ঢাকায় থাকার আনন্দ-১


DSC_4271একটা জিনিস ঢাকার মানুষ এখন খুব এনজয় করে। সেটা হলো রাস্তাঘাটের খোড়াখুড়ি। সেদিন এক বন্ধুকে রাত সাড়ে ৯টায় ফোন দিয়ে আছিস কেমন জিজ্ঞাসা করতেই বলল, “দোস্ত খুব ভালো আছি। মহাখালীর জ্যাম পার হয়ে একটু আগে বাসায় ফিরেছি। এখনই আবার বের হতে হবে।”

আমি বললাম, “ও আচ্ছা। ব্যস্ত আছিস। তাহলে পরে কথা হবে।“

“ব্যস্ত মানে মহাব্যস্ত, তবে একসাইটেড। মহাখালী ছেড়ে মতিঝিলে নতুন অফিস চাকরি লইছি। সকাল বিকাল দুই বেলা জ্যামে থাকতে হয়, এতে যে কি সুখ সেটা তুই বুঝবি না। তার উপর প্রাইভেট কোম্পানি যেমন বেতন তেমন বাঁশ। গত কয়মাস ধরে ফাটাফাটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাইতেছি। এখন আবার গ্যারেজ দেখতে বাইর হইতে হইব।”

“কেন তোর গ্যারেজের কি হইলো?”

“আরে মামু সেইটা তুমি বুঝবা না। সকালে গাড়ি নিয়া তো কোন আনন্দ ছাড়াই বের হয়ে গিয়েছিলাম। এখন ফিরে দেখি বাসার সামনের রাস্তাটা সুন্দর করে কেটে দিয়েছে। কি আনন্দ বল। এখন গাড়ি অন্য জায়গায় রাখতে হবে। রাস্তা ঠিক ঠাক হইতে নাকি একমাস লাগবে।”

“তাইলে তো তুই মহা আনন্দে আছোস। মাসখানেক পরে নতুন রাস্তা পাবি।”

“তাতো বটেই। এই আনন্দের মধ্যে তো আমরা ঢাকার সবাই আছি। এই আনন্দ তো তুইও পাস। আমি পাইলে তোর হিংসা লাগে ক্যানো?”

“হিংসা করমু কেনরে দোস্ত। তুই যা, রাত হইসে। দেখ গ্যারেজ ভাড়া পাস কিনা। তোদের এলাকায় তো আবার গাড়ি বেশি। তবে গ্যারেজ ভাড়া পাইলে আমাগোরে একদিন খাওয়াইয়া দিস।“

“অবশ্যই বন্ধু। দোয়া রাইখো।”

আমার এই বন্ধুটা খুব আনন্দ স্ফূর্তিতে থাকতে পছন্দ করে। আমাকে বলেছে ঠিক মতো লিখতে পারলে ওর কোম্পানিই আমার বইয়ের হাজার হাজার কপি কিনে নেবে। 😀

যাই হোক। ফোন ছেড়ে দিয়ে ভাবলাম, শুধু আমার বন্ধু নয় ঢাকা শহরের সব মানুষ ভীষণ আনন্দের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এবং কারো সাথে কারো দেখা হলে সেই আনন্দের খবর ভাগাভাগি করছে। দেখে না হলে ফোনে আলাপ করে। এই যেমন গতকাল রাতে টয়লেটে, বাইরে ফোনের শব্দ। ভাইবারের কল। ফোন বাজলে না ধরা পর্যন্ত আমি একটু অস্থির থাকি। ছোটবেলা থেকেই ফোনের শব্দ আর গেটের বেলের শব্দ আমাকে ফোন না ধরা আর গেট না খোলা পর্যন্ত অস্থির করে রাখে। কিন্তু টয়লেট থেকে তো ইচ্ছে করলেই বের হওয়া যায় না। বাথরুমের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ৯টা বাজে। এই সময়ে ভাইবারে কে কল দিতে পারে ভাবতে লাগলাম। একসময় ভাইবারের কল থেমে গেলো। এবার ফোন বাজতে লাগলো। সেটাও থামল। আমি বের হয়ে দেখি এক বন্ধুর কল। তাকে কল ব্যাক করলাম।

“তোর বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম।“

“বাসায় আইলেই পারতি।“

“ফোন তো ধরলি না।“

“আরে ব্যাটা টয়লেটে ছিলাম। কেমনে ফোন ধরুম। এখন আয়।“

“এখন আয় কইলেই তো আসা যাইব না। চমত্‌কার এক জ্যামে আটকে আছি। আর তোর বাসার গলি পার হয়ে গেছি।”

“হ্যা রাস্তার জ্যামটা বেড়েছে। তাছাড়া টার্ন নেওয়ার সুবিধাগুলোও কমানো হয়েছে।“

“আরে তোরা তো আছোস মহাসুখে। আর তো মাত্র কয়েকদিন তারপর তো উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে পড়বি।“

“তা অবশ্য ঠিকই বলেছিস।“

“মেট্রোরেল, ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট আরো কতো কি তোদের এলাকায় হচ্ছে।” বন্ধু বলে চলে।

“দোস্ত এইভাবে কইস না। তোদের এলাকায়ও অনেক উন্নয়ন হচ্ছে।“

“তা অবশ্য ঠিক। সারা ঢাকা শহরেই উন্নয়ন হচ্ছে। ধুলাবালি, জ্যাম সবই বেড়েছে।“

“রাস্তায় বের হলেই টের পাই একটা উত্‌সবমুখর পরিবেশ।“

“তোদের থেকে আমি বেশি টের পাই। আমি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করি। এই শহরে গাড়ি চালানোর যে আনন্দ সেটা পৃথিবীর আর কোন শহরে নেই। আমি তো অনেক দেশে গেছি। ছিলাম। এই আনন্দ পাইনি।”

“অথচ দেখ সংখ্যায় অল্প হলেও কিছু কিছু মানুষ কিন্তু অভিযোগ করে।”

“যারা অভিযোগ করে তারা বলদমার্কা লোকজন। কারণ প্রসব বেদনা ছাড়া কি বাচ্চা হয় ব্যাটা?”

“না তা তো হয় না।”

“সেটাই। প্রসব বেদনা সহ্য করব না। আবার উন্নয়ন চাইব?”

এমন সময় সহকর্মী হামিম ভাইয়ের ফোন বেজে উঠল। ফোনটা ধরতেই হবে। আমি বললাম, “দোস্ত ফোনটা এখন ছাড়তে হবে। তুই প্রসব বেদনা এনজয় কর, পরে কথা হবে।”

“ওকে দোস্ত।”
আমার বন্ধুদের সাথে কথা চলতেই থাকে। পরে আরো লিখব। ততোক্ষণ সঙ্গে থাকুন, আর ইচ্ছে করলে আমার ব্লগের পুরনো লেখাগুলো পড়তে পারেন।

৩১ জানুয়ারি ২০১৮
গুলশান-২। ঢাকা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s