এবং সেটা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব


এক.
ঊর্ধ্বপানে ছুটে চলা বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান সমস্যা বিশ্বাস হারানো। অন্যভাবে বলা যায় মেনে নেওয়া। প্রতিদিন আমরা কতো কিছু মেনে নিচ্ছি। সেই তালিকা কোনদিন তৈরি করলে আমরা নিজেরাই হয়তো বিষ্মিত হবো।
 
দুই.
যানজটের কারণে গত ১০ বছরে ঢাকা শহরে আমার চলাচল অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। গত ৫ বছর ধরে আমার চলাচলের একটি নির্দিষ্ট এলাকা হলো বনানী কবরস্থান হয়ে গুলশান যাতায়াত। কবরস্থানে ঢোকার মুখেই হাতের বায়ে কুখ্যাত মোনায়েম খানের বাড়ি। ওই বাড়িতে একসময় আমেরিকান কালচারাল সেন্টার ছিল। সেসময়ে অনেকবার গিয়েছি। গেট থেকে একটা দীর্ঘপথ পার হয়ে মূল ভবনে যেতে হতো। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মি. আনিসুল হক নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা জানলাম বাড়িটি সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। এটি যে উদ্ধার হতে পারে সেটা এতোদিন কারো মাথায় আসেনি। কিংবা বলা যায় মেনে নিয়েছিল সবাই। মি. আনিসুল হক সরকারি জায়গা উদ্ধার করলেন। সরকারি জায়গা মানে জনগণের জায়গা। আমি বিষয়টিকে দেখি বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে।
 
তিন.
সপ্তাহ দুয়েক আগে শেওড়াপাড়া থেকে একটা স্কুটার নিলাম ফকিরাপুল যাবো। পথে ফার্মগেটে একজন নামবেন। আমার ধারণা ছিল স্কুটারটি কাওরানবাজার হয়ে যাবে। কিন্তু স্কুটারচালক রওয়ানা হলো তেজগাও রেলক্রসিংয়ের দিকে। জিজ্ঞাসা করায় বলল সাতরাস্তা মোড় হয়ে যাবে। আমি তার উপর বিরক্ত হলাম। কিন্তু কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর আমার জন্য অপেক্ষা করছিল বিষ্ময়। ছোট বড় নানান ট্রাক দিয়ে ভর্তি হয়ে থাকা ভাঙ্গাচোরা যে রাস্তা আমি সর্বশেষ চিনতাম সেটা নেই। চমত্‌কারভাবে কয়েক মিনিটে আমি পার হয়ে এলাম একসময়কার বিরক্তিকর রাস্তাটি। রাস্তাটির নির্মাণমানও ভালো মনে হলো। স্কুটারওয়ালাকে বললাম, এই রাস্তার চেহারা তো বদলে গেছে। স্কুটারওয়ালা বলল, সময়ও বাঁচে। কাওরানবাজারে অনেক জ্যাম। ওই রাস্তা পার হয়ে ফ্লাইওভার হয়ে অল্প সময়েই ফকিরাপুল পৌঁছে গেলাম। তেজগাওয়ের ট্রাক স্ট্র্যান্ডের এই রাস্তাটি যে উদ্ধার হতে পারে, জনগণের চলাচলের জন্য এভাবে কাজে লাগতে পারে সেই বিশ্বাস আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
 
চার.
রাষ্ট্রের এমন আরো অনেক ক্ষেত্রে বিগত ৪৬ বছরে অনেক বিশ্বাস হারিয়েছি আমরা। যা ফিরিয়ে আনা দরকার। সেসঙ্গে নতুন করে যে সব জায়গায় বিশ্বাস হারাতে বসেছে, যেমন নৈতিকতার অধঃপতন কিংবা মিথ্যাচারের প্রবৃদ্ধি সেসবের দিকেও উপযুক্ত মনোযোগ দেওয়া দরকার। গাইড বই, কোচিং ও প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রায় ভেঙ্গে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে রাস্তা উদ্ধারের মতোই উদ্ধার করা প্রয়োজন। এবং সেটা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব।
পল্লবী। ঢাকা।।
৫ জুন ২০১৭
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s