সোনায় বাঁধানো কবর


এক.

কোব্বাত আলী সারাটা জীবন সততার সঙ্গে কাটিয়েছে। কেউ বলতে পারবে না এক পয়সা ঘুষ খেয়েছে। অথচ কতোই না সুযোগ ছিল ঘুষ খাওয়ার। এনিয়ে তাকে কম গঞ্জনা সহ্য করতে হয়নি, বাড়িতে ও বন্ধু মহলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোব্বাত আলী ঘুষ না খেয়েই তার চাকরি জীবন শেষ করতে পেরেছে। একটি সফল চাকরি জীবন ছিল কোব্বাত আলীর। শীর্ষে পৌঁছাতে পেরেছিল। ফুল সেক্রেটারি বা পূর্ণ সচিব হিসেবে রিটায়ার্ড করেছে। তাকে একবার তার এক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিল- কোব্বাত বলতো একজন সেক্রেটারি হয়ে তুই কি জিনিসটা মিস করছিস? কোব্বাত জবাব দিয়েছিল- আমি কোন কিছুই মিস করছি না। আমি পারফেক্ট। পাশেই উপস্থিত আরেক বন্ধু জানতে চেয়েছিল- এডিশনাল সেক্রেটারি থেকে ফুল সেক্রেটারি হওয়ার পর তুই কি পার্থক্য নিজের মধ্যে দেখতে পাচ্ছিস? কোব্বাত আলী জবাব দিয়েছিল- আমি কোন পার্থক্য দেখতে পাই না। তবে অন্যরা পায়?

কী সেটা? বন্ধুরা জানতে চেয়েছিল।

কোব্বাতের জবাব ছিল- ক্ষমতার পার্থক্য। একজন এডিশনাল সেক্রেটারির সঙ্গে ফুল সেক্রেটারির ক্ষমতার পার্থক্য তোরা কল্পনাও করতে পারবি না। এর তুলনা করার মতো আমি এই মুহুর্তে কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।

বন্ধুরা তখন আগ্রহ নিয়ে জানতে চেয়েছিল- তুই কী তাহলে এবার তোর ক্ষমতা দেখাবি। মানে, এবার কি তুই একটু মালপানি কামাবি?

কোব্বাত কপট রাগ দেখিয়েছিল বন্ধুদের। বলেছিল- ক্ষমতা দেখাতে তো আমি কখনো কাপর্ণ্য করিনি। কিন্তু মালপানি কামানো ওটা আমাকে দিয়ে হবে না। তবে তোরা যদি চাস তোদেরকে মালপানি কামানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারি।

সেদিন বন্ধুদের চোখ ছানাবড়া হয়েছিল কোব্বাতের কথা শুনে। যে কোব্বাত অর্থকড়ির ব্যাপারে এতোটা সত্‌ সেই কি না এই কথা বলছে। বন্ধুরা একে অন্যের দিকে তাকিয়েছিল। তাদের চোখে ছিল অবিশ্বাস। কিন্তু কোব্বাত আলী তার কথা রেখেছিল। সে বন্ধুদের দুই হাতে কামাইয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। রিটায়ার্ডমেন্টের পর রাজনীতিতে এসেছিল কোব্বাত আলী। কিন্তু সে তার নীতি থেকে একচুল নড়েনি। শুধু বন্ধুদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছিল মাত্র। কোব্বাত আলী সেই আগের মতোই ছিল।

দুই.

কোব্বাত আলীর বাড়িতে কান্নার রোল শোনা যাচ্ছে। যারা কাঁদছে তাদের বেশিরভাগই কোব্বাত আলীর বন্ধু বান্ধব আর দলীয় নেতা কর্মী। তাদের কান্না শুনে মনে হচ্ছে তারা তাদের মা কিংবা বাবাকে হারিয়েছে।

তিন.

দূর গ্রামের মধ্যে একটি কবর। চাঁদনি রাতে জ্বল জ্বল করে জ্বলে। বন্ধুরা তাদের প্রিয় কোব্বাত আলীকে ভুলে যায়নি। সবাই চাঁদা দিয়ে কোব্বাত আলীর কবরটা সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিয়েছে। মাত্র ৭০ হাজার কেজি সোনা লেগেছে কবর বাঁধাই করতে। কোব্বাত আলী তাদেরকে সারাজীবন যা দিয়েছে সে তুলনায় এটা কিছুই না।

পল্লবী। ঢাকা।।
৩ জুন ২০১৭

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s