কোথাও এক সলতে আগুন আছে জ্বলে উঠার অপেক্ষায়


imagesআগুন সভ্যতাকে দিয়েছিল নতুন রূপ। কতো বছর আগে মানুষ প্রথম আগুনের ব্যবহার শিখেছিল? প্রায় দশ লাখ বছর আগে। অন্তত ৬০ হাজার বছর আগে আফ্রিকার মানুষ আগুন ব্যবহার করে রান্না করতে শিখেছে। তারপর সেটা সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে আফ্রিকা ঘুরে এসে আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্য আফ্রিকানদের অসভ্য বলেছিল। ইওরোপীয়রা বর্ণবাদী চিন্তাধারা আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। দাসপ্রথা গড়ে তুলেছিল। আফ্রিকার মানুষ প্রথমে ঘরের বাইরে কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে শেখে। একাজের জন্য তাদেরকে আগুনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হয়েছিল। তারপর যখন বরফ যুগের সুচনা হলো মানুষ শিখে নিল কিভাবে আগুন শক্তিকে ঘরের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করে গুহাসহ বাসস্থানকে গরম রাখা যায়। এরপর পাথর যুগে যখন ঘরবাড়ি তৈরি হতে শুরু করল, মানুষ পাড়া মহল্লা করে বাস করতে লাগল তাদের আগুনের চাহিদাও বাড়ল। এদিকে কাঠের সরবরাহ কমে আসায় তারা কয়লা ব্যবহার করতে শিখল। বাসা বাড়িতে কয়লা দিয়ে রান্নাবান্না করার প্রচলন হলো। আগুন দিয়ে মাটি পুড়িয়ে হাড়ি পাতিল তৈরি হতে লাগল। এভাবে আগুন মানুষের জীবন ও অগ্রগতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। সোনা রূপার গয়না তৈরি করা বলেন, বাষ্পচালিত ইঞ্জিন বলেন, কলকারখানা চালু রাখার কথা বলেন সব জায়গাতেই আগুনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কয়লার আগুন, গ্যাসের আগুন, কাঠের আগুন, এমন সব আগুনের পাশাপাশি মানুষের মনের আগুন বলেও একটা বিষয় তৈরি হয়েছে। সেই আগুন যখন জ্বলে উঠে তখন মানুষের অর্জন ঘটে। যেমন, ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদের আগুনে উদু‍র্কে থামিয়ে দিয়েছিল আর বাংলাকে দিয়েছিল মায়ের ভাষার মর্যাদা। ১৯৭১ সালে মানুষের মাঝে জ্বলে উঠা আগুনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল আমরা পেয়েছিলাম একটা স্বাধীন বাংলাদেশ।

আফ্রিকা যে আগুন সভ্যতা তৈরি করে দিয়েছিল সেই আগুন সভ্যতায় ভর করে পৃথিবী এখনো এগিয়ে চলছে। এখনো মানুষ কয়লায় বার বি কিউ করে। ইট পোড়ায়। মাটির হাড়ি পাতিল বানায়। কামার বানায় দা খুন্তি। আগুন আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। আবার এই আগুনই আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করে। যখন আমরা আগুনকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করি তখন কি ভয়ানক ঘটনা ঘটতে পারে সেটা আমরা দেখেছি সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্য দিয়ে।

আগুনের ব্যবহার মানুষই প্রচলন করেছিল ভালোর জন্য। আবার মানুষই সেটাকে ব্যবহার করছে খারাপ কাজে। এখানে আগুনের নিজস্ব কোন ভূমিকা নেই। পৃথিবীতে যা কিছুই আমরা দেখি, সেটা ভালো কি মন্দ সবটাই মানুষের ব্যবহার ও খেয়াল খুশির উপর নির্ভর করে। আমরা যখন মানবতার কথা বলি। বিশ্বায়নের কথা বলি। তখন বিশ্বের কে কোথায় আছে সেটা কী আর বড় করে দেখার সুযোগ থাকে? মানুষের জন্য কাজ করলেই তো হলো। কিন্তু ভারসাম্য বলেও তো একটা কথা আছে তাই না? পৃথিবীর সব চোর যদি একজায়গায় জমা হয় তাহলে ভারসাম্য কি ঠিক থাকবে? থাকবে না। ঠিক তেমনি একটি দেশের কাজ জানা লোকগুলোর অর্ধেক যদি দেশ ছাড়ে বাকি অর্ধেকের অর্ধেক যদি অবসরে থাকে এবং শেষ অংশটা যদি বিমর্ষ হয়ে পড়ে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে এবং হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে শুরু করে তাহলে ওই দেশের পরিণতি কি হতে পারে?

মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতার সঙ্কট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সঙ্কট। বিভক্তির রাজনীতি থেকে যে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ছড়িয়েছে কতিপয় অদূরদর্শী ও ভবিষ্যত্‌ দেখতে অক্ষম কীট তাদের কারণেই দেশে তৈরি হয়েছে অবিশ্বাসের রাজনীতি। আর সেখান থেকে জন্ম নিয়েছে আস্থাহীনতা। যা দেশের সকল সমস্যার মূল কারণ।

দেশে আস্থাহীনতার পরিবেশ দূর করে সমাজ ও রাষ্ট্রে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই দেশ তরতরিয়ে এগিয়ে যাবে।

যারা বিভক্তির রাজনীতি করে তাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম। যারা অবিশ্বাস ও অস্থিরতা তৈরি করে দিয়েছে দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে তাদের প্রতি এক দলা থু থু রেখে গেলাম।

১৬ কোটি মানুষকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হতে দিচ্ছে না নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে তাদের জন্য অভিশাপ ও নিন্দা রইল।

জেগে উঠুক মানুষ। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

একসময় দেশে সামাজিক মুরুব্বিদের শাসন ছিল। মেধাবীদের কদর ছিল। স্বাধীনতা উত্তরকালে প্রথমে রাজনৈতিক নেতারা পরবর্তীতে রাষ্ট্র সামাজিক মুরুব্বিদের নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য করেছে। এখন তো তাদের কোন রা নেই। আর মেধাবীদের ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ হত্যা করা শুরু হয়েছে সেই ঢেউ থামছে না।

স্বল্পশিক্ষিত ও পরনির্ভরশীল একটি দেশ মুরুব্বিদের শাসন আর মেধাবীদের অনুপস্থিতিতে অচল হয়ে পড়ছে।

মুরুব্বি সমাজ ও মেধাবীরা গর্জে উঠলেই দেশ বদলে যাবে।

৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকায় ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে যে বাংলাদেশ এমন আরেকটি দেশ পৃথিবীতে নেই। ফলে উদাহরণ দেখে শেখার সুযোগ নেই বাংলাদেশী নেতাদের। তারমানে এটা ভাবার দরকার নেই যে, বাংলাদেশ গড়ার জন্য শূণ্য থেকে ভাবতে হবে। কারণ সুন্দর ও সুখী দেশ গড়ার মৌলিক বিষয়গুলো ধর্মে দেওয়া আছে। সকল ধর্মেই মানুষের কল্যাণের কথা বলা আছে। সত্য বলা ও সত্যের পথে চলার কথা বলা আছে। অন্যের ক্ষতি না করার কথা বলা আছে। অন্যের উপকার না করতে পারলেও অপকার না করার কথা বলা আছে। বলা আছে যে, লোভ ও হিংসা থেকে মুক্ত থাকার। অহংকার না করার কথা বলা আছে। প্রতিবেশীর সমস্যা না করার কথা বলা আছে।

বাংলাদেশের সমস্যা হলো বাংলাদেশের নেতারা মিথ্যা না বললে তাদের সম্ভবত ঠিকমতো টয়লেট হয় না। যেকারণে তারা প্রতিদিন মিথ্যা বলে। তারা নিজের কল্যাণেই মগ্ন থাকতে পছন্দ করে এবং সেভাবেই সকলকে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে কারণে অকারণে অন্যের ও প্রতিবেশীর ক্ষতির কারণ হয়। লোভ ও হিংসা দ্বারা চালিত হওয়াটা তারা স্বাভাবিক বলেমনে করে। আর অহংকার সে যেন তাদের পোশাকে পরিণত হয়েছে। শরীরে না থাকলে তাদের নিজেকে ন্যাংটো মনে হয়।

ফলে, বাংলাদেশকে একটি ভূ-স্বর্গ বানানোর পরিবর্তে এই দেশের নেতারা ক্রমাগতভাবে বসবাস অযোগ্য করার আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের সাফল্য এই দেশের মানুষের মনকে বিপন্ন করছে। যারা পারছে তারা ভেগে যাচ্ছে। যারা পারছে না তারা একটু একটু করে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আমার আহ্বান হলো দেশটা যেহেতু আপনার এবং আপনি যদি মনে করেন যা হচ্ছে সেটা ঠিক হচ্ছে না। তাহলে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিন।

আপনি যেমন ক্ষমা করতে পারছেন না বর্তমান নেতাদের। আপনাকেও কিন্তু ক্ষমা করবে না আপনার পরের প্রজন্ম। আপনি যদি বর্তমান নেতাদের মনে মনে গালি দেন অভিশাপ দেন, মনে রাখুন পরের প্রজন্ম তাদের জীবনকে বিষিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে প্রকাশ্যে গালি দেবে। প্রকাশ্যে থু থু দেবে।

সিদ্ধান্ত নিন। গালি খাবেন। থু থু নেবেন। না কি নেতৃত্ব দেবেন। বর্তমান নেতারা মারা যাওয়ার পরই আপনার গালি খাওয়া শুরু হবে। চলবে না মরা পর্যন্ত।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s