা করায়। যা এই দেশের কর ব্যবস্থাপকরা কিংবা সম্পদ অর্জনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখানো সরকারের মন্ত্রী এমপিরা বুঝবেন না।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ আরাম আর আয়েশে বিলাসী জীবনযাপন করে না। কারণ এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ হাতে কয়টা টাকা জমা হলে দরিদ্র প্রতিবেশীর ছেলে মেয়ের লেখাপড়া, বিয়ে কিংবা বিদেশে পাঠানোর জন্য ধার দেয় কিংবা খরচ করে। আজকে যে এক কোটি বাংলাদেশী প্রবাস থেকে লাখ কোটি টাকা পাঠায় সেটা সম্ভব হতো না যদি না বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ একে অন্যের জন্য হাত না বাড়িয়ে দিতো। যদিও সেই কৃতিত্ব নিতে অস্থির হয়ে থাকে দাঙ্গাবাজ, অসভ্য, স্বার্থান্ধ ও দেশ ও জাতিকে বিভক্তকারী রাজনৈতিক সরকারগুলো, যাদের কোন ইতিবাচক ভূমিকা নেই মানুষের কল্যাণে কাজে লাগার। বরং যারা বারবার মানুষের শক্তিকে বিভক্ত করে তাদেরকে পেছনে টেনে ধরে রেখেছে সেই ১৯৮২ সাল থেকে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সমাজ নির্ধারিত সফল মানুষ নয়। কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ অন্যের ভালোর জন্য নিজের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্্য বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। প্রস্তুত নিজের সাফল্যকে অন্যের জন্য উত্‌সর্গ করতে। তারপরও কেন বাংলাদেশ আগাতে পারছে না? কারণটা সামান্য। বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও কর্মশক্তিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বিভক্তি তৈরি করে। শুনলে আশ্চর্য হবেন বাংলাদেশের মাত্র হাজার দশেক লোক দেশের প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে কব্জা করে রেখেছে। কীভাবে সেটা নিয়ে ভাবুন। জানতে চাইলে আমি অবশ্য বলতে পারি।

তাই বলি এখন শুধু দরকার জেগে উঠার। জাগিয়ে তোলার। জানিয়ে দেওয়ার যে জেগে আছি। ২ কোটি ৭০ লাখ পরিবার যদি ওই দশহাজার লোকের কব্জামুক্ত হয় তাহলে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাড়াবে সেটা শুধু এখন কল্পনা করা যেতে পারে। কারণ সেই উদাহরণ আপনার চারপাশে নেই।

আসুন কল্পনা করি সেই ছবিটা। যে ছবিটা আমি দেখতে পাই। নিশ্চয়ই আপনিও দেখতে পাবেন।

শুভ কামনা রইল আপনার জন্য। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। ওটাই আপনাকে নিয়ে যাবে সেই স্বপ্নের দেশে যেখানে যাওয়ার জন্য আপনি স্বপ্ন দেখেন।

পল্লবী।। ঢকা।।

৩১ জুলাই ২০১৫

Advertisements

One thought on “স্বপ্নের দেশে যাওয়ার মন্ত্র

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s