বাংলাদেশের মানুষ বড়ই স্বার্থপর


আমেরিকার নিউইয়র্কে শুক্রবার ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশকে নিয়ে একটা ঘটনা ঘটেছে। ওইদিন জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-র সচিবালয়ের প্রধান রোনাল্ড মোলেরাস বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে এখনই বলা যাবে না বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে। এই সময়ে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবেই পরিচিত হবো। আর এই সময়ে আমাদেরকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগাতে হবে।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার কারণে আমাদের সামনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ চলে আসবে। আমরা গার্মেন্টস-সহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে ইওরোপ ও আমেরিকায় শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারাব কিংবা আমাদেরকে নতুন শর্তে বাজার সুবিধা আদায়ের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। আমাদেরকে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো আরো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যেখানে আমরা অনেকটাই শিথিল মনোভাব দেখিয়ে থাকি। ওষুধ শিল্পে আমরা এখন যে একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছি সেটা থাকবে না। বছরে ১৫ লাখ করে ক্যান্সার রুগী বাড়া ও ২ কোটি কিডনী রোগীর এই দেশে ওষুধের দাম মানুষের হাতের নাগালের বাইরে থেকে আকাশ দূরত্বে চলে যাবে। কারণ আমাদেরকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধ উত্‌পাদনের মূল কোম্পানিকে কোন প্যাটেন্ট রয়ালিটি না দিতে হলেও ২০২৪ সালের পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দিতে হবে। এদিকে ঋণের সুদও বেড়ে যাবে। এখন যেখানে ১ শতাংশেরও কম সুদে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে ঋণ পাওয়া যায় সেটা বেড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আবার পরিশোধের এখন মেয়াদ যেখানে ৪০ বছর পর্যন্ত হয়। সেটা কমে ১০/২০ বছর হয়ে যাবে।

সমস্যায় পড়বে এনজিও খাত। গত ২৭ বছর ধরে এই খাত থেকে আমার রুটি রুজি। স্বাভাবিকভাবেই এটা আমাকে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। গত ছয় বছর আগে আমি যে শিক্ষা প্রকল্পে কাজ শুরু করেছিলাম সেই প্রকল্পে ১৩ হাজারের বেশি স্কুল ছিল। এখন আছে মাত্র ১,৯২৩টা। এগুলোরও বেশিরভাগ আগামী বছর বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ১১ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কয়েকশ শিক্ষক তত্ত্বাবধায়ক ও মাঠকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। তারা সবাই নতুন করে চাকরি পাননি। পাবেন কিনা সেটাও অনিশ্চিত। বাংলাদেশের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে মানুষ থাকে কিন্তু মানুষের কাছে সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছায় না। সেই সব জায়গায় থাকা মানুষদের জন্য এনজিওদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি হলো সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ। আবার বড় বড় শহরের মধ্যে থাকা বস্তিবাসীদের জন্যও এনজিওরা হলো সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ। এনজিওদের কার্যক্রম চলে দাতা সংস্থার অর্থায়নে। উন্নয়নশীল দেশ হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদেরকে আর দাতা সংস্থাগুলো অর্থ দেবে না। তারা তখন বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে চলে যাবে।

আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন কিন্তু উন্নত দেশভুক্ত নয়। আর আমাদেরকে একথাও ভুলে গেলেও চলবে না যে, এই সপ্তাহে কৃষকদের ১ কেজি চাল কিনতে ১০ কেজি আলু বিক্রি করতে হয়।

উন্নয়নশীল নাকি উন্নত হলো দেশ তাতে কি আসে যায় শিক্ষিত ১ কোটি বেকার মানুষের কিংবা আধাপেটে থাকা কৃষক কিংবা বস্তিবাসী কোটি মানুষের। তারা আর কিছু নয়, তারা চায় তিনবেলা পেট ভরে খেতে, অসুখে বিসুখে চিকিত্‌সা পেতে, আর কাজ করার মতো শিক্ষা ও জ্ঞান পেতে। এবং অবশ্যই কাজ পেতে চায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। বেকারত্বের জ্বালা সেই বোঝে যে বেকার। শিক্ষিত বেকারের সমস্যা আরো বেশি। তার চেয়েও বেশি সমস্যা যে আজকে চাকরি হারাল।

 

সবাই সুখী হোন।

শুভ সকাল।

#rebuildBangladesh

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s