৩০ লাখ শহীদের কান্না শুনতে পাই


ncEyxrkai

৩০ লাখ শহীদ আত্মাহুতি দিয়েছেন ৩০ বছরের বেশি হলো। তাদের কান্নার শব্দ এতো বছরে ভারী বর্ষনের রূপ নিয়েছে। সারা দেশেই এখন কান পাতলে তাদের কান্নার ভারী শব্দ শোনা যায়। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ৩০ লাখ মানুষ কাঁদছে। নীরবে নয়। উচ্চ স্বরে। ভাবা যায়। শত শত কামানের গর্জন এই কান্নার শব্দের কাছে নস্যি। মনে হচ্ছে ৩০ লাখ শক্তিশালী ট্যাংক কিংবা গান বোট চলছে বাংলার আকাশ বাতাস উলট পালট করে। কিন্তু এই বিশাল গর্জন শুনতে পায় না একদল বধির রাজনীতিবিদ, যারা অজানা ক্ষমতাবলে দেশের সাড়ে ৭ কোটি থেকে বেড়ে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যবিধাতায় ভূমিকায় যুগে যুগে অবতী‍র্ণ হয়েছে। তাদের পরাক্রমশালীতায় বীর শহীদেরা হাসফাঁস করছে। যেন বলছে একবার সুযোগ পেলে নিশ্চিহ্ন করে দিতাম। প্রয়োজনে আবারো মরতাম। যেন তারা বলছে- বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম কিংবা বীর প্রতীক হওয়ার জন্য নয় জীবন দিয়েছি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি পাকিস্তানী শাসকদলের নিষ্ঠুর নিপীড়ন বন্ধ করতে। তাদের কণ্ঠে যেন হাই ভোলটেজ অভিমান। অভিমানী কণ্ঠে বলছে- আমরা তো জীবন দিয়ে তোমাদের ক্ষমতা দিয়ে গেলাম। তোমরা আমাদের ঋণ কীভাবে শোধ করছো?

কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর?

১৯৭০ সালে যখন সোনার ভরি কমবেশি ১২৫ টাকা তখন একজন শ্রমিকের নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণ করা হলো ১৫০ টাকা। সেটাও কম ছিল। ৩০ লাখ শহীদের রক্তভেজা এই মাটিতে চেতনার বীজ থেকে ৪৫ বছরে চেতনার বটবৃক্ষ তৈরি হলেও শ্রমিকের নূ্যনতম মাসিক মজুরি সোনার ভরির দামকে ছাড়াতে পারেনি।

স্বাধীনতাত্তোরকালে এই দেশে হাজার হাজার এনজিও তৈরি হয়েছে। শত শত দানবীরের দেখা মিলছে। তারা শীতকালে গরিব দুঃখী মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে। বন্যার সময় রান্না করা খিচুড়ি আর চাল ও টিন বিতরণসহ নানাবিধ সাহায্য করে। এসব কাজের ছবি ও বর্ণনা প্রায়শ বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ যোগাযোগের সকল মাধ্যমে প্রকাশ করে। একদল মানুষের দুঃখকষ্ট জিইয়ে রাখার জন্য আরেকদল মানুষ যেন সদাব্যস্ত। ৭০ এর ঘূর্ণিঝড়ের সেই ভয়াল রূপ ও তত্‌পরবর্তী অবস্থার যেন কোন পরিবর্তন নেই।

একদিকে না খেতে পারা মানুষের কান্না। অন্যদিকে লুটপাট। এ এক অদ্ভুত সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩০ লাখ শহীদের কোন স্বপ্নই খুঁজে পাওয়া যায় না। যে চেতনা তারা বুকে ধারণ করে নিজের জীবন উত্‌সর্গ করেছিল দেশ মাতৃকার জন্য সেই চেতনা এখন তিনটি বর্ণের আকৃতি পেয়েছে।

স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা অসীম সাহসিকতায় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল তারা এখন বুকে পাথর চাপা দিয়ে বসে আছে। কেউবা দেশে কেউবা বিদেশে। বাংলাদেশ নামের যে ভূখন্ডের জন্য তারা লড়াই করেছিল সেই ভূখন্ড ও লাল-সবুজ পতাকা যেন তাদের কাছে অজানা। যে মানুষের মুক্তির জন্য তারা লড়াই করেছিল সেই মানুষদের কারো কারো কর্মকান্ড তাদেরকে সীমাহীন লজ্জায় ডুবিয়ে দেয় বার বার। তারা হয়তো প্রতিনিয়ত ভাবে ৩০ লাখের মধ্যে তারাও কেন থাকলো না। তাহলে অন্তত তিলে তিলে কষ্ট পেয়ে দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা তাদেরকে সইতে হতো না। তারা হয়তো জানে না ৩০ লাখ শহীদ কি কষ্টে আছে।

৩০ লাখ শহীদের কান্না শুনতে পাই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s