ঢাকায় থাকার আনন্দ-২


IMG_8193.JPG

নির্মাণীধীন বাড়ির সামনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ময়লা জমানো ও পরিস্কার করার নিয়মিত দৃশ্য।

(ঢাকা শহরের সব মানুষ ভীষণ আনন্দের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এবং কারো সাথে কারো দেখা হলে সেই আনন্দের খবর ভাগাভাগি করছে। দেখে না হলে ফোনে আলাপ করে।  যারা ঢাকায় থাকার আনন্দ ১ পড়েননি: goo.gl/qa6nvV)

সকালবেলা বন্ধু সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল সাফির ফোন পেলাম। তিনি ছেলেকে শিক্ষকের বাসায় পড়তে দিয়ে অপেক্ষা করছেন। আছেন সিটি ক্লাবের মাঠে। ওখানে প্রতিদিনই খেলাধুলা হয়। মিরপুরের ছেলেমেয়েদের দম ফেলার ও খেলার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই সিটি ক্লাবের মাঠ। যাইহোক। ফোন পেয়ে আমি নাস্তা সেরে সেভ করে হাতমুখ ধুয়ে নতুন কেনা আকাশি রঙের টিশার্ট, একটা ধোয়া জিন্স প্যান্ট পড়ে হালকা পারফিউম লাগিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বের হলাম। ছুটির দিন বলে কথা। ঘড়িতে বাজে সোয়া এগারোটা।

গেট থেকে বের হতেই ফুরফুরে মেজাজটা খিচড়ে গেলো সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি দেখে। সকাল সোয়া এগারোটায় সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িটা ময়লা তুলছে আমার পাশের নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে থেকে। আমার বাসার উত্তর দিকে ৫টা প্লটে তিনটা বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে প্রায় ৮/৯ বছর আগে। এর মধ্যে প্রথম দুইটা প্লটজুড়ে নির্মাণাধীন বাড়িটার কাজের অগ্রগতি সবচেয়ে কম। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এলাকার ময়লা জমানোর কাজটা শুরু হয়েছে বছর দেড়েক ধরে। পুরো সপ্তাহ জুড়ে ময়লা জমানো হয়, স্তুপ তৈরি হয় তারপর সেটা সরিয়ে নেওয়া হয়। কখনো কখনো অবশ্য দুইদিন পরেও ময়লা পরিস্কার করা হয়। যখন ময়লা বেশি হয়ে যায়। ময়লা জমানোর কারণে গেট থেকে বের হয়ে উত্তর দিকে হাঁটাটা এখন প্রায় নিষিদ্ধ এক অবস্থা! তবে একথা ভেবে আমি আনন্দিত হতে চেষ্টা করি যে, অবস্থা আরো খারাপ হতে পারত।

এদিকে গেটের দক্ষিণ পাশে “মরে যাওয়া ড্রেনে” একটি কুকুর বাচ্চা জন্ম দিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে অস্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। বাসার দেওয়ালের নিচে মাটি খুড়েও গর্ত তৈরি করেছে। ঢাকা শহরে কুকুরের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। কুকুরের কামড়ে জনজীবনে দুর্ভোগের কথা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সেনিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। এনিয়ে কয়েক মাস আগে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তখন জানতে পেরেছিলাম কোন এক সংস্থা নাকি কুকুর নিধনের ভার নিয়েছে। তারা এই কাজের বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে কাজ না করেই।

ময়লা আবর্জনার স্তুপ আর রাস্তায় ও ড্রেনে আশ্রয় নেওয়া কুকুরগুলো দেখে আমি শুধু ভাবি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে অগ্রসরমান দেশটির নাগরিক জীবনের অগ্রগতির কথা। ভাবতে ভাবতে চলে আসি মেইন রাস্তায়। মেট্রোরেলের কাজ চলায় সরু হওয়া রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে একে অন্যকে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতারত গাড়িগুলো একরাশ ধুলা উড়িয়ে আমার হাতমুখ ধুয়ে পারফিউম মেখে বের হওয়া ফুরফুরে মেজাজটা রাঙিয়ে দিয়ে চলে যায়। আমি মেনে নেই সবকিছু, উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর হই। আর ভাবি পল্লবীতে তো আমিই ভালো আছি। সেদিন বনশ্রীতে টিভি স্টেশনের পাশের রাস্তার মতো ধুলায় আচ্ছন্ন খাদাখন্দে ভরা রাস্তা তো এটা নয়। আমি কতোটা সৌভাগ্যবান আমাকে শুধু ধুলার কষ্ট পেতে হয়, ময়লা আবর্জনার কষ্ট পেতে হয়; আমাকে ঢাকার সেই সব এলাকার মতো খাদা খন্দ রাস্তা আর ময়লা পানি জমে থাকা রাস্তা ধরে হাঁটতে হয় না।

আনন্দে আর গর্বে আমার বুক ভরে যায়।

পল্লবী।। ঢাকা।।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s