ভারতের হরিয়ানা বিধানসভায় নগ্ন সন্ন্যাসীর ভাষণ


nude_monk_20160827_630_630রাজনীতির উপর ধর্মের নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যাবশ্যক। ধর্ম হলো স্বামী, আর রাজনীতি হলো স্ত্রী। প্রত্যেক স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে রক্ষা করা। আর প্রত্যেক স্ত্রীর দায়িত্ব হলো তার স্বামীর বেধে দেওয়া নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলা। রাজনীতির উপর ধর্মের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণহীন হাতির মতো হবে।

তিনি নগ্ন অবস্থায় আসলেন। ডায়াসে বসলেন। তার বসার জায়গাটা রাজ্যের এমপি তো বটেই এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর বসার জায়গা থেকেও উপরে ছিল। ভারতের বিধানসভায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ভারতীয় এই সন্ন্যাসী নেতার নাম মি. তরুণ সাগর। তিনি সেদিন বিধানসভায় ৪০ মিনিট ধরে ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি শুধু ধর্মের কথা নয়, রাজনীতির কথাও বলেছেন। ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় এই সংবাদ ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। অনেক পত্রিকায় তার বক্তৃতার অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে।

তিনি বক্তৃতায় রাজনীতির উপর ধর্মকে স্থান দিয়ে বলেছেন- রাজনীতির উপর ধর্মের নিয়ন্ত্রণ অত্যাবশ্যক। ধর্ম হলো স্বামী, আর রাজনীতি হলো স্ত্রী। প্রত্যেক স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে রক্ষা করা। আর প্রত্যেক স্ত্রীর দায়িত্ব হলো তার স্বামীর বেধে দেওয়া নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলা। রাজনীতির উপর ধর্মের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণহীন হাতির মতো হবে।

মি. সাগর ভারতে কন্যা ভ্রূণহত্যাকে “বড় সমস্যা” উল্লেখ করে বলেন যে, এর ফলে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরাধ ও ধর্ষণ বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে তিনি রাজনীতি, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে তিন স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, যাদের কোন কন্যা সন্তান থাকবে না তারা লোকসভা ও বিধানসভায় নির্বাচন করতে পারবে না। সামাজিকভাবে যে পরিবারে কোন কন্যা সন্তান নেই সেই পরিবারে কেউ তাদের মেয়েকে বিয়ে দেবেন না। আর ধর্মীয়ভাবে কন্যা সন্তান নেই এমন পরিবারের কোন দান গ্রহণ করা হবে না। মি. সাগর দাবী করেন যে, এই ফরমুলা অনুসরণ করা হলে কন্যা ভ্রূণহত্যার ক্ষেত্রে ধারণাতীত ফলাফল পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন যে, আমরা একুশ শতকে বাস করছি অথচ এখনো যখন শুনি যে ছেলেমেয়েদের আলাদা চোখে দেখা হচ্ছে তখন আমার মনে হয় আমি চৌদ্দশ শতকের বাস করছি।

রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, রাজনীতি দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য হলেও রাজনীতি নিজেই এখন দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। তিনি দাবী করেন যে, জরিপে দেখা যায় যে দেশের ১৬০ জন এমপির বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় তিনি সতর্ক করে দেন যাতে অপরাধমূলক কর্মকান্ড লোকসভা ও বিধানসভায় ঢুকতে না পারে।

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, কোন ধর্মই জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। তিনি পরামর্শ দেন যে, অস্ত্র কেনার জন্য খরচ করা সরকারি অর্থ  শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবায় খরচ করার মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একথা সবাই জানে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান জঙ্গিবাদে মদদ দেয়। তারা ভারতের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। কেউ একবার ভুল করলে সেটাকে তার অজ্ঞতা বলা যায়। দুইবার ভুল করলে তাকে নিরীহ বলা যায়। কিন্তু কেউ যদি তিনবার একই ভুল করে তাহলে সে হলো শয়তান এবং বারবার যে ভুল করে সে হলো পাকিস্তান। এবং এমন একজন ভুলকারী যাকে ভারত বারবার ক্ষমা করে দিচ্ছে।

মি. সাগর আরো বলেন যে, গঙ্গা যেমন ঋষিকেশে প্রথমে বিশুদ্ধ হচ্ছে, এরপর আবারো হরিদ্বারে, এবং এভাবে একের পর এক ধর্মীয় ঘাট পার হয় আর বিশুদ্ধ হয়ে পথ চলতে থাকে ঠিক তেমনি বিধানসভায় প্রথম অধিবেশনে যদি ধর্মকে রাখা হয় তাহলে রাজনীতির সকল ঘাট আপনাআপনি শুদ্ধ হবে।

সূত্র: ভারতীয় পত্রিকা আউটলুক ও অন্যান্য।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s