মেজর জিয়াকে নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে


Zia

একজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াকে নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে? গত ৮ বছরে দেশের রাজনীতিতে এবং সংসদে সর্বাধিক উচ্চারিত নাম মেজর জিয়াউর রহমান। সাম্প্রতিককালে ক্ষমতাসীন দলের কোন না কোন নেতা প্রতিদিন একবার করে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম নেন, যা আবার কোন না কোন পত্রিকায় ছাপা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১টি সেক্টরে থাকা প্রায় দুই লাখ যোদ্ধা ভারত থেকে ভাতা ও রেশন পেতো। তাদের একজন হলেন মেজর জিয়া। অর্থাত্‌ ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধার একজন হলেন মেজর জিয়া।

তথ্য অনুযায়ী ১১টি সেক্টরের ৬১টি সাব সেক্টরের সৈন্য ও গেরিলা ছিল। যার মধ্যে সৈন্য হলো ২৯,২৬৫ জন, নৌ কমান্ডো ৫১৫ জন এবং গেরিলা হলো ১,৫৭,৫০০ জন৷ এছাড়াও মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিল ১০ হাজার জন৷ সবমিলিয়ে হলো: ১,৯৭,২৮০ জন৷ অর্থাৎ প্রায় দুই লক্ষ৷

দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার একজন জিয়াকে নিয়ে এতো আলোচনার কোন কারণ থাকতে পারে না। এটি একজন সামান্য মেজরকে অসামান্য করে তুলছে মাত্র। এবং সেই সঙ্গে এই ধরনের আলোচনা মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়া এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল জিয়া সম্পর্কে জানতে বর্তমান প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলছে মাত্র। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির ইতিহাসের একাত্তরের একজন সামান্য মেজর, পরবর্তীতে জেনারেল এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চির জাগরূক এক আলোচ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেই চলেছে। বরং স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দিক থেকে দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেকের উপর আলোচনা হওয়া দরকার। কোন একজনকে বিশেষ জায়গা দেওয়া অন্যকে খাটো করার শামিল। এছাড়াও মেজর জিয়ার আলোচনা এতো বেশি হওয়ায় বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে আলোচনা কম হচ্ছে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি এই দেশের ১ শতাংশ মানুষ বীরশ্রেষ্ঠদের নাম বলতে পারবে না। কিন্তু ১০০ শতাংশ মানুষ জিয়াউর রহমানের নাম বলতে পারবে। আমি একথাও বলতে পারি যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ যারা ভারতে অবস্থান করে কৌশলগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই সকল যুগশ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের নামও খুব কম মানুষ জানে। এভাবেই আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদদের উপর একাত্তরের একজন সামান্য মেজরকে গুরুত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে রাজনীতির চেয়ে সামরিক বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

এই অবস্থায় ৭১ পরবর্তী প্রজন্ম যদি মনে করতে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সামরিক বিজয়, রাজনৈতিক বিজয় নয় তাহলে কি তাদেরকে দোষ দেওয়া যাবে? বড় ধরনের ক্ষতির আগেই একাত্তরের সামান্য মেজর জিয়াকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা কি ছিল সেটা নতুন প্রজন্মকে জানানোর মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের ইমেজ উদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে।

ঢাকা।। ২১ আগস্ট ২০১৬।।

 

Advertisements

One thought on “মেজর জিয়াকে নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s