বাংলাদেশী হল ও সিনেমা বাঁচুক


হিন্দি সিনেমা দেখতে আমার ভালোই লাগে। সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে কাহিনী আমার কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সেসঙ্গে সংলাপ। আর সেকারণেই বোধহয় আমার সিনেমা দেখার তালিকায় নানা পাটেকার, কমল হাসান, নাসিরউদ্দিন শাহ, রজনীকান্ত, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আমির খান, অজয় দেবগান, অক্ষয় কুমার, সানি দেউল, ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্না, সঞ্জয়, অভিষেক, অমিতাভ, রাজেশ খান্নাসহ নায়কদের বিশাল তালিকা রয়েছে। নায়িকাদের মধ্যে শাবানা আজমী, স্মিতা পাতিল, রেখা, টাবু, রানী মুর্খাজী, মনিষা, কাজল থেকে আরো অনেকে। সোনাক্ষী সিনহাকেও আমার ভালো লাগে।

হিন্দি সিনেমায় সাহসী পুলিশ অফিসারের কাহিনী দেখতে ভালো লাগে। সাধারণত এক ছবি আমি দু’বার দেখি না। কিন্তু ইদানীংকালে সিংগাম, রাউডি রাথোর টাইপের সিনেমাগুলো আমি একাধিকবার দেখেছি। হয়তো পুরোটা, কিংবা বাছাই করা কিছু অংশ। হয়তো নিজ দেশ ও সমাজে এমন কিছু চাই বলেই বার বার দেখা! আমার ধারণা আমার মতো এমন আরো অনেকেই সেটা চান। হিন্দি সিনেমা “নায়ক” আমি একাধিকবার দেখেছি। সেটাও হয়তো একই ধরনের চাওয়া থেকে। একই কারণে ভারতীয় বাংলা সিনেমার নায়কদের মধ্যে আমার পছন্দ রঞ্জিত মল্লিক, ভিক্টর ব্যানার্জি।

চিনি না, জানি না, আগে কখনো দেখিনি এমন নায়ক নায়িকা কিংবা নায়ক নায়িকা বিহীন ছবিও আমি মনোযোগ দিয়ে দেখি যদি কেউ রেফার করে। কিংবা ইন্টারনেটে রিভিউ পাই।

আমার কাছে মনে হয়, ভালো সিনেমা সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। সিনেমা যদি ফ্যাশন ও তরুণ বয়সীদের জীবনযাপন প্রভাবিত করতে পারে তাহলে সমাজ বদলের হাতিয়ার কেন নয়।

হিন্দি সিনেমার গল্প তো ওই সমাজেরই গল্প। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হিন্দি সিনেমার গল্প বিশেষ করে অপরাধ জগতের গল্পগুলো বাংলাদেশী পত্রিকার পাতায়ও দেখতে পাই। এযেন এখন বাংলাদেশেরও গল্প হয়ে উঠেছে। এই যেমন ধরুন আজকে সকালে অফিসে ঢুকেই সমকাল পত্রিকার একটি হেডিং দেখলাম- “বহিষ্কারের পরেই লাপাত্তা মতিন।”

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় মতিনের উত্থান এবং দল থেকে বহিষ্কারের পর এক লহমায় ভূতলে নেমে আসা হিন্দি ছবির কাহিনীর মতোই। এই কাহিনী নিয়ে দুর্দান্ত সিনেমা হতে পারে। হিন্দি সিনেমা হলে এতে নানা পাটেকার, পরেশ, নওয়াজউদ্দিন, ইরফান , বিদ্যা বালান ও সোনাক্ষী সিনহার অভিনয় আমি হয়তো দেখতে চাইতাম। বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় হিন্দি ছবির কাহিনী এখন প্রায়ই দেখা যায়, তারমানে বাংলাদেশের সমাজে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধের বিস্তার বেড়েছে।

বাংলাদেশী প্রযোজক ও পরিচালকদের বলব, আসুন, দেশে ঘটে যাওয়া এইসব ঘটনার ভিত্তিতে দুর্দান্ত সব গল্পের প্লট নিয়ে সমাজ বদলের লক্ষ্য নিয়ে সিনেমা বানান। হল বাঁচুক। সিনেমা বাঁচুক। সিনেমার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হোক।

#rebuildBangladesh

ঢাকা।। পল্লবী।।
৫ আগস্ট, ২০১৭

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s